Ajker Patrika

মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যস্ত মার্কিন ঘাঁটি, তিন দেশে ১৬.৫ বিলিয়নে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যস্ত মার্কিন ঘাঁটি, তিন দেশে ১৬.৫ বিলিয়নে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর কাছে সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়া এসব দেশে মার্কিন স্থাপনা ও স্বার্থে ইরান ক্রমাগত আঘাত হানছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র সামরিক আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার সবচেয়ে বেশি চাপ এই দেশগুলোই বহন করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরটিএক্স করপোরেশন নির্মিত উন্নত রাডার ব্যবস্থা ‘লোয়ার টায়ার এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স সেন্সর’ (এলটিএএমডিএস) কুয়েতের কাছে ৮ বিলিয়ন ডলারে বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের এফ–১৬ লাইটনিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদ, থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রতিরোধী এফএস–এলডিএস সিস্টেম কেনার অনুমোদন পেয়েছে।

সাধারণত এ ধরনের অস্ত্র বিক্রয় কংগ্রেসের পর্যালোচনা, ক্রেতা দেশ ও নির্মাতাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়, যা বাস্তবায়নে বহু বছর লেগে যায়। কিন্তু রুবিও ঘোষণা দিয়েছেন, ‘একটি জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে অস্ত্রগুলো অবিলম্বে বিক্রি করা প্রয়োজন।’ এই ঘোষণার ফলে কংগ্রেসের ভূমিকা কার্যত এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জরুরি পরিস্থিতির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে বিমান হামলা দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতকে দ্রুত সহায়তা দিতে ওয়াশিংটন আগ্রহী। এছাড়া, জর্ডানের কাছেও প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদ বিক্রির অনুমোদনও অন্তর্ভুক্ত আছে এই ঘোষণায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি প্রায় ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঢেউ দেশটির স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা এতদিন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় আকর্ষণ ছিল।

বিদেশি সামরিক বিক্রয় সংক্রান্ত শর্তগুলো সম্ভাব্য চুক্তির সর্বোচ্চ সরঞ্জাম পরিমাণ ও মোট মূল্য নির্দেশ করে। এছাড়া বৃহস্পতিবারের ঘোষণায় জর্ডানের কাছে ৭০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান গোলাবারুদ বিক্রির অনুমোদনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘যুদ্ধের ব্যাপারে যদি আগে জানতাম, তাহলে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতাম’

ঈদের দিন সকালে ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা নিয়ে যা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর

ইরানের আকাশে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ মিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান

ইসরায়েলের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

‘আরটির সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি হামলা পরিকল্পিত’, কড়া প্রতিক্রিয়া রাশিয়ার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত