Ajker Patrika

রাউজানে গুলিতে নিহত যুবদল নেতার জানাজায় হাজারো মানুষ, এখনো মামলা হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
রাউজানে গুলিতে নিহত যুবদল নেতার জানাজায় হাজারো মানুষ, এখনো মামলা হয়নি
রাউজানে যুবদল নেতার জানাজায় অংশ নেন হাজারো মানুষ। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের রাউজানের পাহাড়তলীতে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী (মাসুদ) হত্যার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। মামলার বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মাসুদ চৌধুরী হত্যার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি, তবে প্রক্রিয়াধীন আছে।

গতকাল শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী চত্বরের আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে অস্ত্রধারীরা মাসুদকে গুলি করে হত্যা করে।

ঘটনার পরপর সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে। সেখানে দেখা যায়, পাঁচ থেকে ছয়জন অস্ত্রধারী তাঁকে লক্ষ্য করে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

নিহত মাসুদ রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাম আলী চৌধুরী বাড়ির খালেক চৌধুরীর ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে পাঁচ থেকে ছয়জন সন্ত্রাসী মাসুদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তারা খুব কাছ থেকে তাঁর কোমর, বগলের নিচে ও মাথায় ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি করে। গুলির আঘাতে মাসুদের মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকেরা পাহাড়তলী-রাউজান সড়ক দিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহত মাসুদের বড় ভাই ও বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কোনো অপরাধ নেই। কারও কোনো ক্ষতি করেনি। কেন তাকে হত্যা করা হলো। আমরা হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বালু উত্তোলনের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের কোন্দল ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকে বলছেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন। সেটাও মৃত্যুর একটি কারণ হতে পারে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। বিকেলে নিহত মাসুদের অনুসারীরা পাহাড়তলী এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কয়েক ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন নেতা-কর্মীরা।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, পুলিশের হাতে থাকা ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ছয়জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এএসপি আরও বলেন, ‘আমরা জড়িতদের শনাক্ত করেছি এবং তারা গ্রেপ্তারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।’

আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় বেতাগীর চম্পাতলী ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় মাসুদকে। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা গোলামুর রহমান আশরফ শাহ।

এদিকে মাসুদ চৌধুরীর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে এলাকায় পৌঁছালে চারদিকে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দলীয় নেতা-কর্মী, স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনেরা এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত