Ajker Patrika

রমজানের ধারাবাহিকতায় শাওয়ালে যেসব রোজা রাখবেন

যাকারিয়া মাহমুদ
রমজানের ধারাবাহিকতায় শাওয়ালে যেসব রোজা রাখবেন
শায়খ ইবনুল আরাবি মসজিদ, সিরিয়া। ছবি: সংগৃহীত

শাওয়াল মাস নফল ইবাদতের মোক্ষম সময়। কারণ, রমজানে তাকওয়ার যে বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা বিস্তার হয় অন্তরে, শাওয়ালে তা থাকে সতেজ, সজীব। ফলে এ মাসের নফল ইবাদতে ইখলাসের গভীরতা থাকে অন্য মাসের তুলনায় বেশি। এ ছাড়া রমজানে অর্জিত তাকওয়া শাণিত করে এ মাসের নফল ইবাদত।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘এবং যখন তুমি (ফরজ ইবাদত থেকে) অবসর হবে। (নফল ইবাদতের মাধ্যমে) তোমার রবের দিকে মনোনিবেশ করো।’ (সুরা ইনশিরাহ: ০৮)

শাওয়ালের ছয় রোজা

শাওয়ালের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো—ছয় রোজা। নফল নামাজ যেমন ফরজ নামাজের ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ। রমজানের ফরজ রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণও শাওয়ালের ছয় রোজা। রোজা ছয়টি রাখতে পারা বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার। তদুপরি রমজানের রোজা কবুল হওয়ারও আলামত বিশেষ।

রাসুল (সা.) নিজে এই ছয় রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও নির্দেশ দিতেন। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে রমজানের রোজা পূর্ণ করে, অতঃপর শাওয়ালের ছয় রোজা রাখে—সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৬৪৮)

সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের রোজা দশ মাসের রোজার সমান। আর শাওয়ালের ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান। সুতরাং এই হলো পূর্ণ এক বছরের রোজা।’ (সুনানে নাসায়ি: ২/১৬২)

আইয়ামে বিজের রোজা

শাওয়াল মাসে নফল ইবাদত হিসেবে আইয়ামে বিজের রোজাও রাখা যেতে পারে। আইয়ামে বিজ বলা হয় চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে। নবীজি (সা.) প্রতি মাসে এই তিন দিন রোজা রাখতেন। সাহাবিদেরও রাখার উপদেশ দিতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-কে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে আবদুল্লাহ, তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা নেক আমলের পরিবর্তে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকি। এভাবে সারা বছরের রোজা (রাখার সওয়াব) হয়ে যায়।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৬১৯)

রমজানের কাজা রোজা

রমজানের রোজা প্রাপ্তবয়স্ক নরনারীর ওপর ফরজ। কেউ ইচ্ছাকৃত বা শরিয়ত-সমর্থিত কোনো কারণ ছাড়া রোজা ভাঙলে, তার ওপর কাফফারা আবশ্যক। এ বিধান স্বতঃসিদ্ধ। তবে কেউ শরিয়ত-সমর্থিত অপারগতায় রোজা ভাঙলে, কাজা আদায় করলেই যথেষ্ট হবে। শরিয়ত-সমর্থিত অপারগতা হলো, নারীদের ঋতুস্রাব ও প্রসব-পরবর্তী স্রাবকাল, সফর, রোজার কারণে প্রাণঘাতী রোগের আশঙ্কা, গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতির ভয়, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা ইত্যাদি।

রমজানের কাজা রোজা যেকোনো মাসেই আদায় করা যায়। তবে যথাসাধ্য দ্রুত অর্থাৎ শাওয়ালে আদায় করে নেওয়াই উত্তম। কেননা, কাজা ইবাদত আদায়ে যত দেরি হয়, আলস্য ততই বাড়ে। অলসতা এক নিন্দিত অভ্যাস। আল্লাহ তাআলা মুনাফেকের আলামত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘এবং তারা নামাজে আসে অলস অবস্থায়’ (সুরা তাওবা: ৫৪)

রমজানের রোজা যেহেতু নামাজের মতোই ফরজ বিধান, তাই এ ক্ষেত্রেও অলসতা কাম্য নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘রাফার আব্বু ওঠো, তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো?’

হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে সমুদ্রপৃষ্ঠে অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানের চমক পানির নিচে

কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে ওঠা বাস আধা কিমি টেনে নিয়ে গেল ট্রেন, নিহত ১২

ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: যে কোম্পানির বাস চালান পিন্টু, সেটির বাসেই প্রাণ গেল স্ত্রী ও দুই মেয়ের

জীবননগরে শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত