Ajker Patrika

বাউফল-ঢাকা রুটে বাস সংকট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যাত্রীরা

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
বাউফল-ঢাকা রুটে বাস সংকট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যাত্রীরা
বাস সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে যাত্রীদের। ছবি: আজকের পত্রিকা

পটুয়াখালীর বাউফল-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলকারী বাস পরিবহন নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কয়েকটি পরিবহন একীভূত হয়ে ‘যৌথ দশমিনা এক্সপ্রেস’ নামে পরিচালনা শুরুর পর বাসের সংখ্যা কমে গেছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাউফল-ঢাকা রুটে মুন পরিবহন, অন্তরা পরিবহন, চেয়ারম্যান, ইসলাম, সাকুরা, বাউফল ট্রাভেলস ও কিংস পরিবহনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বাস চলাচল করত। এসব বাসে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকা ও বাউফলের মধ্যে যাতায়াত করতেন।

সম্প্রতি কয়েকটি পরিবহন একীভূত হয়ে ‘যৌথ দশমিনা এক্সপ্রেস’ নামে নতুন ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এর পর থেকেই বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ৩০ থেকে ৪০টি বাস চলাচল করছে। ফলে বাসস্ট্যান্ড ও ফেরিঘাট এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বগা ফেরিঘাট এলাকায় অপেক্ষমাণ যাত্রী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “সকাল ৯টায় এসেছি, কিন্তু দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো বাস পাইনি। আগে সহজেই গাড়ি পাওয়া যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভাড়াও বেড়ে গেছে।”

আরেক যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, “দাঁড়িয়ে যাই কিংবা বসে যাই, ভাড়া একই—৬০০ টাকা। যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টি কেউ দেখছে না।”

ঢাকাগামী যাত্রী কামরুল হাসান বলেন, “গাড়ি কম থাকার কারণে সিট পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল থেকে অপেক্ষা করেও বাসে উঠতে পারিনি। আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৫০০ টাকা, এখন ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে।”

যাত্রীদের অভিযোগ, বাস সংকটের কারণে অনেককে বাধ্য হয়ে বরিশালে গিয়ে অন্য পরিবহনে ঢাকা যেতে হচ্ছে। আবার সিট না পেয়ে কেউ কেউ টুলে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে যাত্রা করছেন।

এ বিষয়ে বগা কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী দশমিনা এক্সপ্রেসের কর্মচারী মামুন বলেন,`মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন সব বাস একটি ব্যানারের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রিপের সংখ্যাও কমানো হয়েছে। আগে যে পরিমাণ বাস চলত, বর্তমানে তার প্রায় অর্ধেক চলছে। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। মালিকরা লোকসানের কথা বলেছেন।'

অভিযোগের বিষয়ে পরিবহন মালিক মো. রেজাউল করিম বলেন, “পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি নিয়ম চালু করা হয়েছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে। আগে প্রায় ৭০টি বাস চলাচল করলেও বর্তমানে ৩৮টি বাস চলাচল করছে।”

বাসের সংখ্যা কমানো এবং ভাড়া বৃদ্ধির ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত