Ajker Patrika

ছবির ফ্রেমে দুই প্রধান কবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ছবির ফ্রেমে দুই প্রধান কবি
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের ৬৬তম একক প্রদর্শনী ‘ফটোজিয়াম: লাইফ অব পোয়েট্রি’র আয়োজন করেছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকা। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির লা গ্যালারিতে ১৪ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

কবি শামসুর রাহমানের রাজধানীর শ্যামলীর বাসা। খাটের সামনে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ছেন কবি আল মাহমুদ। খাটে বসে তাঁকে দেখছেন শামসুর রাহমান। তাঁর হাতে একটা জিলাপি। বাংলাদেশের দুই প্রধান কবিকে এ রকমই ভিন্ন আবহে পাওয়া যাবে আলোকচিত্রশিল্পী নাসির আলী মামুনের তোলা ছবিতে। বাংলাসাহিত্যের এই দুই শক্তিমান কবিকে একসঙ্গে ফ্রেমবন্দী করেছিলেন তিনি। এ রকম কিছু আলোকচিত্র নিয়ে গতকাল আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হয়েছে ‘ফটোজিয়াম: লাইফ অব পোয়েট্রি’ শিরোনামের প্রদর্শনী।

শামসুর রাহমান ও আল মাহমুদ দুজনই বাংলা কবিতার নক্ষত্র। তবে কাব্যসাধনার একপর্যায়ে এসে দুজনের রাজনৈতিক মতাদর্শে ফারাক দেখা যায়। নাসির আলী মামুনের তোলা ছবিতে পাওয়া যায় দুজনের পথ ‘দুদিকে বেঁকে যাওয়ার’ আগের কিছু ছবি। কোনো ছবিতে তাঁরা আড্ডা দিচ্ছেন। কোনোটিতে পরস্পরের কাঁধে হাত রাখা। প্রদর্শনীতে দুজনের একক ছবিও কিছু আছে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনের শুরুতে ছিল আলোচনাপর্ব। নাসির আলী মামুন বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি আল মাহমুদ ও শামসুর রাহমানকে উদ্‌যাপন করতে। শুধু তা-ই নয়, আজ আলোকচিত্রশিল্পের ২০০ বছর পূর্তি হচ্ছে। তারও উদ্‌যাপন করছি। আলোকচিত্র সভ্যতার আয়না।’

নাসির আলী মামুন জানান, ছবি তোলার জন্য দুই কবিকে একসঙ্গে করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন তিনি। অবশেষে ২০০৪ সালের ৩১ মে শ্যামলীতে শামসুর রাহমানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় আল মাহমুদকে। সেখানেই দুজনকে একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দী করেন তিনি। নেন দুজনের সাক্ষাৎকারও।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, আল মাহমুদ ও শামসুর রাহমানের মধ্যে একজন গ্রামবাংলার মধ্যে বেড়ে উঠেছেন, আরেকজন শহরে। দুজনের জীবন গড়ে উঠেছে ভিন্নভাবে। তবে দুজনেরই কাজের বিস্তৃতি ব্যাপক।...এই দুজনকে নিয়ে একসঙ্গে ফটোগ্রাফি করা এবং তার প্রদর্শনী একটা ঐতিহাসিক কাজ।

চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, নাসির আলী মামুন হৃদয় দিয়ে ছবি তোলেন। তাঁর পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফিতে সেটি দেখা যায়। ব্যক্তির ভেতরের ব্যক্তিত্বকে তিনি তুলে আনতে পেরেছেন।

নাসির আলী মামুন দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর তোলা খ্যাতিমানদের বহু ছবি সংরক্ষণের জন্য একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন। গতকালের প্রদর্শনীতেও অতিথিসহ বিশিষ্টজনদের তা স্মরণ করিয়ে দিলেন আরেকবার। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফরাসি রাষ্ট্রদূতের কাছে আলোকচিত্রের ২০০ বছর উপলক্ষে এই আলোকচিত্র জাদুঘর করায় সহায়তার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শাম্ব্রোও বক্তব্য দেন।

নাসির আলী মামুনের এটি ৬৬তম একক প্রদর্শনী। এতে ৬০টি আলোকচিত্র ও অপ্রকাশিত ভিডিও রয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত