
সালটা ১৯৬৭। তখন পুরোদমে চলছে ভিয়েতনাম যুদ্ধ। এক বছর আগে ১৯৬৫ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনামের পক্ষে যুদ্ধে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরই জেরে ১৯৬৭ সালে কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মাদ আলীকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বলে তৎকালীন ফেডারেল সরকার। স্পষ্ট ভাষায় যা নাকচ করে দেন তিনি। তারিখটা ছিল ২৮ এপ্রিল। তাঁর এই সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, ওই সময় গোটা বিশ্বেই আলোড়ন তোলে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে পাঠানোর মতো রিজার্ভ সেনা যুক্তরাষ্ট্রের ছিল না। তাই, ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী সুস্থ পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয়। এর আওতায় ১৯৬৬ সালে মোহাম্মদ আলীকে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয় এবং ১৯৬৭ সালের ২৮ এপ্রিল তাঁকে টেক্সাসের হিউসটনে সেনা দপ্তরে এ বিষয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়। সেদিনই তিনি যুদ্ধে যোগদানের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সাফ জানিয়ে দেন তিনি যুদ্ধে যাবেন না। মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ভিয়েতনামিদের সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। ওরা আমাকে নিগ্রো বলে ডাকেনি কখনো। আমি কেন ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব? তা ছাড়া আমার ধর্মেও নির্দোষ মানুষকে হত্যার ব্যাপারে বিধিনিষেধ রয়েছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন মোহাম্মাদ আলী। এর আগে তাঁর নাম ছিল ক্যাসিয়াস ক্লে।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিকতাকেই যুদ্ধে যোগ না দেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আলীর মতে, নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্যের শিকার হওয়ার পর দেশের বাইরের যুদ্ধে যাওয়ার কোনো নৈতিক বাধ্যবাধকতা তাঁর নেই।
আলীর এই সিদ্ধান্তে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। কেউ কেউ আলীর অবস্থানের প্রশংসা করেন, আবার কেউ কেউ তাঁকে আখ্যায়িত করেন বিশ্বাসঘাতক। তাঁকে বক্সিং রিংয়ে নিষিদ্ধ করা হয়, কেড়ে নেওয়া হয় অর্জিত শিরোপা। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনে ফেডারেল সরকারের বিচার বিভাগ।
রাষ্ট্রদ্রোহ বলতে সাধারণত বোঝায়, সরাসরি দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, কিন্তু আলীর ক্ষেত্রে মূলত অভিযোগ ছিল ‘সরকারি আদেশ অমান্য করে সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া’—যা তখনকার সময় গুরুতর ফেডারেল অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো। আলীর বিচার হয় টেক্সাসের হিউস্টন ফেডারেল আদালতে। এ মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়।
যদিও আপিলের মাধ্যমে কারাভোগ এড়াতে পেরেছেন মোহাম্মাদ আলী। কিন্তু ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়ে প্রায় চার বছরের জন্য বক্সিংয়ে নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি। অবশেষে, ১৯৭১ সালের ২৮ জুন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকেরা সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর দণ্ড বাতিল করেন। রায়ে আদালত বলেন, আলীর ধর্মীয় বিশ্বাস সামরিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অস্বীকৃতির ন্যায্য ভিত্তি দেয় এবং তাঁর ওপর জারি করা সাজা অবৈধ।
পরে, আবার বক্সিং রিংয়ে ফিরে আসেন মোহাম্মদ আলী। তবে, খুব বেশি দিন আর বক্সিং চালিয়ে যেতে পারেননি। মাত্র ১৩ বছর পর ১৯৮৪ সালে পারকিনসনস ডিজিজে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৩ জুন মারা যান তিনি।
পারকিনসনস ডিজিজ হলো একটি স্নায়বিক রোগ যা মূলত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশের ক্ষতি এবং ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারের অভাবে সৃষ্টি করে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন, বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে এবং সমন্বয়ে সমস্যা হয়, একপর্যায়ে শরীরের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

স্মৃতিচারণা করে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে তখন দুটো-আড়াইটা হবে। ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজ এবং পরিষদ ভবনসংলগ্ন এলাকা তখন ধোঁয়াচ্ছন্ন রণক্ষেত্র। মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ১নং রুম কন্ট্রোল রুমে পরিণত হয়। মাওলানা তর্কবাগীশ, ধীরেন দত্ত, শামসুদ্দীন ও কংগ্রেস পার্টির সদস্যরা পরিষদ বয়কট...
২ দিন আগে
সাঈদ হায়দার স্মৃতিচারণা করেছেন এভাবে: ‘দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো, সংঘর্ষের তীব্রতা কমল না। প্রতিবাদমুখর ছাত্র-জনতাকে পুলিশ লাঠি চালিয়ে শান্ত করতে পারল না। তারা গুলি চালালো, গুলি চালালো মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের সামনের রাস্তায়। জব্বার আর রফিক প্রাণ হারালো।
৪ দিন আগে
মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী এবং একুশের প্রথম সংকলনের প্রকাশক। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যেকোনো মূল্যে ১৪৪ ধারা ভাঙতে হবে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা রাত ১টায় ফজলুল হক হল ও ঢাকা হলের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে এক বৈঠকে মিলিত হই।
৯ দিন আগে
২১ ফেব্রুয়ারির আগে-পরের বছরগুলোজুড়ে নানা কিছু ঘটছিল। এখন এসে দিনগুলোতে ফিরে গেলে শিহরণ বোধ করি, বাংলা ভাষা নিয়ে এখন কিছু হতে দেখলে সেসব দিনে ফিরে যাই। তেমনই একটা হলো ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ সমাবর্তন সভা। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহ ঘোষণা দিলেন—ঢাকাতেই, উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।
১০ দিন আগে