Ajker Patrika

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

৬০ কোটি চেয়ে পেল ৮ কোটি

  • প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধের বরাদ্দ যৎসামান্য।
  • ফলে সরবরাহের কয়েক মাসের মাথায় ওষুধ ফুরিয়ে যায়।
  • চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়।
­যশোর প্রতিনিধি
৬০ কোটি চেয়ে পেল ৮ কোটি
ছবি: সংগৃহীত

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দীর্ঘদিনের। চলতি অর্থবছরে এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় নেই বহু জরুরি ওষুধ। গত অর্থবছরে ওষুধ ও কেমিক্যাল কেনায় প্রায় ৬০ কোটি টাকার চাহিদা দেওয়া হলেও বরাদ্দ মিলেছে মাত্র ৮ কোটি ২৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

গত অর্থবছরে মোট চাহিদা ছিল ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকার। এর মধ্যে বহির্বিভাগের ফার্মেসিতে চাহিদা ছিল ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫৭৫ টাকার। আন্তবিভাগের ১৯ ওয়ার্ডে চাহিদা ছিল ৪২ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার ৪৭৫ টাকা। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানটি ৮ কোটি ২৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকার ওষুধ কেনে। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দের পরিমাণ যৎসামান্য। ফলে কয়েক মাসের মাথায় ওষুধ ফুরিয়ে যায়।

যশোরসহ নড়াইল, ঝিনাইদহ ও মাগুরার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নেয়। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকে সাড়ে ৪০০-৫০০ জন। বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নেয় আরও হাজারো রোগী। সরকারিভাবে এই হাসপাতালে মোট ১১২ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল থেকে আসে ৮২ প্রকার ওষুধ। অবশিষ্ট ৩০টি কেনা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় অর্থে টেন্ডারের মাধ্যমে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, গত কয়েক অর্থবছরে চাহিদার তুলনায় খুবই কম অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আবার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে রোগীদের বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ ওষুধ। বাকি ৯৭ শতাংশই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার বরাদ্দ দিয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যে কারণে ওষুধসামগ্রীর সংকট লেগে থাকে। এক্স-রে ফিল্ম ও প্যাথলজি পরীক্ষার রি-এজেন্ট কেনার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সামাল দেওয়া খুবই কষ্টকর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাদের কাছে অন্তত ৩০ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ও ইনজেকশন নেই। ফলে বেশির ভাগ রোগীকেই বাইরের ফার্মেসির দ্বারস্থ হতে হয়। হাসপাতালের সার্জারি, মেডিসিন, হৃদ্‌রোগ, গাইনি, অর্থোপেডিকস, শিশু ও লেবার ওয়ার্ডের একাধিক রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, বেশির ভাগ ওষুধ ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র বাইরে থেকে কিনতে হয়।

যশোর সদর উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁর বাবা ইউনুস সরদারকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর ওয়ার্ড থেকে বিনা মূল্যে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। সবই বাইরের ফার্মেসি থেকে নিতে হয়েছে।

একই চিত্র করোনারি কেয়ার ইউনিটেও। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের নাভির ইনজেকশন কার্ডিনেক্স বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে জরুরি মুহূর্তেও রোগীর স্বজনদের ছুটতে হচ্ছে বাইরের ফার্মেসিতে।

হাসপাতালের স্টোরকিপার গৌতম কুমার বলেন, প্রতি অর্থবছরে ইডিসিএল থেকে ৮২ প্রকারের ওষুধ সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। তা-ও চাহিদার মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ। আর দরপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় ৩০ ধরনের ওষুধ কেমিক্যাল কেনা হয়। টেন্ডারে কেনা ওষুধসামগ্রী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় সব সময় বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

হাসপাতালের হিসাবরক্ষক ইসরাফিল হোসেন বলেন, এত সামান্য পরিমাণ বরাদ্দের টাকায় কেনা ওষুধ দিয়ে রোগীদের মন জয় করা কখনো সম্ভব হবে না। সরকারের সরবরাহ করা ওষুধ দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হলে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও-এসি ল্যান্ড বদলি

কিশোরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে উপসাগরীয় মিত্রদের সৌদির ‘গোপন বার্তা’

মার্কিন বাহিনীতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: কংগ্রেসকে পেন্টাগন

ভুলবশত ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে কুয়েত: মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত