Ajker Patrika

নারী নৃত্যশিল্পীর আত্মহত্যা, মরদেহ দাফনে বাধা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি­
আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ১০: ৪১
নারী নৃত্যশিল্পীর আত্মহত্যা, মরদেহ দাফনে বাধা
প্রতীকী ছবি

চুয়াডাঙ্গায় সুবর্ণা আক্তার নামের এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ওই নারীর মরদেহ শহরতলির দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে এসে পৌঁছালে সেখানে দাফনকাজে বাধা দেন স্থানীয়রা। অবশেষে রাত সাড়ে ১০টায় প্রশাসনের সহযোগিতায় কবরস্থান কমিটির অনুমতি ও কবরস্থানের ন্যূনতম সদস্য ফি (৭ হাজার টাকা) দিয়ে সুবর্ণা আক্তারের মরদেহ দাফন করা হয়।

এর আগে গতকাল বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা আক্তার। সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি। আজ সকালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে তাঁকে চুয়াডাঙ্গার শহরতলির দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তাঁর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুবর্ণা ছোটকাল থেকেই নাচ-গান করতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতে যেতেন। তিনি টিকটকে অশ্লীল নাচানাচি করতেন। এমনকি তাঁর পরিবারের লোকজন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। এসব কাজে বাধা দিলে বহিরাগত লোকজন এনে এলাকাবাসীকে হুমকি দিতেন। তা ছাড়া তাঁরা এখানকার স্থানীয় নন। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সুবর্ণা আক্তারের দাফন তাঁর বাবা অথবা স্বামীর গ্রামে দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুজ্জামান নামের একজন বলেন, ‘মেয়েটির চরিত্র ভালো না। এলাকার লোকজন তাকে আমাদের কবরস্থানে দাফন দিতে আপত্তি জানিয়েছে। তার বাবা কিংবা স্বামীর বাড়িতে দাফন করুক।’

আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকাবাসীর কবরস্থান। সে আমাদের কবরস্থানের সদস্য না। এর আগে সদস্য হওয়ার জন্য বললেও তারা অগ্রাহ্য করেছিল।’

সুবর্ণা আক্তারের ভাই সুমন হোসেন বলেন, ‘এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যু হয়, তখন দাফনে বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু সুবর্ণার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় কবরস্থানের ন্যূনতম সদস্য ফি ৭ হাজার টাকা দিয়ে আমরা দাফন করেছি।’

দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার জান্নাতুল বাকী কবরস্থান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা না করিনি। এলাকাবাসীর একটি ক্ষোভ ছিল। তারা নানা রকম মন্তব্য করেছে, যেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের কবরস্থানের সদস্য না হলে এখানে দাফনের নিয়ম নেই। তারা ন্যূনতম সদস্য ফি দিয়ে এখানে দাফন করেছে। আমি নিজেই কবর খুঁড়েছি। এখানেই দাফন হয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর সামান্য ক্ষোভ ছিল, তবে বিষয়টি এখন সমাধান করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড়ে দক্ষিণপাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের (৩৫) বিয়ে হয় চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের কুলচারা ক্যানালপাড়ার কাউসারের ছেলে তুহিনের সঙ্গে। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দাম্পত্যকলহের জেরে ছয় বছর আগে স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেলকে বিয়ে করেন সুবর্ণা। সুবর্ণার পরিবারের লোকজনের দাবি, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত