
গাজীপুরের শ্রীপুরে নারীর ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের রঙিলা বাজার এলাকার একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীপুর থানা-পুলিশ।
নিহত মো. নুরুজ্জামান (৩৫) ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার সাইল্লাবাউলা গ্রামের মোহাম্মদ জাহের খানের ছেলে। তিনি রঙিলা বাজার এলাকায় ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পেশায় এক্সকাভেটরচালক।
জানা গেছে, এক নারী পোশাককর্মীর গোসলের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে সালিস বৈঠক ডেকে ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারীসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিহত এক্সকাভেটরচালক ও নারী পোশাককর্মী পাশাপাশি রুমে থাকতেন। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলের দিকে ওই নারী বাথরুমে গোসল করার সময় পাশের রুমে থাকা নুরুজ্জামান দেয়ালের ওপর দিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী চিৎকার করলে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। ওই নারীর তাঁদের বিষয়টি জানান। পরে ওই এক্সকাভেটরচালককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন। পরে বাসায় কেয়ারটেকার ও স্থানীয় কয়েকজন সালিস বৈঠক ডাকেন। সালিস বৈঠক চলাকালে একপর্যায়ে নুরুজ্জামানকে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে মারধর শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পর সবাই ঘর থেকে বের হয়ে যায়। ঘরের ভেতর এক্সকাভেটরচালককে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে চলে যায় সবাই। রাতে এসে অন্য ভাড়াটিয়ারা ঘরের তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে রক্তমাখা মরদেহ দেখতে পায়।’
ওই পোশাককর্মী বলেন, ‘আমি গোসল করতে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর ওয়ালের ওপর মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে গোসলখানা থেকে বের হয়ে ডাকচিৎকার দিই। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে বিষয়টি খুলে বলি। তাৎক্ষণিকভাবে লোকজন নুরুজ্জামানকে তার ঘরে আটকে ফেলে। এরপরই বাসার কেয়ারটেকারসহ অন্য লোকজন আমাদের সরিয়ে দেয়। পরে কীভাবে সে মারা গেল, কে মারল, কারা মারল এসবের কিছুই আমি জানি না।’
নিহত নুরুজ্জামানের ভাই কামাল হোসেন বলেন, ‘১৩ বছর ধরে ভাই এই এলাকায় থাকেন। আমিও গাজীপুরে থাকি। হঠাৎ করে ভাই দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছেন, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এসে দেখি ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। এখন পর্যন্ত ভাইয়ের মোবাইল ফোন পাইনি। এর সত্যতা কী, তা-ও জানি না। তিনি অপরাধ করলেই কি একেবারে শেষ করে দেবে। ভাইয়ের মাথা ও গলায় অনেক আঘাতের চিহ্ন। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। পুরো বাথরুমে রক্ত। সালিস বিচারের নামে একেবারে মেরে ফেলছে। তারা যদি না মারত, তাহলে তারা পালাল কেন?’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মাথায় মারাত্মক আঘাত ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার পরপরই কয়েকজন সালিসি বৈঠকের নামে তাঁকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। তিনি আরও জানান, যে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে, সেটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

মাভাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাগর আহমেদ বলেন, ছাত্রশিবিরের এক নেতার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ভ্রূণ হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলেও সেগুলো আড়াল করার উদ্দেশ্যে অপহরণের গল্প প্রচার করা হয়েছে।
৮ মিনিট আগে
এসআই মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে স্থানীয় মুসল্লিরা লতা ইউনিয়নের খালপাড়ে বিরিঞ্চী পদ মণ্ডলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মরদেহ শনাক্ত করে।
৪০ মিনিট আগে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি মিনি ট্রাকের সঙ্গে আরেকটি বড় ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মিনি ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মিনি ট্রাকের চালক আবু নাঈম খান ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
১ ঘণ্টা আগে
খুলনায় দিনমজুর মো. ডালিম গাজী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার একমাত্র অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন গাইন (৩৫)। মাত্র ২০০ টাকা ধারের বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১ ঘণ্টা আগে