Ajker Patrika

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে ৪১ প্রার্থীর মামলা গ্রহণ হাইকোর্টে

এস এম নূর মোহাম্মদ, ঢাকা 
আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১: ১০
ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে ৪১ প্রার্থীর মামলা গ্রহণ হাইকোর্টে
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলে তাতে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন বিএনপি-জামায়াতের পরাজিত প্রার্থীরা। বিএনপির প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ করলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। আর অনিয়মের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন পরাজিত ৪১ প্রার্থী। তাঁরা ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেন আবেদনে। পরে তাঁদের আবেদনগুলো শুনানির জন্য গ্রহণ করে আসনগুলোর সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর এসব আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে ঈদ এবং অবকাশকালীন ছুটির পর।

হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাঁদের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ২৫ জন ও জামায়াতে ইসলামীর ১৩ জন। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন, এলডিপির একজন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একজন। তবে এর বাইরে আরও কয়েকটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আইনগতভাবে ৩০ দিন সময় ছিল। আমার ধারণা যাঁরা মামলা করার তাঁরা করে ফেলেছেন। এখন আর কেউ করবেন না। যদিও ৩০ দিন পর চাইলে বিলম্ব মার্জনা করে মামলা করার সুযোগ আছে।’

হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বিএনপির যেসব প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ঢাকার প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-৪ আসনে তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা-১৬ আসনে আমিনুল হক, ঢাকা-৫ আসনে মো. নবী উল্লা ও ঢাকা-১১ আসনে এম এ কাইয়ুম।

ঢাকার বাইরে থেকে বিএনপির যেসব প্রার্থী মামলা করেছেন, তাঁরা হলেন রাজশাহী-৪ আসনে ডি এম ডি জিয়াউর, পাবনা-৪ আসনে মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, রংপুর-৬ আসনে মো. সাইফুল ইসলাম, রংপুর-৪ আসনে মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা, রাজশাহী-১ আসনে মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরীফ উদ্দিন, ময়মনসিংহ-১ আসনের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, পাবনা-৩ আসনে মো. হাসান জাফির তুহিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, গাইবান্ধা-৫ আসনে মো. ফারুক আলম সরকার, নীলফামারী-২ আসনে শাহরিন ইসলাম, মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা আক্তার, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মো. শরীফুজ্জামান, শেরপুর-১ আসনে সানজিলা জেরিন, বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, নেত্রকোনা-৫ আসনের মো. আবু তাহের, কুমিল্লা-১১ আসনে মো. কামরুল হুদা, ময়মনসিংহ-২ আসনে মোতাহার হোসেন তালুকদার, চাঁদপুর-৪ আসনে মো. হারুনুর রশীদ, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে এম আকবর আলী এবং ময়মনসিংহ-৬ আসনে মো. আখতারুল আলম।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলন করে নানা অনিয়মের অভিযোগ করে জামায়াতে ইসলামী। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে দলটির মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বিভিন্ন আসনে ভোট গণনায় অতিরিক্ত দেরি, পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফলাফল প্রকাশ, ভুয়া পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর, এমনকি পেনসিল দিয়ে ফলাফল লেখাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন। সেই সঙ্গে অন্তত ৩০টি আসনে ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে মামলা করার কথা জানান। তবে এখন পর্যন্ত দলটির ১৩ জন প্রার্থীর মামলা করার বিষয়টি সামনে এসেছে।

জামায়াতের যেসব প্রার্থীর আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন খুলনা-৫ আসনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা-৬ আসনে আব্দুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনের এনায়েত উল্লাহ, গাইবান্ধা-৪ আসনে আব্দুর রহিম সরকার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মো. ইলিয়াছ মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া, লালমনিরহাট-২ আসনে মো. ফিরোজ হায়দার, লালমনিরহাট-১ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, কক্সবাজার-৪ আসনে নুর আহমেদ আনোয়ারী, পিরোজপুর-২ আসনে শামীম সাঈদী, বরগুনা-২ আসনে ডা. সুলতান আহমদ, ঢাকা-১০ আসনে জসিম উদ্দিন সরকার এবং ময়মনসিংহ-৪ আসনে মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অন্তত ৩০ জন প্রার্থীর মামলা করার কথা থাকলেও অন্যদের মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, অন্যরাও মামলা করবে। প্রয়োজনে বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে সেই মামলা করা হবে। তবে ৩০টি বলা হলেও কমবেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।

বিএনপি-জামায়াতের বাইরে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুক, ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং কুমিল্লা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল মতিন। তাঁদের আবেদনও শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়ম-সংক্রান্ত আবেদন শুনানির জন্য নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। যার এখতিয়ার দেওয়া হয় বিচারপতি মো. জাকির হোসেনকে। তাঁর বেঞ্চে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৩৯টি আবেদন গ্রহণ করে আদেশ দেওয়া হয়। আর ১৬ মার্চ বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর একক বেঞ্চে দুটি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

খুলনায় ঘরে ঢুকে পরিবারের ৪ সদস্যকে গুলি

বাবা বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ, স্ত্রী হাসপাতালে, নিথর দেহে বাড়িতে ফিরলেন সোহেল

আমিরাতের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের, জাতিসংঘকে চিঠি

রাজধানীর উত্তরায় ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

চট্টগ্রামের টেরিবাজারে অগ্নিকাণ্ড, ২ জনের প্রাণহানি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত