Ajker Patrika

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম, ফোনে আবার হত্যার হুমকি

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ১০
তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম, ফোনে আবার হত্যার হুমকি
পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের শ্রীপুরে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে (অভিযুক্ত ব্যক্তির শ্বশুরবাড়ি) গিয়ে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর মাদকাসক্ত সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। হামলায় বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন ভুক্তভোগী নারীর মা। ঘটনার পর প্রতিবেশীর মোবাইলে ফোন করে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবার কুপিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ডুমনি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত তানিয়া আক্তার (৩৫) ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। অভিযুক্ত তালাকপ্রাপ্ত স্বামী মো. ফারুক হোসেন (৩৮) একই গ্রামের নূরু শেখের ছেলে।

ভুক্তভোগী নারীর মেয়ে বলেন, ‘জন্মের পর থেকে বাবাকে মাদক সেবন করতে দেখেছি। এ নিয়ে সংসারে সব সময় কলহ লেগে থাকত। আমাদের তিন ভাইবোনের কথা চিন্তা করে মা একসময় প্রবাসে যান। তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বাধ্য হয়ে গত বছরের ২৫ মে মা বাবাকে তালাক দেন। এরপর বাবা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মা ঘরের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বাবা চাপাতি হাতে ঘরে ঢুকে মাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি সবার দিকে চাপাতি নিয়ে তেড়ে আসেন। মাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার নানিও গুরুতর আহত হন।’

ভুক্তভোগী তানিয়ার চাচাতো বোন বিলকিস আক্তার বলেন, রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন একটি মোবাইল নম্বরে ফোন করে বলেন, কুপিয়ে তাঁর ‘শখ মেটেনি’। কোন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, ঠিকানা দিলে আবার কুপিয়ে হত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন। এমনকি ফোনে তিনি জানতে চান, ভুক্তভোগী তানিয়া এখনো বেঁচে আছেন কি না।

ভুক্তভোগী নারীর বাবা মোহাম্মদ আলী বলেন, বিয়ের পর থেকে তাঁর মেয়েকে মারধর করা হতো। জামাই মাদকাসক্ত হওয়ায় সংসারের সব টাকা নষ্ট করতেন। শনিবার তিনি চাপাতি হাতে ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। রক্ত দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁর মেয়ের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, ঘটনাটি শনিবার সকালে ঘটলেও রোববার থানাকে জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের দুটি দল পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত