
স্বপ্ন ছিল আদরের সন্তান একদিন নামকরা প্রকৌশলী হবে। সে আশায় সন্তানকে ভর্তি করান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। পড়াশোনা শিখে নিজের ও পরিবারের জন্য আলোকিত ভবিষ্যৎ বয়ে আনবেন এই ছিল স্বপ্ন। কিন্তু মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মীর মোজাম্মেল হোসেন নাঈমের পরিবারের।
নিয়তির নির্মম পরিহাস! সন্তানের লাশের খাটিয়া বহন করতে হয়েছে ফেনীর ফাজিলপুর সাউথ ইষ্ট ডিগ্রি কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক মোতাহের হোসেন শাহীনকে। পিতার কাঁধে চড়ে শেষ বিদায় নিলেন শিক্ষার্থী নাঈম।
আজ রোববার সকালে ফতেহপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই শায়িত হন মেধাবী শিক্ষার্থী নাঈম।
নাঈম ফতেহপুর গোলাম নবী ভুঁইয়া বাড়ির সন্তান। নাঈমরা ছিলেন তিন ভাই-বোন । গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে বনভোজনে যাওয়ার পথে দ্বিতল বাস বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এই শিক্ষার্থীর।

গতকাল শনিবার রাত আড়াইটার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছালে তাকে এক পলক দেখতে বাড়িতে ভিড় জমায় আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা। এমন মৃত্যুর জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন স্বজনরা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তাঁরা, যেন ভবিষ্যতে এমন মৃত্যু কারও না হয়।
নাঈমের বাবা মোতাহের হোসেন শাহীন বলেন, ‘আমার ছেলে মীর মোজাম্মেল হোসেন নাঈম অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও মেধাবী ছিল। দেশবাসীর কাছে আমার ছেলে জন্য দোয়া চাই। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে শহীদি মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন। আমাদের ছেলে হারানোর শোক সইবার তৌফিক দান করেন।’
নাঈমের চাচা মুফতি মোফাচ্ছের হোসেন মামুন বলেন, ‘একটা ফুলের কলি সুগন্ধ ছড়ানোর আগেই ঝরে গেল। আমরা এতটাই মর্মাহত যে তাকে হারানোর শোক সইবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি। আমার ভাই-ভাবির স্বপ্ন ছিল তাকে দেশের সেরা ইঞ্জিনিয়ার বানানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। আমার ভাতিজার মৃত্যুর জন্য দায়ী পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তাদের অবহেলার কারণে এত বড় একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
নাঈমের ফুপা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ এই খোলা তারগুলো অল্প দূরত্বে রাখার কারণে আমার ভাগনেসহ তিনজন মারা গেল। এর পুরো দায়ভার বিদ্যুৎ বিভাগকে নিতে হবে। বিদ্যুতের খোলা তারগুলি একদিনে পড়ে নাই। কয়েক দিন পর্যন্ত পড়ে আছে।’

নাঈমের সহপাঠী আব্দুল্লাহ বলেন, বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং বিশেষ গুনের অধিকারী ছিল নাঈম। তার এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
নাঈম ২০১৯ সালে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার গাজীপুরের শ্রীপুরে বনভোজনে যাওয়ার পথে দ্বিতল বাস বিদ্যুতায়িত হয়ে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। তাঁরা সবাই যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। গতকাল শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয়খালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিক্ষার্থী হলেন মো. মুস্তাকিম মাহিন (২২), মোজাম্মেল হোসেন নাঈম (২৩) ও জুবায়ের রহমান (২৩)।

যশোরের মনিরামপুরে আরিফ হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে লাশ মাছের ঘেরে ফেলে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার বালিধা এলাকার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সকালে মনিরামপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে।
৩ মিনিট আগে
নাজমুলের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। রাজধানী উত্তরার উত্তরখান হেলাল মার্কেট এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকতেন। পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন নাজমুল।
১ ঘণ্টা আগে
আজ সোমবার (২ মার্চ) সকালে গলায় প্যান্টের বেল্ট প্যাঁচানো অবস্থায় স্থানীয়রা ধানখেতে ওই শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। পুলিশ বলছে, এটি হত্যাকাণ্ড।
১ ঘণ্টা আগে
শনির আখড়ার জাপানি বাজার এলাকায় তাঁর মানিব্যাগের কারখানায় শাহ আলম কাজ করত। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জাপানি বাজারের সামনের সড়ক পার হচ্ছিল সে।
১ ঘণ্টা আগে