
দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী এখন হুমকির মুখে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধ বালু উত্তোলন ও চর কেটে নেওয়ায় নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ঝুঁকিতে পড়ছে শতাধিক বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় বালু লুট চলছে।
জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী হালদা নদীতে বালুমহাল ইজারা, বালু ও মাটি উত্তোলন এবং চর কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার নাছির মুহাম্মদ চৌধুরী ঘাটের পশ্চিম মালিপাড়া ও দাশপাড়া অংশ, পূর্ব সুয়াবিল, সুন্দরপুরের হারিঘাটার দক্ষিণ অংশ, পাইন্দং, ভুজপুর রাবার ড্যাম, নারায়ণহাট কুল্লালপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধে চলছে এক্সকাভেটরের সাহায্যে চরের মাটি কাটা। কিছু অংশে নদীতে নৌকা ও ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুয়াবিল ইউনিয়ন যুবদল নেতা আব্দুর রশিদ, যিনি এলাকায় ‘বালু রশিদ’ নামে পরিচিত, তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব সুয়াবিলের কয়েকটি পয়েন্ট থেকে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে ৪-৫টি নৌকা দিয়ে শ্রমিক লাগিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পরে এসব বালু ট্রাকে করে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। রশিদকে শেল্টার দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি, দুটি পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করি। চুরি-ডাকাতির সুযোগ নেই বলে শ্রমিক দিয়ে এই কাজ করছি। তবে হালদা নদী থেকে বালু তোলা ঠিক নয়, এটা সত্য।’
সরেজমিনে দেখা যায়, নাজিরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মালি ও দাশপাড়ার অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি পয়েন্টে চর কেটে মাটি ট্রাকে করে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি নদীর এ অংশে চর কাটার জন্য আনা হয়েছে বিশালাকার এক্সকাভেটরও (খননযন্ত্র)। এ ছাড়া পূর্ব সুয়াবিলের ভিন্ন অংশে (সুয়াবিল আব্দুল করিম উচ্চবিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে) দিনদুপুরে নৌকায় শ্রমিক লাগিয়ে অনবরত বালু উত্তোলনের ফলে বসতভিটা, ফসলি জমি এবং বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এমনিতেই হালদা নদীসংলগ্ন সুয়াবিল ও সুন্দরপুরের কয়েকটি গ্রাম প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যায়। এর মধ্যেও থামছে না চর কাটা ও বালু উত্তোলন।
চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চর কাটা ও বালু উত্তোলনের ফলে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে, তলদেশে পলি জমে গভীরতা কমে যায় এবং পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে পানির গুণগত মানের অবনতি, দূষণ বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি ঘটে। মাছের প্রজননস্থল ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, হালদা নদীর বিষয়ে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর ভাঙনরোধে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে এই বাঁধ নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে হালদা থেকেই অবৈধভাবে তোলা বালু।
৫ ঘণ্টা আগে
নাটোরের গুরুদাসপুরে প্রায় ১২ কোটি টাকার পাঁচ প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় গত ৯ জুন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
৫ ঘণ্টা আগে
১৫ জুন, বাংলা পয়লা আষাঢ়; যা আষাঢ়স্য প্রথম দিবস হিসেবেও পরিচিত। এদিনই রাজধানীতে উদ্যাপিত হবে বর্ষা উৎসব। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সংগীত, নৃত্য এবং নানা আয়োজনে মেতে উঠবে বর্ষাকে স্বাগত জানাতে।
৫ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান থেকে রাস্তায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
৮ ঘণ্টা আগে