ইসলামে গুনাহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—১. সগিরা (ছোট) গুনাহ ও ২. কবিরা (বড়) গুনাহ। কবিরা গুনাহ এমন সব পাপ, যার জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং যা তওবা ছাড়া মাফ হয় না।
কোন কাজগুলো কবিরা গুনাহ, তা চেনার কিছু বিশেষ লক্ষণ রয়েছে:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে, তার মধ্যে যা কবিরা গুনাহ, সেগুলো থেকে যদি তোমরা বেঁচে থাক; তবে আমি তোমাদের ছোট গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে (জান্নাতে) প্রবেশ করাব।’ (সুরা নিসা: ৩১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে অন্য জুমা এবং এক রমজান থেকে অন্য রমজান—এর মধ্যবর্তী সময়ের সগিরা গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।’ (সহিহ্ মুসলিম)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে কবিরা গুনাহ ৭০টি পর্যন্ত হতে পারে। তবে ওলামায়ে কেরাম কোরআন ও হাদিসের আলোকে আরও অনেক গুনাহকে কবিরা গুনাহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নিচে প্রধান কবিরা গুনাহগুলো তুলে ধরা হলো:
আল্লাহর ইবাদত ও ইমান-সংক্রান্ত
১. মহান আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা।
২. ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাজ পরিত্যাগ করা।
৩. জাকাত আদায় না করা।
৪. সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ আদায় না করা।
৫. রমজানের ফরজ রোজা না রাখা।
৬. তাকদির বা ভাগ্য অস্বীকার করা।
৭. রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ইবাদত করা।
৮. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে পশু জবাই করা।
৯. অদৃশ্যের খবর জানার দাবি করা (জ্যোতিষশাস্ত্র)।
১০. গণকের কাছে গিয়ে তার কথায় বিশ্বাস করা।
১১. জাদুটোনা করা বা জাদুতে বিশ্বাস রাখা।
১২. আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নামে মিথ্যা বলা।
১৩. সাহাবিদের (রা.) গালি দেওয়া।
১৪. পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কোনো অপকর্ম করা।
১৫. দ্বীন বা ইমান নিয়ে উপহাস করা।
পারিবারিক ও সামাজিক অধিকার-সংক্রান্ত
১৬. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।
১৭. পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা।
১৮. অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে হত্যা করা।
১৯. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা।
২০. নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
২১. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া।
২২. স্বামী বা স্ত্রীর গোপন কথা জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
২৩. বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া।
২৪. স্বামীর অবাধ্য হওয়া বা তাঁর অধিকার অস্বীকার করা।
২৫. হিল্লা বা চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করা।
২৬. মানুষের বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা।
২৭. মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে উচ্চ স্বরে বিলাপ করে কাঁদা।
২৮. উপকার করে খোটা দেওয়া।
২৯. মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা।
৩০. আমানতের খেয়ানত করা।
আর্থিক লেনদেন ও জীবিকা-সংক্রান্ত
৩১. সুদি লেনদেন করা, লেখা বা তাতে সাক্ষী থাকা।
৩২. ঘুষ আদান-প্রদান করা।
৩৩. ওজন বা পরিমাপে কম দেওয়া।
৩৪. জমিনের সীমানা পরিবর্তন বা অন্যের জমি জবরদখল করা।
৩৫. প্রতারণা বা ঠকবাজি করা।
৩৬. চুরি করা।
৩৭. ডাকাতি বা ছিনতাই করা।
৩৮. গনিমত বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ বণ্টন করার আগে আত্মসাৎ করা।
৩৯. অবৈধ বা হারাম পথে উপার্জিত অর্থ ভোগ করা।
৪০. ভেজাল পণ্য বিক্রি করা।
৪১. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি (সিন্ডিকেট) করা।
৪২. ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার নিয়ত করা।
৪৩. জুয়া খেলা।
৪৪. স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি পাত্র ব্যবহার করা।
৪৫. গনিমতের সম্পদ চুরি করা।
নৈতিকতা ও চারিত্রিক গুনাহ-সংক্রান্ত
৪৬. জিনা বা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।
৪৭. সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া।
৪৮. সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া।
৪৯. মিথ্যা কথা বলা।
৫০. মিথ্যা কসম খাওয়া।
৫১. মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা।
৫২. গিবত বা পরনিন্দা করা।
৫৩. চুগলখোরি করা অর্থাৎ একজনের কথা অন্যজনকে লাগিয়ে ঝগড়া বাধানো।
৫৪. অহংকার ও দম্ভ প্রদর্শন করা।
৫৫. আত্মহত্যা করা।
৫৬. মদ বা যেকোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা।
৫৭. মদ প্রস্তুত, পরিবহন ও প্রচারে অংশগ্রহণ করা।
৫৮. ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা।
৫৯. মানুষের গোপন কথা আড়ি পেতে শোনা।
৬০. অঙ্গীকার পূরণ না করা (প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ)।
পোশাক ও বাহ্যিক অবয়ব-সংক্রান্ত
৬১. পুরুষের টাকনুর নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরা।
৬২. পুরুষের জন্য রেশমি পোশাক ও স্বর্ণ পরিধান করা।
৬৩. পুরুষের নারী বেশ ধারণ করা।
৬৪. নারীর পুরুষ বেশ ধারণ করা।
৬৫. সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে ভ্রু চিকন করা বা প্লাক করা।
৬৬. আলগা চুল বা পরচুলা লাগানো।
৬৭. উলকি আঁকা বা শরীরে ট্যাটু করানো।
৬৮. দাঁত চিকন বা ফাঁকা করা (সৌন্দর্যের জন্য)।
৬৯. সুগন্ধি মেখে পরপুরুষের সামনে নারীর চলাফেরা করা।
৭০. বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকানো।
বিবিধ ও বিচার বিভাগীয় গুনাহ-সংক্রান্ত
৭১. আল্লাহর বিধান ব্যতিরেকে বিচার-ফয়সালা করা।
৭২. ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যায় বিচার করা।
৭৩. পরীক্ষায় নকল করা।
৭৪. মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া।
৭৫. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা।
৭৬. কোনো অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া।
৭৭. অস্ত্র দ্বারা ভয় দেখানো বা কাউকে ইঙ্গিত করা।
৭৮. খেলার ছলে কোনো প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু বানানো।
৭৯. পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা।
৮০. নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাতায়াত করা।
৮১. পথিককে নিজের কাছে থাকা অতিরিক্ত পানি না দেওয়া।
৮২. মুসলিম শাসকের আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা।
৮৩. বিদআতের প্রতি আহ্বান করা বা ভ্রান্ত মতবাদ ছড়ানো।
৮৪. নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবি করা।
৮৫. অহেতুক মানুষকে লানত বা অভিশাপ দেওয়া।
৮৬. আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা।
৮৭. স্ত্রীর পায়ুপথে যৌনক্রিয়া করা।
৮৮. কবরকে সেজদার স্থান বা মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা।
৮৯. মনিবের কাছ থেকে কৃতদাসের পলায়ন।
৯০. বিশ্বাসভঙ্গ করা (বিশ্বাসঘাতকতা)।
৯১. বদমেজাজি হওয়া এবং উপদেশ গ্রহণ না করা।
৯২. তাবিজ-কবজ বা সুতা ঝোলানো (শিরকের নিয়তে)।
৯৩. পাপিষ্ঠ ও অপরাধীদের ভালোবাসা ও সমর্থন করা।
৯৪. মানুষের ছবি বা মূর্তি তৈরি করা।
৯৫. আমানত হিসেবে রাখা সম্পদ অস্বীকার করা।
৯৬. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া।
৯৭. আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেকে নিরাপদ ভাবা।
৯৮. বিনা কারণে মুসলিমকে কাফের বলা।
৯৯. ইচ্ছাকৃতভাবে কোরআন ভুলে যাওয়া (শিখে অবহেলা করা)।
কবিরা গুনাহ কেবল তাওবায়ে নাসুহা বা খাঁটি তওবার মাধ্যমে মাফ হয়। এর জন্য প্রয়োজন:

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২ ঘণ্টা আগে
উপমহাদেশের ইসলামি চিন্তাধারা ও আধ্যাত্মিক সংস্কারের ইতিহাসে মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.) এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৮৬৩ সালে (১২৮০ হিজরি) ভারতের উত্তর প্রদেশের থানা ভবনে জন্মগ্রহণকারী এই মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন একাধারে মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সমাজসংস্কারক।
২০ ঘণ্টা আগে
রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় অসুস্থতার প্রয়োজনে চোখ, কান বা নাকে ড্রপ বা ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় আমরা দ্বিধায় ভুগি যে এতে রোজা ভেঙে যাবে কি না। ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এই মাসআলাগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
২০ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে