বয়স বেড়ে যাওয়া প্রকৃতির এক অপরিবর্তনীয় নিয়ম। কিন্তু সেই বার্ধক্য যেন অকালে আমাদের লাবণ্য কেড়ে নিতে না পারে, তার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। বিভিন্ন গবেষণা জানাচ্ছে, সঠিক পুষ্টি শুধু আমাদের ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং ত্বক সতেজ রেখে দীর্ঘকাল তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে শীতের এই মৌসুমে প্রকৃতির ঝুড়িতে এমন সব চমৎকার খাবার রয়েছে, যা আমাদের শরীরের জন্য অ্যান্টি-এজিং বা বয়স প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
জলপাই তেল ও গ্রিন টির জাদুকরি ছোঁয়া
বার্ধক্য রুখতে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বা জলপাই তেলের কোনো বিকল্প নেই। একে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম স্বাস্থ্যকর তেল। এতে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমিয়ে ত্বক ভেতর থেকে নরম ও উজ্জ্বল রাখে; পাশাপাশি এক কাপ গ্রিন টি বা সবুজ চা হতে পারে আপনার তারুণ্যের সঙ্গী। এতে থাকা পলিফেনল এবং বিশেষ করে ‘ইজিসিজি’ সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষা দেয় এবং অকালবার্ধক্য রোধ করে।

শীতকালীন পুষ্টির ভান্ডার রঙিন সবজি
শীতের বাজারে এখন রঙের মেলা। আর এই রংগুলোই মূলত বিভিন্ন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রতীক। শীতকালীন কিছু বিশেষ সবজি আপনার বয়স ধরে রাখার যুদ্ধে সেরা অস্ত্র হতে পারে।
গাজরের উজ্জ্বলতা: শীতের গাজর শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এটি বিটা-ক্যারোটিনের প্রধান উৎস। শরীরে গিয়ে এটি ভিটামিন-এ তে রূপান্তরিত হয়, যা ত্বকের কোষ মেরামত করে এবং প্রাকৃতিক এক আভা তৈরি করে।

টমেটোর লাল আভা: লাল টমেটোতে রয়েছে প্রচুর লাইকোপেন। এই উপাদান সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করতে অনেকটা ‘ন্যাচারাল সানস্ক্রিন’ হিসেবে কাজ করে। সুস্থ হৃৎপিণ্ড এবং সতেজ ত্বকের জন্য শীতের সালাদে টমেটো অপরিহার্য।
ব্রকলি ও ফুলকপি: শীতের এই সবজিগুলো ভিটামিন-সি এবং ফোলেটে ভরপুর। ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখে, যা ত্বকের ঝুলে পড়া রোধ করে এবং বলিরেখা কমায়।
মিষ্টি আলুর জাদু: বিটা-ক্যারোটিন ও ভিটামিন-সি এর মেলবন্ধনে মিষ্টি আলু বার্ধক্যের ছাপ দূর করতে দারুণ কার্যকর। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে শীতের রুক্ষতা থেকে সুরক্ষা দেয়।
সামুদ্রিক মাছ ও ডার্ক চকলেট
খাদ্যতালিকায় যদি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ তৈলাক্ত মাছ রাখা যায়, তবে ত্বকের ব্যারিয়ার বা সুরক্ষা স্তর মজবুত হয়। এটি প্রদাহ কমিয়ে ত্বক রাখে টানটান। আর মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে বেছে নিন অন্তত কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকলেট। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েল ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে চেহারায় একধরনের তারুণ্যদীপ্ত আভা ফুটে ওঠে।
তারুণ্য ধরে রাখার সোনালি রহস্য
প্রকৃতির হিলিং বা নিরাময়কারী উপাদানগুলোর মধ্যে হলুদ অন্যতম। এর ভেতরে থাকা দুটি উপাদান কারকিউমিন ও টারমারোন আমাদের বার্ধক্যের গতি কমিয়ে দিতে সক্ষম। কারকিউমিন পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী প্রদাহরোধী উপাদান। এটি শুধু শরীরের ভেতরকার প্রদাহই কমায় না, বরং ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও সাহায্য করে। আর টারমারোন মূলত হলুদের এসেনশিয়াল অয়েলে পাওয়া যায়। এটি শরীরের স্টেম সেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু বা কলা দ্রুত পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শীতকালীন ডায়েটে আপনি অনায়াসে হলুদ যুক্ত করতে পারেন।
অন্যান্য উৎস
শীতের ফল ডালিম বা বেদানা পটাশিয়াম ও আঁশ সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি কোলাজেনের সুরক্ষা দেয়। এ ছাড়া প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অ্যাভোকাডো এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তিসি বা ফ্ল্যাক্সসিড যোগ করলে তা ত্বকের গভীর থেকে পুষ্টি জোগায়।
বয়স শুধু একটি সংখ্যা হয় তখনই, যখন আপনার জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাস হয় নিয়ন্ত্রিত। শীতের এই চমৎকার সবজি ও ফলমূল দিয়ে সাজানো ডায়েট আপনার শরীর কেবল রোগমুক্ত রাখবে না, বরং আয়নার সামনে দাঁড়ালে আপনাকে দেবে এক প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। মনে রাখবেন, দামি প্রসাধনী নয়; বরং প্রকৃতির দান এই খাবারগুলোই আপনার তারুণ্যের প্রকৃত রক্ষাকবচ।
সূত্র: হেলথ লাইন, হেলথ শর্টস, শোবিজ ডেইলি

আমাদের মুখমণ্ডলের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি পাতলা হয় চোখের চারপাশের ত্বক। তাই রোজ যে ক্লিনজার স্ক্রাব বা ময়শ্চারাইজার আমরা মুখে ব্যবহার করি, তা চোখের চারপাশের ত্বকের জন্য সমান কার্যকর নয়।
৮ মিনিট আগে
ভ্যাপসা গরমে যাঁরা রোজ অফিস করছেন বা যাঁরা বাড়িতে রয়েছেন, তাঁদের সবারই নাজেহাল অবস্থা। কখন বৃষ্টি নামবে, এই ক্ষণ গুনতে গুনতেই চলে এল বর্ষা। তপ্ত রোদ থেকে এবার একটু রেহাই পাওয়ার আশা করা যায়। বর্ষার প্রথম দিনেই আলমারিতে নীল শাড়ির খোঁজ পড়ে।
১ ঘণ্টা আগে
আষাঢ় মানে বাহারি স্বাদের খিচুড়ির আয়োজন। ঝুম বৃষ্টিতে গরম-গরম সুস্বাদু খিচুড়ি বাঙালির রসনাবিলাসের দারুণ এক উপকরণ। আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন, খিচুড়িপ্রেমীদের জন্য আজ থাকছে মুখরোচক মুগ ডালের খিচুড়ির রেসিপি। সবজি, আচার এবং মাংস কষা দিয়ে খাওয়ার জন্য এই খিচুড়ির রেসিপি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
১ ঘণ্টা আগে
আমার মুখের ত্বকে দু-একটা ব্রণের দাগ ছাড়া তেমন কোনো দাগ নেই। তবে প্রতিবার ফেয়ার পলিশ করার পর চিকবোনের কাছে কালচে ছোপ দেখা যায়। কয়েক দিন পর আবার আবছা লাগে দাগটা। এটা কী? আমার কি মেছতা হতে যাচ্ছে?
২ ঘণ্টা আগে