১৯৪৭ সালের ৩০ জুন দৈনিক আজাদে ছাপা হওয়া ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে আবদুল হক লিখেছিলেন, ‘পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রচলিত ভাষা পাঁচটি। বেলুচি, পশতু, সিন্ধি, পাঞ্জাবি ও বাংলা। পশ্চিম পাকিস্তানে উর্দু ভাষা নেই, তা নয়, বাংলাও আছে। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের তো নয়ই, পশ্চিম পাকিস্তানেরও কোনো প্রদেশের মাতৃভাষা উর্দু নয়।...ভারতের বা পাকিস্তানের যেকোনো সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা করলে প্রমাণিত হয় ভারতের, তথা পাকিস্তানের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষা হচ্ছে বাংলা। অতএব, পাকিস্তানের, কেবল পূর্ব পাকিস্তানের নয়, পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পাকিস্তানকে নিয়ে সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবার যোগ্যতা সবচেয়ে বেশি বাংলা ভাষার।’
সে বছরের ২৭ জুলাই দৈনিক ইত্তেহাদে ছাপা হয় আবদুল হকের ‘উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে’ শিরোনামে লেখা প্রবন্ধটি। তাতে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ‘পাকিস্তানের আট কোটি লোকের পাঁচ কোটি লোকে কথা বলে বাংলা ভাষায়। পাকিস্তানের সর্বাপেক্ষা বর্ধিষ্ণু, প্রগতিশীল এবং উন্নত ভাষা হচ্ছে বাংলা। অতএব আমাদের রাষ্ট্রভাষা যে বাংলা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না, সে বিষয়ে কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না।’
ছবি: সংগৃহীত

স্মৃতিচারণা করে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে তখন দুটো-আড়াইটা হবে। ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজ এবং পরিষদ ভবনসংলগ্ন এলাকা তখন ধোঁয়াচ্ছন্ন রণক্ষেত্র। মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ১নং রুম কন্ট্রোল রুমে পরিণত হয়। মাওলানা তর্কবাগীশ, ধীরেন দত্ত, শামসুদ্দীন ও কংগ্রেস পার্টির সদস্যরা পরিষদ বয়কট...
২ দিন আগে
সাঈদ হায়দার স্মৃতিচারণা করেছেন এভাবে: ‘দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো, সংঘর্ষের তীব্রতা কমল না। প্রতিবাদমুখর ছাত্র-জনতাকে পুলিশ লাঠি চালিয়ে শান্ত করতে পারল না। তারা গুলি চালালো, গুলি চালালো মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের সামনের রাস্তায়। জব্বার আর রফিক প্রাণ হারালো।
৪ দিন আগে
মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী এবং একুশের প্রথম সংকলনের প্রকাশক। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যেকোনো মূল্যে ১৪৪ ধারা ভাঙতে হবে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা রাত ১টায় ফজলুল হক হল ও ঢাকা হলের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে এক বৈঠকে মিলিত হই।
৯ দিন আগে
২১ ফেব্রুয়ারির আগে-পরের বছরগুলোজুড়ে নানা কিছু ঘটছিল। এখন এসে দিনগুলোতে ফিরে গেলে শিহরণ বোধ করি, বাংলা ভাষা নিয়ে এখন কিছু হতে দেখলে সেসব দিনে ফিরে যাই। তেমনই একটা হলো ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ সমাবর্তন সভা। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহ ঘোষণা দিলেন—ঢাকাতেই, উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।
১০ দিন আগে