রমজান তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। মহান আল্লাহ এই মাসে লাইলাতুল কদর দান করেছেন, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। তবে স্রেফ পানাহার থেকে বিরত থাকাই রমজানের সার্থকতা নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা এবং সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি: ১৯০৩)
নিচে রমজানে বর্জনীয় ও নিন্দনীয় ১০টি কাজ নিয়ে আলোচনা করা হলো:
১. ইচ্ছা করে রোজা ভাঙা: রোজা রাখা অবস্থায় ইচ্ছা করে পানাহার বা স্ত্রী সহবাস করলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হন এবং রোজার কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হয়।
২. মিথ্যা বলা ও পাপাচার: মিথ্যা বলা কেবল গোনাহই নয়, এটি রোজার আধ্যাত্মিক সওয়াবকে ধূলিসাৎ করে দেয়। অনেক রোজাদার এমন আছে, যাদের ভাগ্যে ক্ষুধা ও পিপাসা ছাড়া আর কিছুই জোটে না, কারণ তারা তাদের জবানকে নিয়ন্ত্রণ করে না।
৩. গিবত ও পরনিন্দা: গিবত বা অন্যের অগোচরে তার দোষ চর্চা করাকে কোরআন মাজিদে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রোজা রেখে গিবত করা নৈতিক বিকৃতি এবং জঘন্য অপরাধ।
৪. অশ্লীলতা ও কুদৃষ্টি: রমজানে চোখ, কান এবং অন্তরের রোজা রাখা অপরিহার্য। টিভি, মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীল কনটেন্ট দেখা এবং কুদৃষ্টি দেওয়া সিয়ামের মূল চেতনা তাকওয়ার পরিপন্থী। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন কোনো অশ্লীল কাজের নিকটেও যেও না।’ (সুরা আনআম: ১৫১)
৫. নামাজে অবহেলা করা: নামাজ ইসলামের মূল স্তম্ভ। রোজা রেখে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তারাবি ত্যাগ করা চরম বোকামি। নবীজি (সা.) বলেছেন, নামাজ হলো গুনাহ মোচনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
৬. হারাম উপার্জন ও সিন্ডিকেট: হারাম উপার্জনের সেহরি বা ইফতার—রোজার বরকত নষ্ট করে। বিশেষ করে রমজানে পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা চড়া দামে বিক্রি করা অভিশপ্ত কাজ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তাকে দারিদ্র্য দিয়ে শাস্তি দেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২২৩৮)
৭. রিয়া বা লোক দেখানো আমল: ইফতার করানো, দান-সদকা বা জাকাত দেওয়ার সময় লোক দেখানোর মানসিকতা থাকলে সেই আমল আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। রিয়াকে হাদিসে ‘শিরকে আসগর’ বা ছোট শিরক বলা হয়েছে।
৮. ইফতারে অপচয় ও বিলাসিতা: রমজান হলো সংযমের মাস, ভোজনের উৎসব নয়। ইফতারের নামে বাহারি খাবারের অপচয় করা শয়তানের স্বভাব। কোরআন বলে, ‘নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৭)
৯. ইবাদতে অসতর্কতা: ইফতার পার্টি, রাতভর আড্ডা এবং শপিংয়ের মোহে পড়ে তারাবি ও শেষ রাতের ইবাদত (তাহাজ্জুদ) অবহেলা করা ঠিক নয়। রমজানের মূল উদ্দেশ্য হলো ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা, কেবল সামাজিক ব্যস্ততা নয়।
১০. মূল্যবান সময়ের অপচয়: রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত অন্য সময়ের চেয়ে লক্ষগুণ দামি। এ মাসে সিনেমা, গেম বা অকারণে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করা এক অপূরণীয় ক্ষতি। যে এই মাসে নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, তার চেয়ে হতভাগা আর কেউ নেই।
রমজান আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার মাহেন্দ্রক্ষণ। তাই এই পবিত্র মাসে ইচ্ছা করে রোজা ভঙ্গ, মিথ্যা, গিবত, অশ্লীলতা, অপচয় এবং সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৩ ঘণ্টা আগে
জীবন চলায় বিপদ বা সমস্যা কখনো বলে আসে না। যেকোনো মুহূর্তে মানুষ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। অনেক সময় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি, ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। কিন্তু ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে—কীভাবে বিপদে ধৈর্য ধরে আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হয়।
২০ ঘণ্টা আগে
ব্রিটিশ ভারতের প্রখ্যাত হানাফি আলেম, হাদিস বিশারদ ও আধ্যাত্মিক সাধক মাওলানা খলিল আহমাদ সাহারানপুরি (রহ.) ছিলেন দেওবন্দি আন্দোলনের প্রথম প্রজন্মের অন্যতম প্রাণপুরুষ। তাঁর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের সুবাস আজও সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে আছে।
২১ ঘণ্টা আগে
শুকনো বালির রাজ্যে দিগন্তরেখা পর্যন্ত কেবল ধু-ধু প্রান্তর। ধূসর পাহাড় আর রুক্ষ পাথুরে মাটির বুক চিরে এঁকেবেঁকে চলে গেছে পথ। সেই পথে হেঁটে চলেছে একদল মুসাফির। তাঁরা প্রিয় নবী (সা.)-এর শহর মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত করছে। তাঁদের গোত্রের নাম আশআরি। তাঁদের নেতৃত্বে আছেন হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.)।
২১ ঘণ্টা আগে