Ajker Patrika

রাতভর উত্তাল চট্টগ্রাম: পুলিশের পোশাক পরিয়ে সরানো হয় ধর্ষণে অভিযুক্তকে, রাখা হয়েছে কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ১৩: ৪৯
রাতভর উত্তাল চট্টগ্রাম: পুলিশের পোশাক পরিয়ে সরানো হয় ধর্ষণে অভিযুক্তকে, রাখা হয়েছে কোথায়?
চট্টগ্রামে পুলিশের গাড়িতে আগুন। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত যুবককে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত চেয়ারম্যানঘাটা, কল্পলোক আবাসিক এলাকার মূল সড়কসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় সড়ক অবরোধ, পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়া, পুলিশের ট্রাকে আগুন, বিভিন্ন যানবাহন ও প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চার বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়, সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

অভিযুক্ত মো. মনির স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী। স্থানীয়দের দাবি, তিনি তাঁদের কাছে ঘটনার কথা স্বীকারও করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় একটি গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকাবাসী ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখে, যেখানে অভিযুক্ত অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ভবনের কলাপসিবল গেট ভাঙারও চেষ্টা চালায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠায়। এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। স্থানীয়রা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেললে রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

পরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। বিক্ষুব্ধ লোকজন গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। বিভিন্ন অলিগলি থেকে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। রাত ১১টার দিকে পুলিশ সদস্য বহনকারী একটি ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়।

সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত হন চট্টগ্রাম প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান এবং চ্যানেল ২৪-এর রিপোর্টার আরিফুল ইসলাম তামিম। আহতদের প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতেখার বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হামলার শিকার হওয়া দুঃখজনক। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ১১টার পর এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ওই সুযোগে অভিযুক্তকে ভবন থেকে বের করে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে তাঁকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তকে রাতে সিএমপি সদর দপ্তর দামপাড়ায় রাখা হয়। তাঁকে শুক্রবার চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে সুনির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘অভিযুক্তকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আদালতে হাজির করা হবে।’

এদিকে রাত ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ জনতার একটি দল থানা ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে মূল সড়কে জড়ো হয়। কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালানো ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

অন্যদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন কয়েকজন সাংবাদিক। আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল কাইয়ুমকে একটি কমিউনিটি সেন্টারের ছাদে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সহকর্মী ও পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘আত্মরক্ষার্থে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সুযোগে অভিযুক্তকে নিরাপদে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত