Ajker Patrika

এবার কুলাউড়ায় সিলিকা বালু লুট

মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৮: ৩০
এবার কুলাউড়ায় সিলিকা বালু লুট
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বড় ছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু তুলে বিক্রির জন্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ছড়া থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ সিলিকা বালু অবাধে লুট হচ্ছে। এতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, একটি স্লুইস গেট এবং সিলেট-ঢাকা রেললাইন ও সিলেট-ব্রাহ্মণবাজার সড়কের ওপর নির্মিত সেতু যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন ছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু লুট করা এবং কোনো ছড়া ইজারা না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই সিলিকা বালু লুটের অভিযোগ রয়েছে। এবার কুলাউড়াতেও অসাধু চক্র সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিভিন্ন ছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু তুলে বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে পরিবেশ ও প্রতিবেশ দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়বে বলে পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন।

কুলাউড়ার বরমচাল ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নটির বড় ছড়া থেকে সরকারিভাবে ইজারা বন্ধ থাকার পরও স্থানীয় একটি চক্র রাতে অবৈধভাবে বালু তুলে নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রানু বেগমের ছেলে রাজিব উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চক্র বড় ছড়া থেকে রাতে শ্রমিক দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছেন। ছড়া থেকে তোলা এক ট্রাক সিলিকা বালু ১৭-১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। তাঁর এই বালু বিক্রির টাকার ভাগ বিভিন্ন নেতার পকেটেও যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পিলারের গোড়া থেকে সিলিকা বালু তোলার ফলে বড় ছড়ার ওপর নির্মিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং বোরো চাষের জন্য প্রয়োজনীয় একটি স্লুইস গেট, সিলেট-ঢাকা রেললাইন ও সিলেট-ব্রাহ্মণবাজার সড়কের ওপর নির্মিত সেতু যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে রাজিব উদ্দিন বলেন, ‘অতীতে বড় ছড়া থেকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা অবাধে বালু তুলে বিক্রি করেছেন। আমি বালু তোলার সঙ্গে জড়িত না। এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমার সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তবে এটা ঠিক যে স্থানীয় অনেক লোক তাঁদের বসতবাড়ির প্রয়োজনে ছড়া থেকে বালু তুলছে।’

বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আহমদ খান সুইট বলেন, ‘আগে এই বড় ছড়া থেকে তোলা বালু একাধিকবার জব্দ করিয়েছি, কিন্তু পরে সেই বালুও লুট হয়ে গেছে। বর্তমানে রাতে স্থানীয় একটি চক্র বড় ছড়া থেকে অবাধে বালু তুলে বিক্রি করে দিচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’

কুলাউড়ায় পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে আসা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘মৌলভীবাজারে অর্ধশতাধিক ছড়া রয়েছে। এসব ছড়া ইজারা না থাকায় নিয়মিত অবৈধভাবে বালু লুট চলছে। এসব বালুমহাল নিয়মিত ইজারা দেওয়া হলে সরকার প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করতে পারত। তবে সরকার ইজারা না দিয়ে বালু লুটের সুযোগ করে দিয়েছে।’

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিছুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বড় ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার বিষয়টি স্থানীয় লোকজন আমাদের জানিয়েছে। শিগগির অভিযান চালিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত