আমাদের সমাজে দেখা যায়, কোরবানির পশু জবাই করার সময় জবাইকারীকে কোরবানিদাতার নাম উচ্চারণ করার জন্য বলা হয়। বিশেষ করে অংশীদারি কোরবানিতে সব অংশীদারের নাম উচ্চারণ করতে পীড়াপীড়ি করতেও দেখা যায়। এখন প্রশ্ন হলো, কোরবানির পশু জবাই করার সময় কি এভাবে সবার নাম উচ্চারণ করা জরুরি? না করলে কি কোরবানি আদায় হবে?
এই প্রশ্নের উত্তরে আলিমগণ বলেছেন, কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় মালিকের নাম উচ্চারণ করা জরুরি নয়, বরং জায়েজ। নির্দিষ্ট করে ‘অমুক অমুকের পক্ষ থেকে এটি কোরবানি করছি’ বললে যেমন কোরবানি আদায় হবে, তেমনি নির্দিষ্ট না করে ‘এই পশুর সব মালিকের পক্ষ থেকে কোরবানি করছি’ বললেও আদায় হবে। তাই আল্লাহু আকবার বলে জবাই করে দিলে কোরবানি হয়ে যাবে। নাম উচ্চারণ না করার কারণে কোরবানিতে কোনো ক্ষতি হবে না। (ফতোয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ: ১৫/ ৫১৭; বাদায়েউস সানায়ে: ৫/ ৭১)
হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় সুরা আনআমের ৭৯, ১৬২ ও ১৬৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করে বলেছেন, ‘আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা আন মুহাম্মাদিন ওয়া উম্মাতিহি।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আপনার থেকেই প্রাপ্ত এবং আপনার জন্যই উৎসর্গিত; মুহাম্মদ ও তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করুন।’ (ইবনে মাজাহ: ৩১২১)
এক এক করে সবার নাম উচ্চারণ করা জরুরি না হওয়ার কারণ হলো, কোরবানিটি কাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে, তা পশুটি কেনার সময়ই নির্ধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং জবাইয়ের সময় আলাদা করে নাম উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই। ‘পশুর মালিকদের পক্ষ থেকে’ বললে বা জবাইকারীর মনে এই নিয়ত থাকলেই জবাই ও কোরবানি শুদ্ধ হবে। তবে জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম অবশ্যই উচ্চারণ করতে হবে।
মাওলানা ইসমাইল নাজিম, ইসলামবিষয়ক গবেষক

মানুষ হিসেবে আমাদের জীবনে ছোট-বড় অনেক গুনাহ হতে পারে। তবে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা তওবাকারী বান্দাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। গুনাহমুক্ত জীবন আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। আপনি যদি আপনার পাপ মোচন করতে চান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চান, তবে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করতে পারেন।
১২ ঘণ্টা আগে
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের ইতিহাসে মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি (রহ.) এক কিংবদন্তি পুরুষ। একটি শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সত্যের সন্ধানে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত কাঁপিয়ে দেন।
১২ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজানে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকা ফরজ। তবে অনেক সময় আমরা ধূমপান বা কয়েল-আগরবাতির ধোঁয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সংশয়ে থাকি। ইসলামি শরিয়তের আলোকে ধূমপান এবং রোজা ভঙ্গের বিভিন্ন কারণ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১৩ ঘণ্টা আগে
খন্দকের ময়দানে তখন চলছে এক মহাকাব্যিক ব্যাকরণ। মুসলমানেরা দিনরাত পরিখা খনন করছেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) তাঁর কোদাল নিয়ে গভীর পরিখা খুঁড়ছেন। কিন্তু আজ তাঁর মনটা ভারী। কারণ তিনি দেখলেন, প্রিয় নবীজি (সা.) ক্ষুধার্ত অবস্থায় পেটে পাথর বেঁধে কাজ করছেন। জাবির (রা.)-এর হৃদয় কেঁপে উঠলো।
১৩ ঘণ্টা আগে