
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি এলাকায় সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী এলাকায় আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু লুটকারী চক্র। নদীভাঙনে দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত এই এলাকা ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দনাইশের ধোপাছড়ি ইউনিয়নের চিরিংঘাটা পয়েন্টে কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে খননযন্ত্র (ড্রেজার) মেশিন বসিয়ে ব্যাপকভাবে বালু উত্তোলন করছে অসাধু ব্যক্তিরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, উত্তর চিরিংঘাটা জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় বসানো হয়েছে ড্রেজার মেশিন। নদীর বুক চিরে বালু তুলে পাশেই স্তূপ করা হচ্ছে, যা পরে ট্রাকযোগে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বালু উত্তোলনে নিয়োজিত শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, দিয়াকুল-চিরিংঘাটা-ধোপাছড়ি সংযোগ সড়কের উন্নয়নকাজের জন্য এই বালু সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কথা বললেও বালুর একটি বড় অংশ বাণিজ্যিকভাবে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে নাসির উদ্দীন ও মোক্তার আহমদের নাম উঠে এসেছে। বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরাই এই দুই ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে বালু উত্তোলন করছেন বলে জানান।
নদীভাঙনের জন্য অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত সাঙ্গু নদীতে এ ধরনের অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁরা মনে করছেন, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর তলদেশ গভীর হলে দুই তীরের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এমনকি যেসব জমির পাশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে, সেই জমির মালিকদের কাছ থেকেও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, একই স্থান থেকে আগেও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার জেরে সড়ক উন্নয়নকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। নতুন করে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে কৃষিজমি, বসতভিটা, এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ পুরো জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি সাঙ্গু নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তাঁর এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, সাঙ্গু নদীর যে পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করা হয়েছে, সেখানে গত বছর গভীর গর্তে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মারা যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে যেভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তাতে নদীর উভয় তীর ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা ও অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন বলেন, ‘ধোপাছড়ি-চিরিংঘাটা অংশে বালু উত্তোলনের জন্য সরকারিভাবে কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং সেখানে কোনো বালুমহালও নেই। কারা এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈদুল ফিতর সমাগত হলেও উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের মনে নেই উৎসবের আনন্দ। আছে শুধু লোকসানের হিসাব আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘশ্বাস। মাঠজুড়ে কষ্টে ফলানো আলুর ন্যায্য দাম না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। উৎপাদন খরচ যেখানে কেজিতে ১৫-১৬ টাকা, সেখানে বাজারদর নেমে এসেছে ৯-১০ টাকায়; তা-ও মিলছে না ক্রেতা।
৩ ঘণ্টা আগে
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জে এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, টাকার অভাবে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে না। কেউ সংকটে পড়লে তা প্রশমনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে বিরামপুরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
৪ ঘণ্টা আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘নদীর কোল ঘেঁষে চাঁদপুর জেলা গড়ে উঠেছে। তাই খাল খননের পাশাপাশি নদীগুলো রক্ষা করতে হবে। নদী রক্ষা না হলে নদীর পাশের জেলাগুলো বিপদে পড়বে। আর এসব নদী থেকে পরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন না করলে বসতি ভেঙে নদীতে যাবে।
৫ ঘণ্টা আগে
রাত পৌনে ১০টার দিকে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালাহউদ্দিন।
৬ ঘণ্টা আগে