চললাম পাকিস্তান হাট! না, এটা পাকিস্তানে নয়। সাভার নামাবাজার ব্রিজ পার হয়ে রূপনগর গ্রাম। গ্রামের রূপ আমাদের থমকে দেয়। নির্বাক দৃষ্টিতে কিছুটা সময় তাকিয়ে থেকে আবারও চললাম। চলতে চলতে চৌঠাইল পার হয়ে আড়ালিয়া। এই চলার পথেও চোখের সঙ্গী ছিল সড়কের উভয় পাশের নয়নাভিরাম প্রকৃতি। সুন্দর অনুভূতির রেশ ধরেই মালাই চায়ে চুমুক দিলাম। পুরু মালাইয়ের স্বাদ মিলিয়ে যাওয়ার আগে আবারও ছুট। যেতে যেতে সুঙ্গর গ্রাম। গ্রামের আনাচকানাচে ঘুরতে থাকি। ঘুরতে ঘুরতে খড়ারচর পার হয়ে ফুলতলা বাজার। গরম-গরম পুরি আর ডিম চপ গপগপ করে খেয়ে পৌঁছে যাই পাকিস্তান হাট!
জায়গাটার তেমন কোনো বিশেষত্ব না পেয়ে বন্ধুর চোখের দিকে তাকাই। ওর কথাতেই যাওয়া। সেও ডানে-বাঁয়ে দর্শনীয় বিষয়বস্তু খুঁজতে থাকল। আর এই ফাঁকে আমি বড় বড় ফলি মাছ কিনে নিই। হাতে মাছের পোঁটলা দেখে বন্ধু বলে উঠল—এই মাছ লইয়া তুমি মিয়া ঘুরবা কেমনে? এমনেই!
একরাশ ভালো লাগা নিয়ে ভাটিরচরের দিকে গাড়ি ছোটে। থামি ধলেশ্বরীর তীরে। এপার-ওপার দুপারেই বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। সদ্য তোলা ধনেপাতার ঘ্রাণ মাতাল করে তোলে। সেই রেশ কাটার আগেই ছুটতে ছুটতে মোল্লাপাড়া। সেখানে থামতে হলো। সামনে সাদা চন্দ্রমল্লিকা ফুলের বাগান। বেশ বড়সড় বাগান। পাশেই আছে গ্লাডিওলাস ফুল আর জিপসির বাগান। আরও আছে কলাবাগানসহ নানা সবজিখেত।
চন্দ্রমল্লিকা নামের এই বিদেশি ফুলটি কীভাবে যে আমাদের সৌন্দর্য-ভাবনার অংশ হয়ে গেল, তার ইতিহাস আমার জানা নেই। তবে এর আরেক নাম সেবতি। বিভিন্ন রঙের হলেও সাদা, হলুদ আর লাল বেশি দেখা যায়। চন্দ্রমল্লিকার সঙ্গে দেখা করেই ঢুকে পড়ি জিপসি বাগানে। ঘুরেফিরে আমরা চলে যাই গ্লাডিওলাসের কাছে। চিকন চিকন ডালে লাল-সাদা ফুল ফুটে রয়েছে। ছুরির মতো পাতা হওয়ার কারণে এর আরেক নাম সোর্ড লিলি।
গ্লাডিওলাসও বিদেশি ফুল। এর আদি নিবাস আফ্রিকায়। তবে এর পাশেই অবস্থান করা আমাদের অতিপরিচিত সবজি শিম ফুলের সৌন্দর্যও কম যায় না! বেগুনের খেত ধরে আরেকটু এগিয়ে যেতেই আবারও চোখে ধরা দেয় বাঁক ঘুরে আসা ধলেশ্বরী নদী। এর এপাশটার চিত্র দেখে বিখ্যাত সেই কবিতার লাইনটা মনে পড়ে গেল, ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে/ বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে।’ তবে এখন দিন বদলেছে। বৈশাখের বদলে মাঘ মাসেই ধলেশ্বরীর প্রবাহ শুকিয়ে গেছে। পানির গভীরতা হাঁটুরও কম। তবে সেই পানি বেশ টলটলে, একেবারে পাহাড়ি ঝিরির মতো।
এবারের গন্তব্য হাতনি। সড়ক থেকে প্রায় ২০ ফুট নিচে হলুদের অবগাহন। সেখানেই চলছিল মধুচাষি মোয়াজ্জেমের সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণ। কিনে নিলাম কয়েক কেজি। ছবিও তুললাম অনেক। এরপর কমলাপুর গ্রাম। শান্ত নিরিবিলি চারপাশ। গাছে গাছে পাখিরা গান গেয়ে যায়। ঘুরেফিরে যত দূর বুঝতে পারলাম, জায়গাটিতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বসবাস আছে। বেশ খানিকটা সময় ঘুরে চলে যাই সাধাপুর গোলাপ বাগানে। প্রচুর বাগান। গাছে গাছে ফুটে আছে লাল গোলাপ। এ পাশটায় ফুলপ্রেমীদের তেমন আনাগোনা নেই। সুনসান পরিবেশ। গোলাপের মিষ্টি ঘ্রাণে মশগুল হয়ে বিরুলিয়া ব্রিজ পেছনে ফেলে আমরা ছুটলাম গাজীপুরের ভাইরাল সড়ক বনখড়িয়ার উদ্দেশে। শালবনের ভেতর দিয়ে পিচঢালা সড়ক ধরে যেতে হয় নয়নাভিরাম পথ। দুপাশে শালবন। এর মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে চকচকে সড়ক। বনখড়িয়া এখন ভ্লগার আর ভ্রমণপিয়াসিদের কারণে স্থানীয়দের কাছে ভাইরাল সড়ক নামে পরিচিত।
সময়ের অভাবে যাঁরা দূরে কোথও যেতে পারেন না, তাঁরা ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে মোরগ ডাকা ভোরে বের হয়ে সন্ধ্যার মুখে ফিরে আসতে পারেন ঢাকার চারপাশ ঘুরে।
শুধু যে ঢাকার চারপাশ, তা তো নয়। আপনার নিজের জেলা বা উপজেলারও বিভিন্ন জায়গা ঘুরে আসতে পারেন সময় করে।
যাবেন কীভাবে
ঢাকার গাবতলী হয়ে হেমায়েতপুরের ধল্লা ব্রিজ দিয়ে যাওয়া যাবে ওই সব গ্রামে। আবার বিরুলিয়া হয়েও যাওয়া সম্ভব সাভারের নামাবাজার ব্রিজ ব্যবহার করে।

বয়স চল্লিশের কোটা পার হতেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। বলিরেখা, চোখের নিচে কালো ছোপ কিংবা ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া— এসবই বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে বেশি যে সমস্যা ভোগায়, তা হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও খসখসে ভাব। শুধু দামি ক্রিম মেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, বয়স...
৯ ঘণ্টা আগে
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বয়স বাড়বে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রকৃত বয়সের তুলনায় শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যায় অনেক আগে। একেই বলা হয় অকালবার্ধক্য। শরীরের স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াগুলো সময়ের আগে দৃশ্যমান হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বার্ধক্য অনিবার্য হলেও...
১০ ঘণ্টা আগে
ইফতারে তেলে ভাজা বা বেশি মসলায় রান্না করা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। স্বাস্থ্যকর ইফতারিতে কী রাখা যায়, তাই ভাবছেন কি? অত চিন্তা না করে রাখতে পারেন রঙিন ফলের সালাদ। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। এই রেসিপি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি সুস্বাদু...
১৫ ঘণ্টা আগে
সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক...
১৭ ঘণ্টা আগে