
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এক বৃদ্ধ অরুণ মিয়াকে (৭০) হত্যার অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁকে হত্যার পর মরদেহ নয় টুকরা করে পলিথিনে পেঁচিয়ে পাশের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী মোমেনা বেগমের প্রাথমিক জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিহতের প্রথম স্ত্রীর ছেলে লুৎফুর রহমান রুবেল বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী মোমেনা বেগম, তাঁর মেয়ে লাকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার আদালতের মাধ্যমে মোমেনা ও তাঁর মেয়ে লাকীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন অরুণ মিয়া। তাঁর বাবার নাম সুরুজ বেপারী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের ফরদাবাদ গ্রামের মধ্যপাড়ার অরুণ মিয়ার প্রথম স্ত্রী মৃত্যুর পর ৩৫ বছর আগে। এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেন একই গ্রামের মোমেনা বেগমকে। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ বেড়ে আকার ধারণ করে।
গত শুক্রবার বিকেল থেকে অরুণ মিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। গত সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তাঁর প্রথম স্ত্রীর সন্তান লুৎফুর রহমান রুবেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অরুণ মিয়ার পার্শ্ববর্তী বাড়ির সৌদিপ্রবাসী মনির মিয়ার সেপটিক ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেপটিক ট্যাংকের পানি সেচে ইট দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় নয়টি পলিথিন উদ্ধার করে। পলিথিন খুলে লাশের ৯ টুকরা পাওয়া যায়। সেগুলো অরুণ মিয়ার লাশ বলে তাঁর ছেলে শনাক্ত করেন।
প্রতিবেশী কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘গত শুক্রবার অরুণ মিয়া মসজিদে নামাজ পড়েছে। তারপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। তার বউ আমাদের বলেছে শুক্রবার সকালে সে ঢাকা গেছে। তখনই আমাদের মনে সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমরা মনিরের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে দুর্গন্ধ পাই। খবর পেয়ে পুলিশ লাশের ৯ টুকরো পলিথিনে মোড়ানো উদ্ধার করে। এইগুলো খুলে লাশ শনাক্ত করে তার ছেলে।’
অরুণ মিয়ার প্রথম স্ত্রীর সন্তান লুৎফুর রহমান রুবেল বলেন, ‘আমার বাবাকে ছোট মা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমার আপন মা মারা গেছে ৩৫ বছর আগে। আমার বাবা ২০১৭ সাল থেকে টানা আমার কাছে ছিল। কয়েক মাস আগে আমার প্রতিবেশী চাচারা বিষয়টি মিটমাট করে দিলে ছোট মায়ের সঙ্গে বাবা থাকা শুরু করে। কয়েক দিন যাবৎ ফোনে বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাচ্ছি না। বাবাকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে গত রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাঞ্ছারামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। প্রবাসী মনির মিয়ার বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ৯ টুকরো ইট দিয়ে মোড়ানো পলিথিন ব্যাগ উদ্ধার করে। পরে এগুলো খুললে আমার বাবার লাশ শনাক্ত করি।’
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন কুমার পাল জানান, প্রাথমিক জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন স্ত্রী মোমেনা। পারিবারিক কলহের জেরে তাঁকে মাথায় আঘাত করলে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। পরে মোমেনা চাপাতি দিয়ে লাশ টুকরো টুকরো করে ৯টি পলিথিনে বেঁধে পার্শ্ববর্তী সৌদিপ্রবাসী মনির মিয়ার সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।
পরিদর্শক আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা মোমেনা ছাড়াও এই হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। এই ঘটনায় অরুণ মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে লাকিকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। বুধবার আদালতের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে তাঁদের পাঠানো হয়েছে।’

নাজমুলের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। রাজধানী উত্তরার উত্তরখান হেলাল মার্কেট এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকতেন। পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন নাজমুল।
১ ঘণ্টা আগে
আজ সোমবার (২ মার্চ) সকালে গলায় প্যান্টের বেল্ট প্যাঁচানো অবস্থায় স্থানীয়রা ধানখেতে ওই শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। পুলিশ বলছে, এটি হত্যাকাণ্ড।
১ ঘণ্টা আগে
শনির আখড়ার জাপানি বাজার এলাকায় তাঁর মানিব্যাগের কারখানায় শাহ আলম কাজ করত। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জাপানি বাজারের সামনের সড়ক পার হচ্ছিল সে।
১ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালে মোটরসাইকেলে সাবেদ ও সামির ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। উমপাড়া এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা লোহার রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাবেদের মৃত্যু হয়।
১ ঘণ্টা আগে