
বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ। ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে বাংলাদেশে ডব্লিউএইচও’র উপপ্রতিনিধি ছিলেন। জনস্বাস্থ্যে তাঁর অভিজ্ঞতা ১৮ বছরের বেশি। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ডব্লিউএইচওর সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা, ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, ওয়ান হেলথ পদ্ধতি, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) এবং সাম্প্রতিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ।
আপনি বাংলাদেশে ডব্লিউএইচও-এর কান্ট্রি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে এখানে ডেপুটি প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। এই অভিজ্ঞতা কীভাবে বর্ণনা করবেন? বাংলাদেশের কোন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বাস্তবতা আপনার চোখে বেশি পড়েছে?
বাংলাদেশে আমার সময় অত্যন্ত উপভোগ্য ছিল। ২০২১ ও ২০২২ সালে উপপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন—সেই সময় মহামারির মধ্যবর্তী সময় চলছিল। বাংলাদেশের মানুষের উষ্ণতা এবং আতিথেয়তা আমি উপভোগ করেছি। তাঁরা খুব বন্ধুবৎসল এবং অতিথিপরায়ণ। স্বাস্থ্য খাতের দিক থেকে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দুটি বিপরীতধর্মী চিত্র লক্ষ্য করা যায়। একদিকে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন—মানুষের আয়ু বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু ও শিশু বা নবজাতক মৃত্যুহার হ্রাস, এবং পোলিও, লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস ও কালাজ্বরসহ বহু রোগের নির্মূল বা নিয়ন্ত্রণ। অন্যদিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ, স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ওষুধ ও রোগ নির্ণয়ের সীমিত প্রাপ্যতা। ভালো দিক এবং চ্যালেঞ্জ—উভয়ই একসঙ্গে বিদ্যমান।
জনস্বাস্থ্য নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কাজ করে। বর্তমানে কোন কোন স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশি মনোযোগের দাবি রাখে এবং কোথায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে?
ডব্লিউএইচও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে নীতি সহায়তা, কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরও অনেক ক্ষেত্র। ডব্লিউএইচও’র সক্ষমতা অনুযায়ী ও দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষভাবে দুটি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। প্রথমটি হলো—সরকারকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে সহায়তা করা। যাতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয় এবং কেউ পিছিয়ে না পড়ে। এই বিষয়ে ডব্লিউএইচও সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। দ্বিতীয়টি হলো—দেশে অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি এবং তা মোকাবিলা করায় নজর দেওয়া।
বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। ডব্লিউএইচও’র দৃষ্টিকোণ থেকে এসব রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রধান ঘাটতিগুলো কী এবং এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ডব্লিউএইচও কীভাবে সহায়তা করছে?
তথ্য দেখাচ্ছে—এটি শুধু দেশীয় নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক একটি অবস্থা। বর্তমানে বাংলাদেশে ৭১ শতাংশ মৃত্যু অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে। প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ১১ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অনেক মানুষ এখনো শনাক্তের আওতায় আসেননি। অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির কারণগুলো বিস্তারের প্রবণতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন ধূমপান বা অন্য কোনো রূপে তামাক গ্রহণ করেন। ৯৬ শতাংশ মানুষ সুপারিশকৃত পাঁচটি ফল ও সবজি গ্রহণ করেন না। মানুষ সুপারিশকৃত মাত্রার প্রায় দ্বিগুণ লবণ গ্রহণ করছেন। প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়। কিশোরদের মধ্যে এই হার আরও বেশি—৬৬ শতাংশ শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়। চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজনের ওজন অতিরিক্ত, এবং জনসংখ্যার ৫ শতাংশ স্থূল। এসব ঝুঁকি বৃহত্তর সমস্যার প্রতিফলন, যেমন জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রভাব। তাই নীতি, আইন ও কর্মসূচিভিত্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
একই সময়ে সংক্রামক রোগ এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সও বড় উদ্বেগের বিষয়। এসব সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত এবং নজরদারি ও পদক্ষেপ জোরদারে ডব্লিউএইচও কী ভূমিকা রাখছে?
বাংলাদেশ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। বহু বছর ধরে পোলিও নির্মূল রয়েছে, এ ছাড়া আরও অনেক রোগ নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে কালাজ্বর নির্মূল করেছে। এসব প্রমাণ করে দেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করতে সক্ষম। বর্তমানে যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আরও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। ম্যালেরিয়া, কুষ্ঠ বা যক্ষ্মার মতো রোগের ক্ষেত্রে ‘মিশন-মোড’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়, যাতে রোগের অবশিষ্ট পকেটগুলো চিহ্নিত করে নির্মূল করা যায়। ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার মতো ক্রমবর্ধমান রোগের জন্য বহু খাতভিত্তিক পদ্ধতি প্রয়োজন, যেখানে স্বাস্থ্য খাত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান অংশে কাজ করবে এবং স্থানীয় সরকারসহ অন্যান্য খাত ভেক্টর নিয়ন্ত্রণে অংশ নেবে। ডব্লিউএইচও সরকারকে কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, নজরদারি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সও বৈশ্বিক সমস্যা, যেখানে ডব্লিউএইচও সরকারকে নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধেও রেজিস্ট্যান্সের মাত্রা উদ্বেগজনক। এটি মোকাবিলা করতে সরকার, সরকারি-বেসরকারি খাত এবং একাডেমিয়ার সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
টিকাদানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জনস্বাস্থ্য সাফল্য। বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রমে কী চ্যালেঞ্জগুলো (সংকট) রয়েছে এবং ডব্লিউএইচও কীভাবে টিকা কার্যক্রমে ও জনগণের আস্থা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে?
টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে একটি চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। অনেক টিকার ক্ষেত্রে কাভারেজ ৯০ শতাংশেরও বেশি। এটি সম্ভব হয়েছে সরকারের দৃঢ় ও টেকসই অঙ্গীকার এবং বিনিয়োগের কারণে। পাশাপাশি গ্যাভি (গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন)-এর আর্থিক সহায়তা এবং ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও অন্য অংশীদারদের সমর্থনের মাধ্যমে। ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—গ্যাভি সহায়তা থেকে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নভিত্তিক কর্মসূচিতে রূপান্তর, যা ২০২৯ সালের পর ঘটবে। এই রূপান্তরের জন্য প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও সামগ্রিক কাভারেজ ভালো, তবুও কিছু এলাকায় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইনে দেখা গেছে—ঢাকার মতো শহরে উচ্চ কাভারেজ অর্জন করা কতটা কঠিন। গ্রামীণ, দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। টিকা দিয়ে প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে সব জনগোষ্ঠীতে টেকসই উচ্চ কাভারেজ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ডব্লিউএইচও জাতীয় টিকাদান প্রোগ্রামকে নীতি-নির্দেশনা ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে আসছে, যেমন পর্যবেক্ষণ শক্তিশালী করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রোগ্রাম আধুনিকায়ন। সাম্প্রতিক সময়ে চালু করা প্ল্যাটফর্মগুলো বিদ্যমান ফাঁকগুলো মোকাবিলা করতে এবং বাংলাদেশকে টিকাদানে একটি উচ্চ কর্মক্ষম দেশ হিসেবে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত কারণগুলো বাংলাদেশে স্বাস্থ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ফেলছে—হিট স্ট্রেস (দাবদাহ) থেকে রোগ প্রাদুর্ভাব পর্যন্ত। ডব্লিউএইচও দেশে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্য উদ্যোগ কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করছে?
বাংলাদেশ শুধু অঞ্চলে নয়, বৈশ্বিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে একটি। আমরা সরকারের সঙ্গে যে সমর্থন ও কাজ করছি, তা মূলত স্বাস্থ্যব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানো, স্বাস্থ্য খাতের পরিবেশগত প্রভাব কমানো এবং সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। আমরা সরকারের সহায়তায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করছি। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাস্থ্যকর্মীদের জলবায়ু পরিবর্তন বা চরম আবহাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আমরা সরকারের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে কার্বন নির্গমন মূল্যায়ন করেছি, যার মধ্যে প্রাথমিক, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত, এবং এগুলো কমানোর জন্য একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এগুলো হলো—সরকার, ডব্লিউএইচও এবং অন্যান্য অংশীদারদের সহায়তায় গ্রহণ করা উদ্যোগ। যা স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু পরিবর্তন ও ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যা মোকাবিলা করতে, আমরা কেবল প্রতিকারমূলক পরিকল্পনা নয়, প্রতিক্রিয়ার (পদক্ষেপ) পরিকল্পনাও হাতে রাখি।
ওয়ান হেলথ পদ্ধতি বিশ্বে এবং বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জুনোটিক রোগ প্রতিরোধে। ডব্লিউএইচও কীভাবে বিভিন্ন খাতের সঙ্গে কাজ করে ওয়ান হেলথ বাস্তবায়ন করছে—শুধু নীতি নয়, বাস্তব ক্ষেত্রে?
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ওয়ান হেলথের অংশ থাকা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বন মন্ত্রণালয়, পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অংশীদার সংস্থা। আমরা একসঙ্গে জুনোটিক রোগের ক্ষেত্রে যৌথ প্রাদুর্ভাব পর্যালোচনা (নজরদারি বা তদন্ত) সম্পাদনে সহায়তা করছি। এই ধরনের যৌথ তদন্তে অবশ্যই পশুপালন খাত ও মানবস্বাস্থ্য খাত উভয়কেই অংশগ্রহণ করতে হয়। আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রশিক্ষণ এবং সমন্বিত পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও সহায়তা করছি। সমন্বিত পর্যবেক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যেখানে আমরা পশু খাতের জন্যও শক্তিশালী নজরদারির ব্যবস্থা তৈরি করছি। অনেক সময় এই রোগগুলো মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পশু ও মানুষের উভয় রোগকে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই উদ্যোগগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সহায়তা করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। পশু খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার মানবস্বাস্থ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের উত্থান বা বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এটি ওয়ান হেলথের আরেকটি ক্ষেত্র, যেখানে আমরা একে অপরকে সমর্থন করি এবং সমন্বয় করি।
স্বাস্থ্যের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছয়টি মূল ফাংশন বা কৌশল কার্যক্রম রয়েছে। যেমন কৌশলগত নির্দেশনা প্রদান, মান নির্ধারণ এবং স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে কোন কার্যক্রমটির স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব দেখা গেছে?
আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করেছি এবং এর সব বিষয়েই প্রভাবও দেখা গেছে। কিন্তু বিশেষভাবে আমি গত দেড় বছরে সরকারের সঙ্গে আমাদের যে কাজগুলো হয়েছে তা তুলে ধরতে চাই, যা মূলত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উন্নয়নের। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মী কৌশল, স্বাস্থ্য অর্থায়ন কৌশল, ডিজিটাল স্বাস্থ্য কৌশল এবং সুস্থ বয়সকালের কৌশল (হেলথ এজিং স্ট্র্যাটেজি)। এগুলো সবই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কৌশলগত নথি, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং দেশের সক্ষমতা তৈরি করার দিকে মনোযোগ দেয়। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করেছি। অনেক বছর পর হালনাগাদ হয়েছে। এ ছাড়াও ওষুধ ও টিকা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছি, যাতে টিকা নিয়ন্ত্রণে তৃতীয় স্তরের সক্ষমতা অর্জন করা যায়। এটি বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, কারণ দেশে ওষুধ ও টিকা উৎপাদনের বিশাল সক্ষমতা রয়েছে। জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার শক্তিশালীকরণ নিশ্চিত করবে যে দেশে উৎপাদিত ওষুধ ও টিকার মান গ্রহণযোগ্য স্তরে রয়েছে। বিষয়টি এই খাতে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে।
মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এখনো অসম, বিশেষত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য। বাংলাদেশের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো কী? ডব্লিউএইচও স্বাস্থ্যব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে কীভাবে সহায়তা করছে?
আমরা আগেও কিছু এই ধরনের সমস্যার কথা আলোচনা করেছি, যেমন স্বাস্থ্য খাতে কম বিনিয়োগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি। এই সমস্যাগুলো এখন সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর প্রভাব ফেলছে। উদাহরণস্বরূপ—২০২৪ সালে বাংলাদেশের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার সূচক মাত্র ৫৪, যা আঞ্চলিক মানের তুলনায় অনেক কম। স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৩ শতাংশ মানুষের নিজ পকেট থেকে যায়, যা উচ্চ আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার। ফলে প্রায় ৭ কোটি মানুষ আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। অনেককে স্বাস্থ্যসেবার খরচ মেটাতে তাদের জমি বা অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কম বিনিয়োগ এবং বরাদ্দের দুর্বল ব্যবহার সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। অর্থাৎ শুধু বাজেট কম নয়, বরাদ্দও যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাজেটের দক্ষ ব্যবহার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি অপরিহার্য। আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি হাসপাতালের প্রায় ৫০ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের অভাব রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা সরকারের সঙ্গে কাজ করছি, যেমন স্বাস্থ্য জনবল কৌশল তৈরি, জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ ও শক্তিশালীকরণ।
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো কী বলে আপনি মনে করেন? ডব্লিউএইচও কীভাবে দেশকে এগুলো মোকাবিলায় সহযোগিতা করবে?
বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর কাজ ডব্লিউএইচও-এর গ্লোবাল প্রোগ্রাম অব ওয়ার্ক (জিপিডব্লিউ ১৪)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যা ২০২৫–২০২৮ সালের জন্য প্রযোজ্য। এই কাঠামোর মধ্যে আমরা একটি ‘কান্ট্রি কো-অপারেটিভ স্ট্র্যাটেজি’ তৈরি করব, যেখানে ডব্লিউএইচও, সরকার এবং অন্যান্য অংশীজন একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বিষয় ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করবে এবং দেশের কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের কাজের মনোযোগ থাকবে তা নির্ধারণ করবে। জিপিডব্লিউ ১৪ অনুযায়ী আমরা স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, সেবা প্রদান এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমর্থন দিচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য প্রচার, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে পরিচালিত জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি। এই মূল ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের নজর থাকবে। এই বিস্তারিত পরিকল্পনা আমরা সরকারের সঙ্গে মিলিতভাবে তৈরি করব, কারণ কান্ট্রি কো-অপারেটিভ স্ট্র্যাটেজি এই বছরের মধ্যে তৈরি হবে; এটি একটি নতুন পাঁচ বছরের স্ট্র্যাটেজি, যেখানে আমরা প্রধান ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে সরকারের সঙ্গে কাজ করব। শেষ করার আগে একটি বিষয় জোর দিয়ে বলতে চাই—জাতীয় উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য সবশেষে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। স্বাস্থ্যবান জনগোষ্ঠী ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যকর কর্মীবাহিনী গঠন সম্ভব নয়, এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ছাড়া যুবসমাজ প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবে না। তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ যে দেশের সব রাজনীতিক স্বাস্থ্যকে জাতীয় উন্নয়ন অ্যাজেন্ডার শীর্ষ অগ্রাধিকারে রাখুক।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই আসন থেকে তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালেও এমপি হন। এবার বিএনপির সরকারে পেয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। মন্ত্রণালয় এবং নিজের কাজের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে।
২ দিন আগে
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ২০২১ সাল থেকে এই দায়িত্ব পালন করছেন। যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী তিনি। সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার যশোর প্রতিনিধি জাহিদ হাসানের সঙ্গে।
১৯ দিন আগে
বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসন বিএনপি তার জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দেওয়ায় এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ফলে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর জোটের প্রার্থী, এমনকি বিএনপিকেও আক্রমণ করছেন তিনি।
২৪ দিন আগে
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তিনি। এ ছাড়া এরশাদের নামে প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তিনি। গত মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের...
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬