
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে উপকূলীয় জনপদে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা। একসময় গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও সময়ের প্রবাহে হারিয়ে যেতে বসা এই খেলাকে ঘিরে শনিবার বিকেলে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পুরোনো বেড়িবাঁধসংলগ্ন টেকেরহাটের বিস্তীর্ণ মাঠে বসে লোক উৎসবের আয়োজন।
বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে মানুষের ঢল নামে মাঠে। আয়োজকদের হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ ও আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের চোখ তখন মাঠের দিকে, যেখানে শুরু হয় শক্তি, সাহস ও কৌশলের লড়াই।
শতাধিক বলীর অংশগ্রহণে এবারের আসর পায় ভিন্নমাত্রা। মিরসরাই ছাড়াও কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অভিজ্ঞ প্রতিযোগীরা মাঠে নামেন। তাঁদের শক্তি ও কৌশলের লড়াইয়ে দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় বাড়তি উত্তেজনা।
খেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলীখেলার টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন ‘বাঘা শরীফ’। তাঁর উপস্থিতি মাঠে বাড়তি উন্মাদনা সৃষ্টি করে।
এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাখা হয় ১০১টি পুরস্কার। ফ্রিজ, টেলিভিশন, সাইকেল, সিলিং ফ্যান, গ্যাসের চুলাসহ বিভিন্ন সামগ্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন বিজয়ীরা।
প্রতিযোগীদের মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। কুমিল্লা থেকে আসা শাহজালাল বলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই খেলায় যুক্ত। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর শিষ্যরাও অংশ নিচ্ছেন। এবারের আসরে অংশ নিয়ে পুরস্কার জিততে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা বাদশা বলী বলেন, দেশে ফিরে আবার মাঠে নামার সুযোগ তাঁকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। প্রবীণ বলী জামাল উদ্দিনও স্মৃতিচারণা করে বলেন, একসময় এই খেলাই ছিল গ্রামের প্রধান বিনোদন।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমান ও সদস্যসচিব মীর হোসেন রাহাত জানান, এটি এ পর্যন্ত বড় আয়োজনগুলোর একটি। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
খেলা দেখতে আসা দর্শনার্থী মো. কামাল উদ্দিন বলেন, এমন আয়োজন এখন খুব কম দেখা যায়। মাঠে এসে মনে হয়েছে যেন পুরোনো দিনের গ্রামীণ পরিবেশ আবার ফিরে এসেছে।

আরেক দর্শনার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বলীখেলা আমাদের ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ। প্রতিযোগীদের শক্তি আর কৌশলের লড়াই খুবই উপভোগ করেছি। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে ভালো লাগবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাসুকুল আলম সোহান, ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু নোমান, সাবেক সদস্যসচিব মনজুরুল হক মঞ্জু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন রুবেলসহ স্থানীয় নেতারা।

তিন দিন ধরে আব্দুল্লাহ নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর এলাকায় ডুবন্ত জাহাজটির পাশে একটি ডিঙি নৌকায় তাঁর ব্যবহৃত জুতা এবং জাহাজের সিঁড়িতে মোবাইল ফোন দেখতে পান স্বজনেরা।
১ মিনিট আগে
প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সাব-পিলার সংলগ্ন শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি অবৈধ পুশইনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়।
১ ঘণ্টা আগে
সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘অভিযুক্তের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশও ওই বিরোধকে তদন্তের অন্যতম বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে। তেজ বড়ুয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় বিচারের পথ সুগম হলো। আমি কঠিন শাস্তি দাবি করছি।’
১ ঘণ্টা আগে
মাভাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাগর আহমেদ বলেন, ছাত্রশিবিরের এক নেতার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ভ্রূণ হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকলেও সেগুলো আড়াল করার উদ্দেশ্যে অপহরণের গল্প প্রচার করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে