Ajker Patrika

ইরানের ইউরেনিয়াম মাটির অনেক গভীরে—বোল পাল্টালেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ৩৪
ইরানের ইউরেনিয়াম মাটির অনেক গভীরে—বোল পাল্টালেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে নিজের অবস্থান থেকে নাটকীয়ভাবে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অজুহাত হিসেবে তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে এত দিন সামনে আনলেও এখন ট্রাম্প দাবি করছেন, তিনি এটি নিয়ে মোটেও ‘পরোয়া করেন না’।

গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘ওটা মাটির অনেক গভীরে, আমি ওসবের পরোয়া করি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সেদিকে নজর রাখব।’ অথচ এক দিন আগেও তিনি যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হিসেবে ‘ইরানি শাসনের পতন’ ও ‘পারমাণবিক সক্ষমতা নির্মূল’ করার কথা জোর দিয়ে বলেছিলেন।

আগেও একাধিকবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানি সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির মাত্র কয়েক সপ্তাহ দূরে রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প মাটির গভীর থেকে ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দের জন্য একটি সামরিক অভিযানের কথা ভাবছেন। গত রোববারও তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ইরানকে ‘‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’’ বা পারমাণবিক ধূলিকণা আমাদের হাতে তুলে দিতে হবে।’

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম মাটির নিচে লুকানো রয়েছে। এ ছাড়া ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ আরও প্রায় ২০০ কেজি ফিসাইল ম্যাটেরিয়াল রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বা চিকিৎসার জন্য এত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধকরণের প্রয়োজন নেই। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তেহরান এই ইউরেনিয়াম দিয়ে অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যা স্থল অভিযানের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তা এখন প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায়। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পেন্টাগনের কাজ হলো কমান্ডার-ইন-চিফকে সর্বোচ্চ বিকল্প দেওয়া। এর মানে এই নয়, প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন।

২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছিল, তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘বিধ্বস্ত’ করেছে। তবে আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বিশ্বাস করেন, ইসফাহান ও নাতানজের ভূগর্ভস্থ টানেলে এখনো ইউরেনিয়াম মজুত রয়ে গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত