Ajker Patrika

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার ১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার ১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে সায়েদ আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪। আজ রোববার বিচারক মুন্সী মশিউর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ তাঁর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলাম করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দিতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম জর্জ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনার ১৪ বছর পর দেওয়া এই রায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাঁকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়।

আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মতে হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১০ সালে রেহানা বেগমের সঙ্গে সায়েদ আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সায়েদ তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। ২০১২ সালের ২৯ জুন রেহানার মা মেয়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় পান। ওই সময় আসামিরা রেহানার মৃত্যু স্ট্রোকের কারণে হয়েছে বলে দাবি করেন এবং তড়িঘড়ি করে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করেন।

পরে রেহানার মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে তিনি ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করা হলে বেরিয়ে আসে, রেহানাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক লুৎফর রহমান আসামি সায়েদ আহমেদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১ (ক) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল গনি টিটু।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত