Ajker Patrika

সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি: বিংশ শতাব্দীর অমর জ্ঞানসাধক

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আন নোমান আরীফী
সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি: বিংশ শতাব্দীর অমর জ্ঞানসাধক
আবুল হাসান আলি নদভি: ছবি: সংগৃহীত

বিংশ শতাব্দীর মুসলিম উম্মাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক, প্রখ্যাত সাহিত্যিক সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.)। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের রায়বেরেলির এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সাইয়েদ আবদুল হাই ছিলেন ‘নুজহাতুল খাওয়াতির’-এর মতো কালজয়ী গ্রন্থের রচয়িতা।

শৈশব ও শিক্ষা জীবন: মেধার আলোকচ্ছটা

মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতাকে হারানোর পর বড় ভাই সাইয়েদ আবদুল আলি তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষা জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

  • আরবি ভাষা: ১৯২৪ সালে শায়খ খলিল (রহ.)-এর কাছে আরবি ভাষার পাঠ গ্রহণ।
  • উচ্চশিক্ষা: লক্ষ্ণৌ ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯২৭ সালে ‘ফাজেলে আদব’ সনদ লাভ।
  • হাদিস শাস্ত্র: দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় মাওলানা হায়দার হাসান খান এবং দারুল উলুম দেওবন্দে শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানি (রহ.)-এর নিকট হাদিসের দরস গ্রহণ।

‘দ্বিতীয় ইবনে বতুতা’: বিশ্বব্যাপী দাওয়াতি সফর

আলি মিয়া নদভি (রহ.)-কে তাঁর নিরন্তর সফরের কারণে অনেকে ‘দ্বিতীয় ইবনে বতুতা’ বলে অভিহিত করেন। ১৯৩৫ সালে নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেও তাঁর মূল কর্মক্ষেত্র ছিল পুরো পৃথিবী।

  • ভ্রমণ: মিশর, সুদান, সিরিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, কুয়েত, ইউরোপ এবং আমেরিকাসহ বিশ্বের বহু দেশ তিনি চষে বেড়িয়েছেন।
  • পাশ্চাত্যে দাওয়াত: আমেরিকার বিখ্যাত ৫টি ইউনিভার্সিটিতে এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তিনি ইসলামি আদর্শের ওপর প্রজ্ঞাদীপ্ত ভাষণ প্রদান করেন।
  • বাংলাদেশ সফর: ১৯৮৪ এবং ১৯৯৪ সালে তিনি বাংলাদেশ সফর করেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে তাঁর পদচারণা ও বায়তুল মোকাররমে প্রদত্ত খুতবা আজও এ দেশের মানুষের স্মৃতিতে অম্লান।

কালজয়ী রচনাবলি: কলমের জিহাদ

সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.) প্রায় পৌনে এক শতাব্দী ধরে অবিশ্রান্তভাবে লিখে গেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম শুধু তথ্য নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণের হাতিয়ার।

মা জা খাসিরাল আলাম বি ইনহিতাতিল মুসলিমিন: এটি তাঁর বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ, যা পৃথিবীর প্রায় সকল প্রধান ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

  • তারিখে দাওয়াত ওয়া আজিমাত: পাঁচ খণ্ডে রচিত এই গ্রন্থটি মুসলিম ইতিহাসের সংগ্রামী সাধকদের এক মহাকাব্য।
  • সিরাতে সাইয়েদ আহমাদ শহিদ: তরুণ বয়সেই এই গ্রন্থ লিখে তিনি উর্দু সাহিত্যে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেন।
  • নবীয়ে রহমত এবং আল-মুরতাজা: নবীজি (সা.) ও হজরত আলী (রা.)-এর জীবনীর ওপর রচিত এই গ্রন্থগুলো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।

পুরস্কার ও জীবনাবসান

জ্ঞানের এই মহিরুহ তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মুসলিম বিশ্বের নোবেল খ্যাত ‘বাদশা ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার’-এ ভূষিত হন। ১৪২১ হিজরি সালের ২২ রমজান জুমার প্রাক্কালে সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াতরত অবস্থায় এই মহান মনীষী ইন্তেকাল করেন। রায়বেরেলির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সিঙ্গাপুর সফরের আগের দিন সাবেক গভর্নরের পিএস কামরুলসহ দুজনের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

১৫ বছর পর পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনুর মিয়ার চাকরি পুনর্বহাল

জুমার সঙ্গে হাদির খুনির ছবি, যা জানাল দ্য ডিসেন্ট

ইরান যুদ্ধে বড় মোড়, ন্যাটোর আকাশসীমায় ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত