Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহেও লোহিত সাগরে হুতিদের রহস্যময় নীরবতা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরান যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহেও লোহিত সাগরে হুতিদের রহস্যময় নীরবতা
লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়ালেও ইয়েমেনের হুন্ডি বিদ্রোহীদের অস্বাভাবিক নীরবতা মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এই গোষ্ঠী এত দিন লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেললেও, বর্তমান সংঘাতে তারা এখনো কোনো আক্রমণ চালায়নি।

বুধবার (১৮ মার্চ) আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পরপরই হুতিরা লোহিত সাগরে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ বাণিজ্য এই জলপথ দিয়ে পরিচালিত হয়। তাই হুতিদের হামলায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। ইউরোপ-এশিয়া রুটে বহু জাহাজ বাধ্য হয়ে আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ ঘুরে দীর্ঘ যাতায়াত শুরু করে। এর ফলে মিসরের সুয়েজ খাল আয় থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার কমে যায়।

তবে এবার চিত্র ভিন্ন। ইরানে হামলার জের ধরে লেবাননের হিজবুল্লাহ ইতিমধ্যে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং ইরাকভিত্তিক মিলিশিয়ারা যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। কিন্তু হুতিদের এই নীরবতা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে থাকতে পারে কৌশলগত ধৈর্য। আন্তর্জাতিক সংকট বিষয়ক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’-এর বিশেষজ্ঞ মাইকেল হান্না বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবে কারণ জানি না। তবে একটি সম্ভাবনা হলো, ভবিষ্যতে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরির জন্য হুতিদের এই হামলাকে সংরক্ষণ করে রাখছে ইরান।’

এদিকে পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখে ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে ইতিমধ্যেই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যদি লোহিত সাগরেও হামলা শুরু হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বড় ধাক্কা দিতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সম্ভাব্য সমঝোতা। মিসরের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক সামির রাঘেব মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের একটি অঘোষিত সমঝোতা থাকতে পারে, যা তাদের আপাতত হামলা থেকে বিরত রেখেছে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে হামলা চালালে তারা এই সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।’

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ চাপও একটি বড় কারণ হতে পারে। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের চাপে হুতিরা নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতেই ব্যস্ত বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে কায়রোভিত্তিক গবেষক সালমা হাসান মনে করেন, হুতিদের এই নীরবতার নেপথ্যে থাকতে পারে মোক্ষম সময় এবং কৌশলগত সংকেতের বিষয়। তিনি বলেন, ‘তারা সঠিক মুহূর্তের অপেক্ষায় আছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দেওয়া যায়।’

সব মিলিয়ে, হুতিদের এই নীরবতা আপাত স্বস্তি এনে দিলেও, এটি যে ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা নয়—তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুদ্ধ এড়াতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, ‘অভিভূত’ হয়েছিল ব্রিটিশরা

তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার প্রস্তুতি

অভিনেতা শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন, পরিবার দেশে ফিরলে দাফন

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, উত্তরের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পটিয়ায় ৩ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ১৫

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত