
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইরানে ‘চূড়ান্ত আঘাত বা ফাইনাল ব্লো’র জন্য সামরিক বিকল্পগুলো যাচাই করে দেখছে। এই বিকল্পগুলোর মধ্যে দেশটিতে সরাসরি স্থলবাহিনীর ব্যবহার এবং ব্যাপক বোমা হামলা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন সূত্ররা জানিয়েছে, যদি কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হয় এবং বিশেষ করে যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকে, তবে সামরিক উত্তেজনার সম্ভাবনা আরও বাড়বে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তার ধারণা, যুদ্ধ শেষ করতে শক্তির এমন বিধ্বংসী প্রদর্শন শান্তি আলোচনায় বাড়তি সুবিধা দেবে অথবা ট্রাম্পকে বিজয়ী ঘোষণা করার একটি সুযোগ করে দেবে।
যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে বিষয়ে ইরানেরও ভূমিকা রয়েছে। তাই বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে আলোচিত অনেকগুলো বিকল্প পরিস্থিতিই যুদ্ধকে নাটকীয়ভাবে শেষ করার পরিবর্তে উল্টো দীর্ঘস্থায়ী ও আরও তীব্র করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ট্রাম্পের সামনে চারটি প্রধান বিকল্প
ফাইনাল ব্লো বা চূড়ান্ত আঘাতের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সামনে চারটি বিকল্প আছে। তিনি এগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক বেছে নিতে পারেন।
১. ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ আক্রমণ বা অবরোধ করা।
২. লারাক দ্বীপ দখল করা, যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করতে সাহায্য করে। এই কৌশলগত ঘাঁটিতে ইরানের বাংকার, কার্গো জাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম অ্যাটাক ক্র্যাফট এবং রাডার ব্যবস্থা রয়েছে।
৩. কৌশলগত আবু মুসা দ্বীপ এবং আরও দুটি ছোট দ্বীপ দখল করা। এগুলো হরমুজ প্রণালির পশ্চিম প্রবেশদ্বারের কাছে অবস্থিত, যা বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের বলে দাবি করে।
৪. হরমুজ প্রণালির পূর্ব পাশে ইরান থেকে তেল রপ্তানিকারী জাহাজগুলো আটকে দেওয়া বা জব্দ করা।
এ ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে গভীরে স্থল অভিযানের পরিকল্পনাও প্রস্তুত করেছে, যাতে পারমাণবিক স্থাপনার ভেতরে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ করা যায়। এমন জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র সেই স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালাতে পারে, যাতে ইরান কখনোই ওসব পদার্থের নাগাল না পায়।
ট্রাম্প এখনো এই পরিস্থিতিগুলোর কোনোটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য যেকোনো স্থল অভিযানকে হাইপোথেটিক্যাল বা অনুমাননির্ভর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় দ্রুত কোনো দৃশ্যমান ফলাফল না এলে তিনি উত্তেজনা বাড়াতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প প্রথমে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি স্থাপনায় বোমা মারার হুমকি কার্যকর করতে পারেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে আরও শক্তিশালী সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ফাইটার জেট স্কোয়াড্রন এবং হাজার হাজার সৈন্য অন্তর্ভুক্ত। এই সপ্তাহে একটি মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট পৌঁছাবে এবং অন্যটি মোতায়েনের পথে রয়েছে।
এ ছাড়া ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ড এলিমেন্টকে কয়েক হাজার সৈন্যের একটি পদাতিক ব্রিগেডের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানে চলমান যুদ্ধে কোনো স্থল সৈন্যের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি আরও বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য অর্জনে মাসের পর মাস নয়, আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। আজ শুক্রবার ফ্রান্সে জি-৭ জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
৩৩ মিনিট আগে
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যয় হওয়ায় ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে বলে মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে, পেন্টাগন এখন তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মজুত করা অস্ত্র ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে কিয়েভের জন্য...
৪৩ মিনিট আগে
ইরানে হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া সংঘাত থামাতে কূটনীতির ওপরই এখন বেশি জোর দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য ইরানের বৈদ্যুতিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এসে সমঝোতার জন্য আর ১০ দিন সময় দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ইরান ইস্যুতে ধনী দেশগুলোর জোট জি৭-এর নেতাদের সঙ্গে....
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের আশা-ভয়, অনিশ্চয়তা ও দৈনন্দিন জীবনের প্রতিফলন অপ্রত্যাশিতভাবে উঠে এসেছে এক ব্যতিক্রমী ডায়েরিতে। এই ডায়েরির লেখক আর দশজন সাধারণ নাগরিক নন—তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান।
২ ঘণ্টা আগে