
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীনগর বালুমহাল ইজারা নিয়ে শুরু থেকেই উঠেছে নানা প্রশ্ন। প্রথম দফায় ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকার দরপত্র বাতিল হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় একই প্রতিষ্ঠানের দর নেমে আসে মাত্র ৩ কোটি ২০ লাখে, যা নিয়ে সৃষ্টি হয় তীব্র বিতর্ক। পরে তৃতীয় দফায় সংশোধিত দরপত্র আহ্বানের মধ্যেও স্বচ্ছতা নিয়ে রয়ে গেছে সন্দেহ। অভিযোগ উঠেছে, দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ইজারা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, পাশাপাশি ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ ঠেকাতে প্রভাব খাটানোরও কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৬ মার্চ প্রথম দফার দরপত্র আহ্বানে মেসার্স সাজেদা এন্টারপ্রাইজ সর্বোচ্চ ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দর দাখিল করে। সরকার-নির্ধারিত মূল্য ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বিপরীতে এটি ছিল কয়েক গুণ বেশি আয়। কিন্তু আয়কর রিটার্ন ও ব্যাংক সলভেন্সির মতো সাধারণ কিছু কাগজপত্রের ঘাটতি দেখিয়ে এই বিপুল অঙ্কের প্রস্তাবটি বাতিল করে দেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, প্রতি দফায় দরপত্রে সরকারি নিয়ম অনুসারে পত্রিকায় ব্যাপক আকারে সময় দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের নিয়ম থাকলেও একটি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে কর্তৃপক্ষও সেই নিয়মের তোয়াক্কা করছে না।
ঠিকাদারদের দাবি, সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী জনস্বার্থে এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাকে নথিপত্র সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও এখানে তা করা হয়নি।
৩১ মার্চ দ্বিতীয় দফার দরপত্র জমা নেওয়া হয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে এই দফায় দরপত্রের ব্যাপক পতন ঘটে। যে সাজেদা এন্টারপ্রাইজ প্রথমবার ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল, দ্বিতীয়বার তারা দর দেয় মাত্র ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, দ্বিতীয় দফায় কোনো ত্রুটি না থাকার সত্ত্বেও বালুমহাল কমিটি এবার ‘বাজার মূল্য’ বিবেচনায় খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে পুনরায় দরপত্র বাতিল করে এবং ৯ এপ্রিল তৃতীয় দফায় (সংশোধিত) আহ্বান জানায়। একের পর এক দরপত্র বাতিল করার এই প্রক্রিয়াকে স্থানীয়রা ‘প্রশাসনিক নাটক’ বলে অভিহিত করছেন।
অভিযোগ উঠেছে, পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেট। তারা অন্য দরদাতাদের দরপত্র দাখিলে সরাসরি বাধা দিচ্ছে এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে মাঠ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। গুঞ্জন ছড়িয়েছে, ওই প্রভাবশালী মহলটি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, ঠিকাদারদের প্রায় দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করেছে। লক্ষ্য একটাই—সরকারকে কম রাজস্ব দিয়ে নামমাত্র মূল্যে এই বিশাল বালুমহালটি মেসার্স সাজেদা এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্ষুদ্র ঠিকাদার জানান, বালুমহাল ইজারা এখন সাধারণ ব্যবসায়ীদের হাতের বাইরে চলে গেছে। প্রভাবশালীরা দরপত্র জমা দিতে দিচ্ছে না। এমনকি ডিসি অফিসের আশপাশেও তাদের লোকজন পাহারা দিচ্ছে।
বালুমহাল ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, সিন্ডিকেট এবং বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেসার্স সাজেদা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের কারণেই দ্বিতীয় দফায় দর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। সিন্ডিকেট করে অন্য ঠিকাদারদের দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন রাসেল। তিনি বলেন, ‘আমি কিংবা আমার কোনো লোক কাউকে বাধা প্রদান করেনি।’
স্থানীয় প্রশাসন ও একাধিক ঠিকাদারকে দেড় কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে বালুমহাল দখলের চেষ্টার যে অভিযোগ উঠেছে, তাকেও সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে আখ্যা দেন রাসেল আহম্মেদ।
প্রথম দফায় তিনটি দরপত্র জমা পড়লেও সেগুলো কেন বাতিল করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা বালুমহাল কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, ‘কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় সেগুলো অযোগ্য বিবেচিত হয়েছে।’ ছোটখাটো ত্রুটি থাকার সত্ত্বেও কেন সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলো না—সেই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বালুমহাল কমিটি ভালো দাম (বেটার প্রাইস) পাওয়ার স্বার্থে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখে।’
অন্য ঠিকাদারদের দরপত্র জমায় বাধা দেওয়া এবং সিন্ডিকেটের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে ডিসি বলেন, ‘দরপত্র জমা দেওয়ার সময় ঠিকাদারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। সিন্ডিকেটের প্রভাব বা কাউকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইজারা প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার যে গুঞ্জন উঠেছে, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আবু ছালেহ। তিনি বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সার্বিক বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের ফুটপাত ফের হকারদের দখলে। সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে কিছুটা স্বস্তি মিললেও ফের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসিয়েছেন হকারেরা। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, মো. আব্দুর রশিদ নামের এক হকার ফুটপাতে পোশাক বিক্রি করছেন।
১ ঘণ্টা আগে
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা এ হাসপাতালটি নানা সংকটে যেন নিজেই ‘অসুখে’ ধুঁকছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে চিকিৎসক, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা তলানিতে পৌঁছে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার...
১ ঘণ্টা আগে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে আদমপুর বাজার সড়কের প্রস্থ ১৮ ফুট থাকলেও একই সড়কের ওপর নির্মিত সেতু ও কালভার্টের প্রস্থ মাত্র ১০ ফুট। সড়কের তুলনায় সেতু ও কালভার্টের প্রস্থ কম হওয়ায় যানবাহন চলাচলের সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক যখন বড় করা হয়েছে তখন পুরোনো সেতুগুলো...
১ ঘণ্টা আগে
আড়াই বিঘা জমিজুড়ে মরিচখেত। প্রথম দেখলে খানিকটা ভড়কে যেতেই হয়। কারণ, প্রতিটি গাছে ঝুলছে ১২-১৬ ইঞ্চি লম্বা মরিচ। ভার রক্ষায় প্রতিটি গাছেই দেওয়া হয়েছে ছোট ছোট খুঁটি। এমন মরিচখেত দেখা গেল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের হায়েতখারচালা গ্রামে।
২ ঘণ্টা আগে