Ajker Patrika

অর্থ লুটে দায়ী ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়া কল্যাণকর হবে না: ইফতেখারুজ্জামান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৭: ০৬
অর্থ লুটে দায়ী ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়া কল্যাণকর হবে না: ইফতেখারুজ্জামান
রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকারের কাছে নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করে নতুন নিয়োগের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান গভর্নরের নিয়োগ উদ্যোগের মাধ্যমে যদি লুটপাটের অন্যতম দায়ী শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবার কর্তৃত্বে ফিরিয়ে আনা হয়, সেটি কোনো অবস্থায় রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হবে না। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘শাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য: টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করে টিআইবি। এ সময় দুর্নীতি প্রতিরোধ, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা, তথ্য অধিকার ও তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সাইবার ও উপাত্ত সুরক্ষা জোরদার এবং সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করাসহ ১১টি বিষয়ক সুপারিশ সরকারের কাছে তুলে ধরে সংস্থাটি। একই সঙ্গে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব উন্নয়ন কৌশল গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগ এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের দেশে ফেরার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন নিয়োগ পাওয়া গভর্নরের জোরালো স্বার্থের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নজরদারি সংস্থা হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। কাজেই এই নেতৃত্বের হাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে দেওয়াটা সামনের পাঁচ বছরের জন্য কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

টিআইবি পরিচালক আরও বলেন, এর পেছনে যদি কোনো ষড়যন্ত্র থাকে, যে কোনো বিশেষ মহলকে সুযোগ করে দেওয়া, সেটি কিন্তু আরও বেশি গুরুতর প্রশ্ন। সেই ক্ষেত্রে সরকারের উচিত হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

প্রশাসনের বিভিন্ন পদে জোরপূর্বক রদবদল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতি যদি সরকার প্রতিহত করতে না পারে, তবে এটি সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে। কারণ, সরকারের একটি ভুল পদক্ষেপ প্রতিপক্ষকে সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে।

টিআইবি ১১টি বিষয় সুপারিশ তুলে সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সুপারিশ তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, ব্যাংক খাত, বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ক্ষেত্রে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করতে হবে। ঋণ জালিয়াতি, ব্যাংক খাতের সকল প্রকার প্রতারণা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তা ও পরিচালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে গোষ্ঠী, পরিবারতন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে অপসারণ করতে হবে এবং এ জাতীয় চর্চা বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়।

জুলকারনাইন বলেন, ব্যাংক খাতের সামগ্রিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ এবং এর আদায় প্রক্রিয়ার ধীর গতি ও জটিলতা বিবেচনায় আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে স্বার্থের-দ্বন্দ্বমুক্ত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে একটি স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অর্থ পাচার বন্ধ করতে বিএফআইইউ, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন বলেন, বিগত সময়ে সংঘটিত পুঁজিবাজারের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের শান্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সঙ্গে পুঁজিবাজারকে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত করে স্বাধীন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত