Ajker Patrika

সিরাজগঞ্জে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা, ১০ মাসে ২৬ জনের প্রাণহানি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা, ১০ মাসে ২৬ জনের প্রাণহানি

সিরাজগঞ্জে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে যানবাহন ও মানুষ। রেলওয়ে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী এসব লেভেল ক্রসিংয়ে গত ১০ মাসে ২৫ টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এতে প্রাণ গেছে ২৬ জনের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অরক্ষিত রেলগেটে গেটম্যান না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, গেটম্যান বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ নিজ থেকে সচেতন না হলে কোনোমতে থামানো যাবে না এই দুর্ঘটনা।

সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ৯৮ কিলোমিটার রেলপথ দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী ও মালবাহী প্রায় ৪০টি ট্রেন পারাপার হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম অংশ থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত রেলওয়ের লেভেল ক্রসিং রয়েছে ৪৬ টি। এর মধ্যে ৩০ টিতে কাগজে কলমে গেটম্যান থাকলেও বাকি ১৬টি নজরদারির বাইরে। সিরাজগঞ্জ অংশে অনুমোদন ছাড়া রেলগেট আছে ১০ টি। এসব স্থানে রয়েছে শুধু সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড। জিআরপি থানার তথ্যমতে, ৯৮ কিলোমিটার এই রেলপথে চলতি বছরে (জানুয়ারি-অক্টোবর) ২৫ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৬ জনের।

সায়েদাবাদ এলাকার মুলিবাড়ি রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান আশরাফুল ইসলাম বলছে, ‘ট্রেন চলাচলের সময় নির্দেশনা মানতে চায় না বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ। এ কারণে ঘটে দুর্ঘটনা। গেট নামানোর সময় ও ওঠানোর সময় নিচ দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করে অনেকে। আমাদের গালিগালাজ পর্যন্ত করে। দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে।’

গেটম্যান নেই, শুধুমাত্র সাইনবোর্ড দিয়ে চলছে রেল ক্রসিংয়ওই রেলক্রসিংয়ে পথচারী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘এখানে গেট হওয়ার আগে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু গেট দেওয়ার পর থেকে দুর্ঘটনা কমে গেছে। প্রায় সব জায়গায় গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।’

জামতৈল স্টেশন এলাকার আলী জাফর বলেন, ‘প্রায় সময় এই স্টেশন এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে গেটম্যান দরকার। মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। এতে মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।’

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার পি এম এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের জনসচেতনতা যদি একটু বেশি থাকে, জনগণ যদি সচেতন হয় তাহলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করা সম্ভব হবে না বলে আমি মনে করি।’

সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মৃধা বলেন, ‘লেভেল ক্রসিং এলাকাগুলোতে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রতিটি স্টেশনে আমরা মিটিং করি। মিটিংয়ে জনসচেতনতামূলক পরামর্শ দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। ট্রেন যখন আসে তখন যেন মানুষ ছোটাছুটি না করে। যদি কেউ পারাপার হতে চায় তাহলে যেন ডানে বামে তাকিয়ে পারাপার হয়। তাহলে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় একটি লেভেল ক্রসিংয়ে মাইক্রোবাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হন। তারা সবাই বিয়ের বরযাত্রী ছিলেন। ওই দুর্ঘটনার পর নরে চরে বসে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ। ২১টি ক্রসিং এ গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হলেও অরক্ষিত রয়ে গেছে ১৬টি লেভেল ক্রসিং। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত