
ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে যেসব মনীষী তাঁদের মেধা ও গবেষণার মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) অন্যতম। তিনি একাধারে শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ ও আইনবিদ। তাঁর পাণ্ডিত্য ও অবদানের কারণে তাঁকে আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস বা হাদিসশাস্ত্রের সেনাপতি বলা হয়।
ইমাম ইবনে হাজারের পুরো নাম আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলি আল-আসকালানি। তিনি মিসরের কায়রোতে ৭৭৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি পিতৃহারা হন, কিন্তু তাঁর মেধা ছিল প্রবাদপ্রতিম। বিখ্যাত পণ্ডিত জাকিস আল-খারুবির তত্ত্বাবধানে তিনি অত্যন্ত অল্প বয়সে কোরআন, হাদিস, ফিকহ ও সাহিত্যে অগাধ জ্ঞান অর্জন করেন।
ইমাম ইবনে হাজারের সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো ‘ফাতহুল বারি’। এটি ইমাম বুখারির সহিহুল বুখারির সবচেয়ে প্রামাণ্য ও গভীরতম ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) তৎকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেন।
তিনি প্রায় ১৫০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা আজ অবধি মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠ্য হিসেবে সমাদৃত। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো:
তিনি কেবল লেখকই ছিলেন না, বরং ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। কায়রোর বিশ্বখ্যাত জামে আল আজহারসহ অনেক প্রসিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি হাদিস ও ফিকহের পাঠদান করতেন। তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত মার্জিত ও গভীর। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত শিক্ষক কেবল তথ্য দেন না, বরং ছাত্রের মনন ও চরিত্র গঠন করেন। এ কারণেই তাঁকে শিক্ষকদের শিক্ষক বলা হয়।
ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ৮৫২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—কীভাবে কঠোর পরিশ্রম ও একনিষ্ঠতা একজন মানুষকে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় করে রাখতে পারে। হাদিসশাস্ত্রের শুদ্ধতা রক্ষায় তাঁর অবদান কিয়ামত পর্যন্ত অম্লান থাকবে।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ ঘণ্টা আগে
ক্ষমা একটি উচ্চতর মানবিক গুণ। পবিত্র কোরআনের বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো অন্যকে ক্ষমা করার মানসিকতা রাখা। ক্ষমার এই গুণ মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী (সা.)-কে অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং মুমিনদের জন্য একে জান্নাত লাভের অছিলা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
১৮ ঘণ্টা আগে
জায়েদের কথায় মুহাম্মদ (সা.)-এর হৃদয় ভরে গেল। ভালোবাসার গভীর স্রোত তাঁর চোখে জল এনে দিল। তিনি জায়েদকে নিয়ে কাবার চত্বরে গেলেন, কুরাইশদের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন, ‘হে মক্কাবাসী, তোমরা শুনে রাখো, জায়েদ আজ থেকে মুক্ত। শুধু মুক্তই নয়—সে আমার সন্তান। সে আমার ওয়ারিশ, আমি তাঁর ওয়ারিশ।’
১৯ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজান মাস মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল। এই মাসে প্রতিটি আমলের প্রতিদান আল্লাহ তাআলা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। রোজা পালনকালে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু শারীরিক বিষয় নিয়ে আমরা সংশয়ে ভুগি। এর মধ্যে অন্যতম হলো—রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হওয়া।
২০ ঘণ্টা আগে