Ajker Patrika

পরিচয় বদলে জাহাজ মিস্ত্রি, র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
পরিচয় বদলে জাহাজ মিস্ত্রি, র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

রাজধানীর কদমতলীর টিটু হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও আয়নাবাজীকান্ডে গ্রেপ্তার সোহাগের অন্যতম সহযোগী মোহাম্মদ মামুন শেখকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে করেছে র‍্যাব। আজ বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার মেঘনাঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামুন শেখকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। 

দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য জানান র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান। 

র‍্যাব জানায়, ২০১৭ সালে টিটু হত্যা মামলায় আদালতে মামুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। আদালতের রায় প্রকাশের পর মামুন শেখ আত্মগোপনে গিয়ে নাম-পরিচয় বদলে জাহাজ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ শুরু করেন। 

র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান জানান, ২০১০ সালের ২৬ নভেম্বর কদমতলী থানার আউটার সার্কুলার রোডে নোয়াখালী পট্টিতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হুমায়ুন কবির ওরফে টিটুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আলোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিরা হলেন—মোহাম্মাদ মামুন শেখ (৩৩), সোহাগ ওরফে বড় সোহাগ (৩৪), সোহাগ ওরফে ছোট সোহাগসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন। 

মামুন শেখ টিটু হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি হিসেবে ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায়। জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে সে পলাতক ছিল। ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ওই মামলার দ্বিতীয় আসামির অনুপস্থিতিতে আদালত রায় প্রকাশ করেন। আদালত মোহাম্মাদ মামুন শেখের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। আদালতের রায় প্রকাশের পর মামুন শেখ আত্মগোপনে চলে যায়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন, মামুন নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য মুন্সিগঞ্জে ৬ মাস, যশোরে ৯ মাস, মেঘনাঘাট লাকি ডকইয়ার্ডে ৫ মাস, ধামরাইতে ৪ মাস, নবীনগরে ২ মাস, মেঘনাঘাট মদিনা ডকইয়ার্ডে ৭ মাস করে বিভিন্ন এলাকায় মিথ্যা পরিচয়ে জাহাজ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে। 

গ্রেপ্তার মামুনের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে কদমতলী থানার জুরাইন এলাকায় মামুন, হাবু, চান মিয়া ওরফে চানু, শুকুর, দিপু, স্বপন, রকি ও ইব্রা মিলে একসঙ্গে ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা করত। টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চান মিয়া ও ইব্রার সঙ্গে মামুনসহ অন্যদের বিবাদের ফলে তারা দুইটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে মামুন ও হাবুদের মাদক ব্যবসায় চান মিয়া বিভিন্নভাবে বাধা দিলে মামুন ও তার দল চান মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে চান মিয়াকে হত্যার উদ্দেশে কদমতলী থানার জুরাইন বাগানবাড়ি এলাকায় ইব্রার পাশের বাড়িতে গেলে চান মিয়াকে না পেয়ে তার ভাই ও সহযোগী ইব্রাকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। 

জিজ্ঞাসাবাদে মামুন র‍্যাবকে জানিয়েছে, মামুন পেশায় একজন জাহাজ মেরামত মিস্ত্রি। পেশার আড়ালে সে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, ডাকাতি ও কন্ট্রাক্ট কিলিংসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় দুটি হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত