
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী এবং রাঙামাটি পার্বত্য আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে আবার মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের দাবিতে এখনো রাঙামাটিতে আন্দোলন চলছে। তাঁর পদত্যাগের কারণ হিসেবে নানান বিষয় উঠে এসেছে আলোচনায়। তবে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) পরিষদ গঠনে বিলম্ব, বিএনপির ভেতরকার দ্বন্দ্ব এবং এক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে চাপে পড়ে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন দীপেন দেওয়ান।
মন্ত্রিত্ব পাওয়ার তিন মাস পর ১ জুন দীপেন দেওয়ান দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর তাঁর পদত্যাগ নিয়ে নানান আলোচনা শুরু হয়। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদ গঠনে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের তেমন চাপের মুখে পড়েননি তিনি। তবে সংকট শুরু হয় রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি নিয়ে।
বিএনপির রাঙামাটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীপেন দেওয়ানের ভায়রা মানস মুকুল চাকমা এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সুবাস চাকমা রাঙামাটি চেয়ারম্যান পদের জন্য জোর লবিং শুরু করেন। দীর্ঘদিন এই দুই নেতা দীপেন দেওয়ানের ঘনিষ্ঠজন। এই দুজনের অবদান অস্বীকার করা একদিকে যেমন অসম্ভব ছিল, অন্যদিকে পরিষদ চালানোর সক্ষমতাও তাঁদের ছিল না। এই কারণে তিনি তাঁদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে চাননি। তবে এ নিয়ে চাপের মুখে পড়েন তিনি। অন্যদিকে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ছিল, দীর্ঘদিন যাঁরা দলের হাল ধরে রেখেছেন, তাঁদের যেন এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়ন করা হয়। সেই হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু। কিন্তু দীপুর সঙ্গে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের সম্পর্ক আগে থেকে টানাপোড়েন ছিল।
দলীয় সূত্র জানায়, আবার অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান দীপন তালুকদার দীপুর আপন বড় ভাই কাজল তালুকদার। আবারও একই পরিবার থেকে দীপন তালুকদারকে পরিষদের চেয়ারম্যান করা হলে তা ‘পরিবারতন্ত্রকে’ সম্প্রসারণ করবে—এই আশঙ্কায় দীপেন দেওয়ান বিকল্প খুঁজতে শুরু করেন। এতে দীপন তালুকদারের রোষানলে পড়েন তিনি। এই অবস্থায় তিনি বিএনপির সহ-উপজাতিবিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ানকে চেয়ারম্যান করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি স্বীকার করে মনীষ দেওয়ান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, তাঁর নাম প্রস্তাব করায় দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
এদিকে দীপন তালুকদার দীপুর সঙ্গে বিরোধের জেরে পার্বত্য এলাকাজুড়ে বিএনপির একটি বলয় সৃষ্টি হয়। বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি বিএনপির একটি পক্ষও দীপু গ্রুপের ছায়ায় আসে। এ ছাড়া দীপন তালুকদার দীপুর সঙ্গে এই গ্রুপে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনসহ জেলা-উপজেলার বেশ কিছু নেতা। এ ছাড়া তাঁদের সঙ্গে রয়েছে এক প্রতিমন্ত্রীও। এই বিবাদের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পায় রাঙামাটির বৈসাবী উৎসবে। স্থানীয় শাহ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে অতিথি হিসেবে নিয়ে আসে দীপন তালুকদার দীপুর গ্রুপ। ওই দিন সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বান্দরবানের সাংগ্রাই উৎসবে অংশ নিতে যান। এ নিয়ে মীর হেলালের কাছে অভিযোগও করেন দীপুসহ তাঁর নেতা-কর্মীরা।
দলীয় সূত্র বলছে, দলের ভেতরের বিরোধের জেরে তিন জেলা পরিষদ গঠনের ব্যর্থতা সামনে এনে দীপেন দেওয়ানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘কান ভারী’ করে দীপন তালুকদার দীপু গ্রুপ। এতে আরও চাপে পড়েন দীপেন দেওয়া। পরে পদত্যাগে তিনি বাধ্য হন।
যদিও দীপন তালুকদার দীপু বলেন, কোন্দলের বিষয়টি সঠিক নয়। সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান নির্বাচনের আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন। দলীয়ভাবে চাপে থাকার বিষয়টিও কোনো সময় আমাদের সঙ্গে উনি শেয়ার করেননি।
তবে দীপেন দেওয়ান আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছিলেন, বিগত দিনের দুর্নাম ঘুচিয়ে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করতে চেয়েছিলেন তিনি। এই কারণে তিনি কিছুটা সময় নিচ্ছিলেন। কিন্তু পদে পদে রাজনৈতিক বাধা এবং চাপের মুখে তিনি সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম, কোনো জনগোষ্ঠী যেন বঞ্চিত না হয়। কারও সাথে যেন বৈষম্য না হয়। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের কাজ প্রায় শেষ করেছিলাম।...’
গত রোববার এ নিয়ে জানতে আবারও সাবেক এই মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নতুন কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ‘রাঙামাটির নাগরিক সমাজ’। গতকাল সোমবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, এনজিও কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন।

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর ভাঙনরোধে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে এই বাঁধ নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে হালদা থেকেই অবৈধভাবে তোলা বালু।
১ ঘণ্টা আগে
নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রায় ১২ কোটি টাকার পাঁচ প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় গত ৯ জুন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
২ ঘণ্টা আগে
১৫ জুন, বাংলা পয়লা আষাঢ়; যা আষাঢ়স্য প্রথম দিবস হিসেবেও পরিচিত। এদিনই রাজধানীতে উদ্যাপিত হবে বর্ষা উৎসব। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সংগীত, নৃত্য এবং নানা আয়োজনে মেতে উঠবে বর্ষাকে স্বাগত জানাতে।
২ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান থেকে রাস্তায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
৫ ঘণ্টা আগে