Ajker Patrika

‘নিউমার্কেট জ্বইলছে, অন্যগের আঙুল ফুইলছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২২, ২২: ০৪
‘নিউমার্কেট জ্বইলছে, অন্যগের আঙুল ফুইলছে’

‘টানা কয়েক দিন বন্ধ থাকনের পর আইজগা আবার ঝড়, আমগো আর বাঁচনের উপায় থাকল না।’ শুক্রবার দুপুরে ঝড়ের ওপর রাগ ঝেড়ে জিনিসপত্র গোটাতে গোটাতে এসব বলছিলেন রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের বিক্রেতা ঝুনু মিয়া। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ঝড়ের কারণে ক্রেতাসমাগম কমে যাবে। শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ী সংঘর্ষের আতঙ্ক, তার ওপর ঝড়—ঝুনু মিয়ার আশঙ্কা সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রবল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টোটা। 

শুক্রবার নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তিন দিনের সংঘর্ষের ক্ষত এবং ঝড়-বৃষ্টি সত্ত্বেও বিপণিবিতানগুলোতে নেমেছে মানুষের ঢল। এদিন সকাল থেকেই লোকে লোকারণ্য পুরো এলাকা। দুপুরের পর ঘণ্টাখানেকের জন্য ঝড়ের কারণে ফুটপাতের কেনাকাটায় কিছুটা ভাটা পড়ে। তবে বিপণিবিতানগুলোতে এর তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। দুই দিন আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল গোটা এলাকা, ক্রেতাসমাগম দেখে সেটাও বোঝার উপায় নেই। 
 
নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা, নুরজাহান, প্রিয়াঙ্গনসহ এই এলাকার সব বিপণিবিতান খুলে দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সঙ্গে খুশি ক্রেতারাও। 

রায়েরবাজার থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা জান্নাতুল অহনা বলেন, ‘বসুন্ধরা, টোকিও স্কয়ার থেকে কেনাকাটা করা হয়। কিন্তু নিউমার্কেটে আসতে না পারলে মনে হয়, কী যেন বাকি রয়ে গেল।’ 

ক্রেতাদের অনেকেই জানান, ঈদে ঢাকার বাইরে যাবেন, তাই এই সপ্তাহান্তে সব কেনাকাটা শেষ করতে চান। এ জন্য ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন তাঁরা।

মিরপুর থেকে আসা অনামিকা পারভিন বলেন, ‘আগেই পরিকল্পনা করা ছিল, আজ নিউমার্কেটে আসব। ঈদে বাড়িতে যাব। তাই ঝড়-বৃষ্টি থাকলেও আজই সব কেনাকাটা শেষ করতে হবে।’ 

অন্যদিকে বিক্রেতাদের আফসোস, ঈদের ভরা মৌসুমে দুটো দিন বেচাকেনা করতে না পারা। নিউমার্কেটে সংঘর্ষের কারণে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাসমাগম বেড়েছে বলে জানান তাঁরা। 

ধানমন্ডি হকার্সের বিক্রেতা মোতালেব মিয়া বললেন, ‘নিউমার্কেট জ্বইলছে, অন্যগের আঙুল ফুইলছে।’ পঞ্চাশোর্ধ্ব এই ব্যবসায়ী জানান, সংঘর্ষের পর থেকে মৌচাক, মোহাম্মদপুরের বিপণিবিতানগুলোতে বিক্রি বেড়েছে। 

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিনের কথাতেও এর সত্যতা পাওয়া গেল। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা আমাদের জানাচ্ছেন, নিউমার্কেটে সংঘর্ষের পর অন্যান্য এলাকার দোকানপাটে ক্রেতাসমাগম স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। 

ব্যবসায়ীদের ধারণা, এই অবস্থা আরও কিছুদিন চলতে পারে। নিউমার্কেট সংঘর্ষের ক্ষত এবং ক্ষতি—কোনোটিই যে সহসা দূর হওয়ার নয়, তা বোঝা গেল এই এলাকার কিছু ক্রেতা-বিক্রেতার কথোপকথনে। জুতার দামদর করা এক ক্রেতাকে বিক্রয়কর্মী বলছিলেন, ‘আপু, বিশ্বাস করেন, এইটা দেড় শ টাকায় দিতে পারুম না। এর বেশি কিছু কইলে তো লোক ডাইকা আইনা মাইর খাওয়াইবেন। কইবেন খারাপ ব্যবহার করছি। গরিব অশিক্ষিত বইলা আমগোই তো সব দোষ।’ 

তরুণ এই বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে কথা বলে তাঁর দোকানের ছবি তুলতে চাইলে চোখে-মুখে আতঙ্ক নিয়ে বললেন, ‘আমগো বিপদ আর বাড়াইয়েন না। কোন ছবি নিয়া কোথায় দেবেন, হেইডা নিয়া যদি আবার ঝামেলা বাধে! আমরা আছি বিপদে।’ 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

বড় ভাইসহ ডিবি হেফাজতে থাকা সবার সসম্মানে মুক্তি চাই: কাদের সিদ্দিকী

‘গ্রেপ্তার জাসদ নেতাকে থানায় সমাদর’, ওসিসহ তিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত