Ajker Patrika

গাংনীতে কুকুরের কামড়ে আহত ১৭, ভ্যাকসিন নেই হাসপাতালে

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
গাংনীতে কুকুরের কামড়ে আহত ১৭, ভ্যাকসিন নেই হাসপাতালে
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফাইল ছবি

মেহেরপুর জেলার গাংনী পৌর শহরে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এদের কামড়িয়ে আহত করে কুকুরটি। কুকুরের এই তাণ্ডবে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ জনগণ ক্ষোভে কুকুরটিকে মেরে ফেলে।

মহিলা ডিগ্রি কলেজপাড়ার নুহু (৯), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মজিদ (৬৩), গাংনী উত্তরপাড়ার মাহাবুর রহমান (১২), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফারিয়া আক্তার (১২), চৌগাছা গ্রামের হাজি আব্দুল মান্নান (৭০), পশ্চিম মালসাদহ গ্রামের সাদিয়া (১৬), হারদি গ্রামের কাদব আলী (৫৬), গাংনী বাজারপাড়ার মুকুল মিয়া (৪৫), গাংনী বাগানপাড়ার হাবিবুর রহমান (২২), ধানখোলা গ্রামের রফিক (৫৫), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজুর রহমান (৬০) এবং পূর্ব মালসাদহ গ্রামের হযরত আলীসহ (৫০) ১৭ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন দিন বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এসব কুকুর মানুষকে আক্রমণ করেছে। কিন্তু একসঙ্গে এত মানুষের ওপর আক্রমণের ঘটনা খুব কমই শোনা যায়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনিকভাবে বেওয়ারিশ কুকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

কুকুরের কামড়ের আহত মাহবুবুর রহমান বলেন, গাংনী উপজেলা পরিষদ গেট এলাকা থেকে কুকুরটির আক্রমণ শুরু হয়। এরপর বাসস্ট্যান্ড, আমিন মিষ্টান্ন গলি, থানা রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে। আর সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় দিয়ে আহত করেছে। কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রেহাই পাননি। ব্যাপক হারে কুকুর বৃদ্ধি পেয়েছে।

কুকুরের কামড়ে আহত সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘কুকুরে কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি। এখানে চিকিৎসকেরা আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন নেই। এত বড় হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

ব্যবসায়ী জিনারুল ইসলাম জানান, হঠাৎ কুকুরটি অস্বাভাবিকভাবে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে এবং পথচারীদের ওপর আক্রমণ‌ শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে ছোট-বড় অন্তত ১৭ জন আহত হয়। পরিস্থিতি খারাপ দেখে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দোকান ও বাসাবাড়িতে আশ্রয় নেয়।

মো. ময়নাল হোসেন বলেন, গ্রামেও কুকুরের প্রচুর উৎপাত বেড়েছে। মুরগি ধরে খেয়ে ফেলছে। ছাগলকে কামড়াচ্ছে। বাড়িতে ছোট ছোট শিশু থাকায় চরম আতঙ্কে রয়েছি। কিছু কুকুরের অস্বাভাবিক আচরণ মনে হচ্ছে। অতি দ্রুত সরকারিভাবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামিয়া সুলতানা জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধে দ্রুত ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয় আহতদের।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. একরামুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভ্যাকসিন কিছুদিন আগে ফুরিয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন চলে আসবে। গতকাল কুকুরের কামড়ে যারা আহত হয়েছে, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রথম ডোজ তাদের কিনতে বলা হয়েছে। ভ্যাকসিন এলে তাদের পুরোপুরি চিকিৎসা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের বিষয়ে সরকারি যে বিধি রয়েছে, সেই বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত