আজানের উত্তর কীভাবে দিতে হয়? আজানের সময় আজানের জবাব না দিয়ে অন্য কোনো দোয়া পড়া যাবে কি? আজানের জবাব দেওয়ার বিধান বিস্তারিত জানতে চাই।
লিয়াকত আলী, নারায়ণগঞ্জ
আজান মানে হলো আহ্বান বা ঘোষণা। নামাজের সময় হয়েছে—এটি মানুষকে জানানোর জন্যই আজান দেওয়া হয়। আজান শোনা এবং এর যথাযথ উত্তর দেওয়া একটি স্বতন্ত্র ইবাদত।
ফুকাহায়ে কেরাম এবং আলেমদের মতে, আজানের সময় অন্য কোনো নফল দোয়া, জিকির বা তাসবিহ পাঠ করার চেয়ে আজানের উত্তর দেওয়া বেশি উত্তম। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে: এক. হাদিসে আজানের সময় মুয়াজ্জিনের বাক্যের পুনরাবৃত্তি করার সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই. জিকির বা অন্য দোয়া আজান শেষ হওয়ার পরও করা যায়; কিন্তু আজানের উত্তর দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে সেই সওয়াব আর পাওয়া যায় না। তিন. রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা-ই বলো।’ (সহিহ বুখারি: ৬১১)
তাই সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে করা অন্য দোয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে আজানের জবাব দেওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে আজান শোনা মুমিনের জন্য জরুরি।
যেভাবে আজানের জবাব দেবেন
মুয়াজ্জিন যখন বলেন, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’, তখন আপনিও একই বাক্য পুনরাবৃত্তি করবেন। তিনি যখন উচ্চারণ করেন, ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, একইভাবে তা বলবেন। এরপর ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলা হলে, একই বাক্য বলবেন। ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ শোনার পর বলবেন, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ আর ফজরের আজানে মুয়াজ্জিন যখন বলেন, ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’, তখন জবাবে বলবেন, ‘সাদাকতা ওয়া বারারতা’, অর্থাৎ তুমি সত্য ও ন্যায় বলেছ। শেষে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ উচ্চারিত হলে বলবেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’
আজানের পরের দোয়া ও ফজিলত
আজান শেষ হওয়ার পর রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা এবং দোয়া পড়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আজানের পর এই দোয়া পড়বে, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে। দোয়াটি হলো: ‘আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাহ, ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাজি ওয়াআদতাহ।’ (সহিহ বুখারি: ৬১৪)
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দিতে হয় না
কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় আজানের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকার অবকাশ আছে: ১. নামাজরত অবস্থায়: কেউ নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকলে তখন উত্তর দেবে না। ২. খুতবা চলাকালীন: জুমার খুতবা বা বিয়ের খুতবা শোনার সময় উত্তর দেওয়া যাবে না (চুপ থাকা ওয়াজিব)। ৩. প্রাকৃতিক হাজত: পেশাব-পায়খানা বা স্ত্রী সহবাসের সময় আজানের উত্তর দেওয়া নিষেধ। ৪. কোরআন তিলাওয়াত: তিলাওয়াত বন্ধ করে উত্তর দেওয়া উত্তম, তবে না দিলে গুনাহ হবে না।
টিভিতে আজান শুনলে কি উত্তর দিতে হবে
আলেমদের মতে, সরাসরি মুয়াজ্জিন থেকে শোনা আজানের উত্তর দেওয়া সুন্নত। রেকর্ড করা আজান (ইউটিউব, অ্যাপ বা টিভি) শুনলে উত্তর দেওয়া সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে না।
আজানের জবাব দিতে দেরি হলে করণীয়
যদি আজান শেষ হওয়ার পর খুব বেশি সময় পার না হয়, তাহলে দ্রুত বাক্যগুলো বলে নেওয়া যায়। তবে অনেক দেরি হয়ে গেলে আর জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
নারীদের আজানের জবাব দেওয়ার বিধান
নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই আজানের জবাব দেওয়া এবং আজানের পরের দোয়া পড়া সুন্নত। তবে পিরিয়ড বা নিফাস অবস্থায় নারীদের আজানের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
উত্তর দিয়েছেন
ইসলামবিষয়ক গবেষক

মানুষ হিসেবে আমাদের জীবনে ছোট-বড় অনেক গুনাহ হতে পারে। তবে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা তওবাকারী বান্দাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। গুনাহমুক্ত জীবন আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। আপনি যদি আপনার পাপ মোচন করতে চান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চান, তবে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করতে পারেন।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের ইতিহাসে মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি (রহ.) এক কিংবদন্তি পুরুষ। একটি শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সত্যের সন্ধানে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত কাঁপিয়ে দেন।
৩ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজানে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকা ফরজ। তবে অনেক সময় আমরা ধূমপান বা কয়েল-আগরবাতির ধোঁয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সংশয়ে থাকি। ইসলামি শরিয়তের আলোকে ধূমপান এবং রোজা ভঙ্গের বিভিন্ন কারণ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
৩ ঘণ্টা আগে
খন্দকের ময়দানে তখন চলছে এক মহাকাব্যিক ব্যাকরণ। মুসলমানেরা দিনরাত পরিখা খনন করছেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) তাঁর কোদাল নিয়ে গভীর পরিখা খুঁড়ছেন। কিন্তু আজ তাঁর মনটা ভারী। কারণ তিনি দেখলেন, প্রিয় নবীজি (সা.) ক্ষুধার্ত অবস্থায় পেটে পাথর বেঁধে কাজ করছেন। জাবির (রা.)-এর হৃদয় কেঁপে উঠলো।
৩ ঘণ্টা আগে