Ajker Patrika

বাগেরহাট দুর্ঘটনা: নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন

বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাট দুর্ঘটনা: নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন
মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে নিহত আব্দুর রাজ্জাকসহ তাঁর পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুর রাজ্জাকসহ তাঁর পরিবারের ৯ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার বাদ জুমা মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হয়। অন্যদিকে নিহত কনেপক্ষের চারজন ও মাইক্রোবাসের চালকের জানাজা শেষে নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।

আব্দুর রাজ্জাক পরিবারের জানাজায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, নিহতদের স্বজনেরাসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। কানায় কানায় ভরে যায় উপজেলা পরিষদ মাঠ। জানাজায় ইমামতি করেন মোংলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন। পরে মোংলা কবরস্থানে পাশাপাশি ৯ জনকে দাফন করা হয়।

এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত কনেপক্ষের চারজনের জানাজা কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে এবং মাইক্রোচালকের জানাজা রামপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হয়।

জানাজার আগমুহূর্তে পরিবারের নিহত সদস্যদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন স্ত্রী, সন্তান, বাবা, ভাই ও বোন হারানো নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আশরাফুল আলম জনি। জনির আকুতিতে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।

জনি বলেন, ‘আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন, ভাগনে সবই হারিয়েছি। আমার বাবা রাজনীতি করতেন, ভাইরা ব্যবসা করতেন, কারও যদি কোনো দেনা-পাওনা থাকে জানাবেন, আমরা পরিশোধ করব।’ আর সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন স্বজনহারা জনি।

জানাজাপূর্ব বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনিসহ নিহত সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।’

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, ‘যে বাড়িতে আজ আনন্দের ফল্গুধারা থাকার কথা, সেখানে আজ বিষাদের কালো ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হন। বর-কনেসহ ১৪ জনের লাশ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গতকাল দিবাগত রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতরা হলেন বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তাঁর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাঁদের ছেলে আলিফ, আরফা ও ইরাম। কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম।

মাইক্রোবাসের চালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামের। আজ জুমার নামাজের আগে গ্রামের বাড়িতে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

বর সাব্বিরের মোংলা শহরে মোবাইলের দোকান ছিল। কনে মিতু কয়রার নকশা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নদীর পাড়ে পড়ে ছিল অজ্ঞাতনামা যুবকের গলাকাটা ও মাথাবিহীন লাশ

অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

ভৈরবে ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাসহ আটক দুই স্বর্ণকার, ২১ ঘণ্টা পর মুক্ত

চট্টগ্রামে ৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা

ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের প্রশ্নই ওঠে না: শিক্ষামন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত