Ajker Patrika

আন্তর্জাতিক নারী

মারিয়ার হাত ধরে লন্ডনের আঙিনায় সিয়েরা লিওনের স্বাদের জাদু

ফিচার ডেস্ক
মারিয়ার হাত ধরে লন্ডনের আঙিনায় সিয়েরা লিওনের স্বাদের জাদু
মারিয়া ব্র্যাডফোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

কেন্টের সেভেনওকসে গড়ে ওঠা একটা রেস্তোরাঁ শয়েন শয়েন। এর মূল ভিত্তি সিয়েরা লিওনের স্বাদ আর আভিজাত্যের মিশেল। যাঁর হাত ধরে এই হেঁশেলের উনুনে আগুন জ্বলে, তাঁর নাম মারিয়া ব্র্যাডফোর্ড। তিনি অবশ্য নিজের কাজকে ব্যাখ্যা করেন অন্যভাবে। মারিয়া বলেন, ‘শয়েন শয়েন হলো ২০১৬ সালে আমার জন্ম দেওয়া এক ভালোবাসার সন্তান’। এই কথাই যেন তাঁর জীবনদর্শন, পরিশ্রম আর স্বপ্নের সারকথা। যুক্তরাজ্যের ‘টপ নিউ রেস্টুরেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা নবাগত শেফ হিসেবে স্বীকৃত মারিয়া।

আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন

রেস্তোরাঁটির নাম শয়েন শয়েন রাখার পেছনে রয়েছে এক চমৎকার গল্প। মারিয়া বাড়িতে রান্না করে সেই খাবারের ছবি অনলাইনে শেয়ার করতেন। সিয়েরা লিওনের মানুষজন তাঁর সেই নান্দনিক উপস্থাপনা দেখে মন্তব্যের ঘরে লিখতেন শয়েন শয়েন। সিয়েরা লিওনের ক্রিও ভাষায় যার অর্থ হলো ফ্যান্সি বা অভিজাত। সেই নামটি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে যায়। রেস্তোরাঁটির অন্দরসজ্জায় রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকান বোটানিক্যাল মোটিফ এবং মাটির রঙের ছোঁয়া, যা অতিথিদের এক মায়াবী ও ঘরোয়া পরিবেশের স্বাদ এনে দেয়। কিন্তু সাজসজ্জা শুধু নয়, শয়েন শয়েনের মূল আকর্ষণ লুকিয়ে রয়েছে এর মেনুতে।

স্বাদ ও গল্পের যুগলবন্দী

মারিয়ার রান্নায় সিয়েরা লিওনের উপকূলীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘শুধু অতিরিক্ত ঝাল কিংবা ভারী খাবারই সিয়েরা লিওনের খাবার নয়। আমাদের খাবারে মাছ, শাকসবজি আর শস্যের আধিপত্য অনেক বেশি।’ তাঁর মেনুর প্রতিটি পদের পেছনে থাকে একেকটি গল্প। যেমন বিফ শর্ট রিব,

যা মাটির সুবাসযুক্ত গ্রাউন্ডনাট সসে মাখানো। তবে স্মোকি অক্টোপাসে ব্যবহৃত হয়েছে কানকানকান মসলার ঝাঁজ। মিষ্টির মধ্যে আছে চমক। পশ্চিম আফ্রিকান উপাদানের সঙ্গে ইউরোপীয় পেস্ট্রি টেকনিকের ফিউশন। যেমন তিল দিয়ে তৈরি মিল-ফুইর সঙ্গে থাকে সেলাম শস্যের আইসক্রিম।

ভ্রান্ত ধারণা ভাঙার লড়াই

মারিয়ার বড় হয়ে ওঠা সিয়েরা লিওনের ফ্রিটাউনে। কিশোরী বয়সে যুক্তরাজ্যে এসে তিনি অবাক হয়ে খেয়াল করেন, আফ্রিকার খাবার নিয়ে মানুষের ধারণা কতটা সংকীর্ণ। অনেকে মনে করেন, আফ্রিকার খাবার শুধুই মসলাদার আর মাংসনির্ভর। মারিয়া সেই ধারণা বদলে দিতে চান। তিনি পাম অয়েলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরীয় খাবারে অলিভ অয়েল যতটা গুরুত্বপূর্ণ, পশ্চিম আফ্রিকান খাবারে পাম অয়েলও ঠিক ততটাই জরুরি।’ তবে তিনি গুরুত্ব দেন টেকসই এবং ঐতিহ্যবাহী পাম অয়েলের ব্যবহারের ওপর। রান্নার বই ‘সুইট সালোন’ লেখার পর মারিয়া সেভেনওকসে এই রেস্তোরাঁ শুরু করেন। আর তখন থেকে এটি সমালোচকদের নজর কাড়ে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি মিশেলিন গাইড কর্তৃক ‘ওপেনিং অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ভূষিত হয়েছে।

মারিয়া ব্র্যাডফোর্ড এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন, যেখানে যেকোনো পটভূমির শেফরা পশ্চিম আফ্রিকান রান্না নিয়ে পড়াশোনা করবেন। এর বৈচিত্র্যময় উপকরণের কদর করবেন। আপাতত তাঁর লক্ষ্য—শয়েন শয়েনে আসা প্রত্যেক অতিথি যেন অনুভব করেন, তাঁরা কোনো রেস্তোরাঁয় নয়, বরং সিয়েরা লিওনের কোনো এক উষ্ণ এবং আন্তরিক বাড়িতে অতিথি হয়ে এসেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ: শেষ মুহূর্তে সময় চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার বললেন—সুযোগ নেই

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব—শান্তির রূপরেখা নাকি ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক ফাঁদ

হরমুজ প্রণালিতে কি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

যুদ্ধবিরতি: হরমুজ থেকে টোল আদায় করবে ইরান-ওমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত