
নির্বাচনে পরাজিত হলেও ‘সততা ও সম্মানের রাজনীতি’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা–৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। আজ শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম হয়ে গন্তব্যরেখা পার হতে পারিনি, কিন্তু অনেকেই যেটিকে অসম্ভব বলেছিলেন, আমরা সেটিই সম্ভব করেছি।’
পোস্টে তাসনিম জারা জানান, অল্প সময়ের প্রচারণায় ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এটি ছিল এমন একটি প্রচারাভিযান, যেখানে ‘উচ্চস্বরে মাইকিং, পেশিশক্তির প্রদর্শন বা বিদ্বেষের ভাষা ছিল না।’
তিনি এটিকে ‘সম্মান ও সততার একটি মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাসনিম জারা ‘নির্বাচন পরবর্তী কিছু ভাবনা’ শিরোনামে লেখা এই পোস্টটিতে বেশ কয়েকটি পয়েন্ট আমাকে কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন।
ঢাকা-৯ আসনে বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকে শুভেচ্ছা জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতেই আমি তাঁকে ফোন করে ব্যক্তিগতভাবে শুভকামনা জানিয়েছি। ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে তাঁদের সাফল্য কামনা করি। আমরা একটি গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করব। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে আমাদের সমর্থন থাকবে। কিন্তু মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব।’
প্রচারে নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তাসনিম জারা বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পেইনে নারীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ ছিল এক বড় প্রাপ্তি। অনেক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আমি দেখেছি যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে নারীরা থাকলে আলোচনার মান বদলে যায়। যে কিশোরী বা তরুণীরা এই প্রচারণা আগ্রহ নিয়ে দেখেছ, তোমাদের বলছি: স্বপ্ন দেখতে ভয় পেয়ো না। ক্ষমতার কেন্দ্রে তোমারও অধিকার আছে। আমাদের আরও বেশি করে সামনে আসতে হবে।’
স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, ‘আমাদের ভলান্টিয়াররা এই পরিচ্ছন্ন রাজনীতির হৃদস্পন্দন। সাধারণ নাগরিকদের রাজনৈতিক সক্রিয়তার যে অনন্য দৃষ্টান্ত আপনারা তৈরি করেছেন, তা সচরাচর দেখা যায় না। মন খারাপ করবেন না। আপনারা মানুষের মন জয় করেছেন, আর সেটাই রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন জয়। আমরা সংগঠিত থাকব, সোচ্চার থাকব, একসাথে থাকব।’
নির্বাচন শেষে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, সেটিও সরাসরি নাকচ করেছেন তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, ‘অনেকে ভাবছেন নির্বাচন শেষ হলেই হয়তো আমি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাব। আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমার শেকড় এই মাটিতে, আমার কাজও এখানে। একটিমাত্র নির্বাচনের জন্য আমরা এই পথচলা শুরু করিনি। আমাদের লক্ষ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। এটি দীর্ঘ পথ। আর আপনাদের সঙ্গে এই পথ চলা আমার জন্য সম্মানের।’
নির্বাচনী অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও বলেন এই প্রার্থী। তাঁর মতে, ‘আমরা প্রমাণ করেছি পরিচ্ছন্ন প্রচারণায় মানুষের হৃদয় জয় করা যায়। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি টিকে থাকতে হলে তাকে শক্তিশালী হতে হবে। নির্বাচনের দিনে প্রতিটি বুথে সাহসী পোলিং এজেন্ট এবং কেন্দ্রের বাইরে সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মডেলকে রক্ষা করতে হলে আমাদের আরও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে, যা যেকোনো ভয়ভীতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।’
পোস্টে জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তাসনিম জারা বলেন, ‘আজকের দিনটি সম্ভব হতো না যদি জুলাইয়ের অকুতোভয় যোদ্ধারা রাজপথে বুক পেতে না দাঁড়াতেন। গণতন্ত্রের যে স্বাদ আমরা পাচ্ছি, তা তাঁদের অকল্পনীয় আত্মত্যাগের ফসল। আমি ধন্যবাদ জানাই অধ্যাপক ইউনূস ও তাঁর টিম, এবং নির্বাচন কমিশনকে। এমন এক জটিল সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না; কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক জাতি হিসেবে টিকে থাকার জন্য এটি ছিল অত্যন্ত জরুরি একটি দায়িত্ব।’
পোস্টের শেষে ৪৪ হাজার ভোটকে ‘দৃঢ় ভিত্তি’ আখ্যা দিয়ে তাসনিম জারা লেখেন, ‘৪৪ হাজার প্লাস ভোট একটি বিশাল ফাউন্ডেশন। আমাদের ক্যাম্পেইন ও ফলাফল প্রমাণ করেছে যে মানুষ ক্লিন পলিটিক্স চান। আমরা রাজনীতির পুরোনো ছকটি ভেঙে দিতে পেরেছি। আমরা ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাব।
ঢাকা–৯ ও বাংলাদেশের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সেরা সময় এখনো সামনে।’

ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন, মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী যুদ্ধ ও গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির নেতারা বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দস্যুতা গোটা পৃথিবীকে নতুন করে এক মহাযুদ্ধের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
এবারের নির্বাচনে শুধু জাতীয় পার্টি বাদে সব দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল। শুধু জাতীয় পার্টিই একক দল হিসেবে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। তাই যুক্তিসংগতভাবে বলা যায়, ‘না’ ভোটের পক্ষের অধিকাংশ ভোটই জাতীয় পার্টির, তথা লাঙ্গলের...
১৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামোর তোয়াক্কা না করে জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হত্যার যে প্রবণতা ক্রমেই...
১৫ ঘণ্টা আগে
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইসরায়েল ইরানকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে কেন? তাদের শক্তির উৎস কোথায়? কোথা থেকে তারা মদদ পায়? সারা বিশ্বের মানুষ জানে। তাদের আক্রমণের মাধ্যমে মনে হয় সেই আদিম যুগের সেই কথা—‘জোর যার মুল্লুক তার’। এখন এটা আদিম যুগ না। জোর যার মুল্লুক বলে আপনি
১৭ ঘণ্টা আগে