
ফরিদপুরে বসতবাড়িতে আগুনে পুড়ে তামিম মিয়া (১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার (২৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে তিনটি টিনের বসতঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়।
তামিম ওই এলাকার দুবাইপ্রবাসী রাফিক মিয়ার ছোট ছেলে। এ ঘটনায় প্রতিবেশীর সঙ্গে জমিসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে হত্যার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। এ ছাড়া মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে নিজের ধারণ করা একটি ভিডিও নিয়েও রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
তামিমের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়িটিতে তামিম, তার ভাই হামিম (১৮) ও তাদের মা হামেদা বেগম থাকত। তবে ঘটনার সময় তামিম একাই ছিল। তার মা হামেদা বেগম ও ভাই হামিম এ সময় এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিল। রাত ১১টার দিকে তাদের ঘরে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে পাশাপাশি আরও দুটি ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরের ভেতর আটকে পড়ে তামিম। ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তামিমকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ছেলের নির্মম মৃত্যুতে কাঁদছেন মা হামেদা বেগম। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিলেও কান্না থামছে না তাঁর। ‘ছেলেকে ফিরিয়ে দাও, ফিরিয়ে দাও’ বলে আহাজারি করছেন তিনি। এ সময় টিনের তিনটি বসতঘর আগুনে পুড়ে ভস্মিভূতের চিহ্ন পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মা হামেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ওর চাচাতো চাচাদের জমিজমা নিয়ে মামলা চলতেছে। ওরা কয়েক দিন আগে ফেসবুকে লিখেছে—আমাদের মাথা কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিবে। বিভিন্ন সময় আমাদের মেরে ফেলার ভয় দেখায়। কয়েক দিন আগেই আমার দুই ছেলেকে নিয়ে থানায় গিয়ে জিডি করে এসেছি। গতকাল আমরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে পেট্রল ঢেলে বসতঘরে আগুন দেয় তারা। আমার ছেলে ঘর থেকে বের হতে পারেনি, পুইড়্যা মইর্যা গেছে। আমার ছেলেকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের আমি শাস্তি চাই।’
এ সময় নিহত তামিমের চাচি রাহিমা বেগম বলেন, ‘ওর চিৎকার শুনে যখন বাড়ির অন্যরা ঘরের দরজা খুলতে যায়, তখন বাইর থেকে লোহার পেরেক দিয়ে শিকল লাগানো দেখা যায়। আমাদের গেটের বাইর থেকেও শিকল লাগানো ছিল। পরিকল্পনা করেই এভাবে শিকল দিয়ে ঘরের চারপাশে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগেই আনাস নামের এক বন্ধুর কাছে একটি ভিডিও পাঠায় নিহত তামিম। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ট্যাংক থেকে পাইপ দিয়ে একটি বোতলে পেট্রল ঢালা হচ্ছে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আনাস বলে, ‘রাত ১০টা ২৪ মিনিটের দিকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিওটি পাঠিয়েছিল তামিম। তখন ও আমাকে জানায়, গাড়িতে ফুল ট্যাংক করে তেল আনা হয়েছে, নামিয়ে রাখতেছি। এভাবে রাত ১০টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত ওর সঙ্গে কথা হয়। এরপর রাত ১১টার দিকে জানতে পারি, ওর ঘরে আগুন লেগেছে।’
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আগুন লাগার অনেক পরে আমাদের জানানো হয়েছিল এবং এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুন কীভাবে লেগেছে, সেটি নিয়ে অনেক মত রয়েছে। ঘরে বিদ্যুৎ ছিল—শর্টসার্কিট থেকেও হতে পারে। মোটরসাইকেলের পেট্রল থেকে আগুন লাগার বিষয়টিও বোঝা যাচ্ছে না। তবে তিনটি ঘরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে চারদিকে দাহ্যজাতীয় কিছু থাকতেও পারে। এগুলো তদন্তের বিষয় ছাড়া প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব নয়।’
এদিকে দুপুরে ওই বাড়িতে পরিদর্শনে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তারা। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কীভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে না শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

যশোর জেলার ৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। কিন্তু আক্রান্ত রোগীদের বয়স বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনের বয়স ৯ মাসের কম। অপর চারজনের বয়স এক বছরের বেশি। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের এমন
১ ঘণ্টা আগে
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ডানকান ব্রাদার্সের ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ওই এলাকার চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর এলাকা ছেড়ে পালানো অপরাধীরা ফের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তারা আশপাশের পাহাড়ে ঘাঁটি গেড়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
২ ঘণ্টা আগে
স্বপ্নের ইউরোপের আশায় লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশী সুনামগঞ্জের তরুণের সংখ্যা আরও বাড়ছে। এবার জানা গেল এই জেলার ১০ জন নয়, ১২ তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে