আন্তর্জাতিক নারী

আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনা হওয়ার গল্প আমরা অনেক শুনেছি। কিন্তু ঝু কুনফেইর গল্পটাকে বলতে হয় কাচ ঘষে হীরা হওয়ার গল্প। চীনের এক প্রত্যন্ত গ্রামের চরম দারিদ্র্য থেকে উঠে আসা এই ব্যক্তিত্ব আজ বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ ধনী ‘সেলফ-মেড’ নারী। অ্যাপল, স্যামসাং কিংবা টেসলার মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের টাচস্ক্রিন সাম্রাজ্যের মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী তিনি। অথচ চীনের হুনান প্রদেশের এক অতিদরিদ্র পরিবারে ঝু জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যাঁর শৈশব ছিল অনেকটা দুঃস্বপ্নের মতো।
মাত্র ৫ বছর বয়সে মাকে হারান ঝু। বাবা এক শিল্প দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি এবং আঙুল হারিয়ে পঙ্গু হয়ে পড়েন। সেই ছোট্ট বয়সে পরিবার বাঁচাতে ঝু সবজি চাষ করেছেন, শূকর পালন করেছেন এবং প্লাস্টিকের বর্জ্য কুড়িয়েছেন। অভাবের তাড়নায় মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর আগেই ১৫ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে দিয়ে কাজের খোঁজে শেঞ্জেন শহরে পাড়ি জমান তিনি। শুরুতে কাজ করেছেন এক কারখানায় নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে। পরে যোগ দেন ঘড়ির কাচ তৈরির কারখানায়। দিনে মাত্র ১ ডলার আয়ে টানা ১৮ ঘণ্টা কাজ করার পর রাতে তিনি অ্যাকাউন্টিং শিখতেন।
১৯৯৩ সালে নিজের জমানো মাত্র আড়াই হাজার ডলার নিয়ে তিন কক্ষের একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে ঘড়ির কাচ তৈরির ব্যবসা শুরু করেন। হুনান ভাষায় তাঁকে বলা হয় ‘বা দে মান’ অর্থাৎ এমন
এক নারী, যিনি সেই ঝুঁকি নিতে ভয় পান না, যা অন্যরা পান। ২০০৩ সালে মটোরোলা তাদের নতুন ‘রেজর ভি-৩’ মোবাইল ফোনের জন্য কাচের স্ক্রিন তৈরির প্রস্তাব দিলে ঝু সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল সরবরাহকারীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে বাজার থেকে সরিয়ে দিতে চায়। নগদ টাকার সংকটে পড়ে নিজের বাড়ি ও মূল্যবান সব সম্পদ বিক্রি করেও কূল পাচ্ছিলেন না ঝু। একপর্যায়ে চরম হতাশায় রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চিন্তাও একবার করেছিলেন তিনি। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে মেয়ের ফোন তাঁকে জীবনের বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনে। মটোরোলার সহায়তায় সেই সংকট কাটিয়ে ওঠেন ঝু।
২০০৭ সালে বাজারে আসার প্রস্তুতিকালে অ্যাপল তাদের আইফোনের টাচস্ক্রিন তৈরির জন্য বেছে নেয় ঝুর প্রতিষ্ঠান ‘লেন্স টেকনোলজি’কে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। বর্তমানে লেন্স টেকনোলজির বাজারমূল্য প্রায় ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। অ্যাপল ছাড়াও স্যামসাং, হুয়াওয়ে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ও বিওয়াইডির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী এখন ঝুর প্রতিষ্ঠান।
২০১৫ সালে লেন্স টেকনোলজি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ঝু রাতারাতি চীনের শীর্ষ ধনী নারীতে পরিণত হন। এখন তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। নিজের আকাশছোঁয়া সাফল্য নিয়ে ঝু বলেন, ‘আমি এই অবস্থানে ভাগ্যের জোরে আসিনি, বরং পরাজয় স্বীকার না করার জেদ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।’
চমকপ্রদ পোশাক আর আভিজাত্য থাকলেও ঝু কুনফেইর আজও মাটির কাছের মানুষ। বড় বড় শো-অফ বা ইন্টারভিউ এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন। ঝু মনে করেন, সাফল্যের চূড়ায় উঠলে অহংকারী হওয়া যাবে না, আবার দুর্দিনেও ভেঙে পড়া যাবে না।

সম্প্রতি ‘ফোর্বস’ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫ দানবীরের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকার ২৫ জনের মধ্যে আছেন ছয়জন নারী। এই নারীরা কোনো আড়ম্বর ছাড়াই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সমাজসংস্কারে ব্যয় করছেন।
৫ দিন আগে
বাসার বাইরে এটাই আমার প্রথম রোজা। আমি এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। আমার গ্রামের বাড়ি খুলনায়। ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রমজান মাসে ক্লাস বন্ধ না দেওয়ার কারণে আমি বাড়িতে যেতে পারছি না। কিন্তু আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, মানসিকভাবে। কখনোই পরিবার ছাড়া এভাবে থাকা হয়নি কিংবা...
৫ দিন আগে
অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনার সময় নুসরাত জাহান নুহার শরীরে আক্রমণ করে মরণব্যাধি ক্যানসার। যে বয়সে একজন কিশোরীর জীবন এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেই সময়ে তাঁর জীবন থেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু নিজের অদম্য মনোবল আর পরিবারের পাশে থাকার শক্তি তাঁকে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে নেমে পড়ার শক্তি জোগায়।
৫ দিন আগে
১৩ দিন আগে সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফিরেছিলেন রিজিয়া বেগম (৪০)। হাতে ছিল না পাসপোর্ট বা কোনো পরিচয়পত্র। চিনতে পারছিলেন না কাউকেই। অবশেষে ব্র্যাক অভিবাসন ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রযুক্তির সহায়তায় মিলেছে তাঁর পরিচয়।
৫ দিন আগে