ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাগরিকদের ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অবস্থান, ছবি, ভিডিও অনলাইনে শেয়ার না করার নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত থাকায় এ ধরনের কনটেন্ট শত্রুপক্ষের উপকারে আসতে পারে বলে মনে করছে তারা।
এক্স হ্যান্ডলে সেনাবাহিনী আরও বলেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের সুরক্ষিত বাংকারে থাকতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে আইআরজিসি ষষ্ঠ ধাপে হামলা শুরু করেছে।
তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ‘বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন’ হামলা চালানো হয়েছে। ২৭টি মার্কিন ঘাঁটি, সেই সঙ্গে ইসরায়েলি তেল নফ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবের হাকিরিয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একই শহরের একটি বৃহৎ প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুবাই শহরে বেশ কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা গেছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলায় আরও আটজন আহত হয়েছেন, যার ফলে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে মোট আহতের সংখ্যা ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়াও বলা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় সীমিত পরিমাণে বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, উত্তর ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ড্রোনটি যে এলাকায় আঘাত হেনেছে সেখান থেকে ধোঁয়ার একটি বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

ইরাকের শিয়া নেতা মুক্তাদা আল সদর এক্স-এ এক বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ‘দুঃখ ও শোক, প্রকাশ করেছেন। তিনি ইরাকে তিন দিনের গণশোক ঘোষণা করেছেন।
ইরান ঘোষণা দিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের একজন আইনবিদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকবেন।
ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত অ্যাসেম্বলি অব লিডারশিপ এক্সপার্ট এখন খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগে উদ্যোগ নেবে। সংবিধান অনুসারে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি করতে হবে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের আক্রমণের মুখে জ্যেষ্ঠ নেতাদের এক জায়গায় জড়ো করাটা ইরানের জন্য কঠিন হবে।
এর আগে রুহুল্লাহ আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর দিনেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
আলী শামখানি এবং আইআরজিসির পাকপুর নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইরান।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলী শামখানি নিহত হয়েছেন।
সংবাদ সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুরও নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তাঁর মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন।
ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পর্কিত ফার্স নিউজ এজেন্সির মতে, খামেনির এক পুত্রবধূও নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে এবং কিছুক্ষণ আগে পশ্চিম ও মধ্য ইরানে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে আরেকটি হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী আইডিএফ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানে বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, সামরিক সদর দপ্তর এবং অন্যান্য ‘সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, গতকাল শনিবার ভোরে খামেনিকে তাঁর কার্যালয়েই হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় তিনি ‘তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে’ রত ছিলেন।

ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, আক্রমণাত্মক অভিযান ‘মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে’ শুরু হবে এবং এই অঞ্চলে ‘অধিকৃত অঞ্চল এবং আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হবে।

এই যুদ্ধের পরিণতি কেমন হবে তা এখন নির্ভর করছে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ ইরান কীভাব নেয় তার ওপর। খামেনির সমর্থকদের জন্য, অবশ্যই যারা উইলায়াত আল-ফকিহ-তে বিশ্বাস করেন, যা ইসলামী বিপ্লবের মূলনীতি, তাদের জন্য তিনি একজন প্রতীকে পরিণত হতে চলেছেন।
খামেনিকে এখন একটি শক্তিশালী প্রেরণার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। এই হত্যা সম্ভবত তাঁকে (রুহুল্লাহ) খোমেনির সমান স্তরে উন্নীত করবে। খোমেনি ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একজন বিপ্লবী।
এই উত্তরাধিকার বিবেচনা করলে আলী খামেনি এখন প্রায় খোমেনির সমান হয়ে যাবেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানি গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাঁর মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন একজন শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা।
ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্ভবত আর নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি, খামেনি আর বেঁচে নেই। তিনি শুধু বলেছেন, যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ক্রমেই আভাস স্পষ্ট হচ্ছে যে ইরানের ‘স্বৈরশাসক’ আর নেই।
বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এ তথ্য দাবি করেন নেতানিয়াহু। তবে ইরানের তরফ থেকে এ ব্যাপারে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট তথ্য আসেনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কী অবস্থায় আছেন, তা জানেন না দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব কী অবস্থায় আছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলার অবস্থানে তিনি নেই।
সমুদ্রপথে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
ইরানের প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনো জাহাজকেই এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত কৌশলগত পানিপথ হরমুজ প্রণালি। রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের পক্ষ থেকে এই পানিপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে প্রণালিটি বন্ধের বিষয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি সমুদ্রপথে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনে এই রুট সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। এই পথে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট স্যোসাইটি জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রাণহানী বেড়ে অন্তত ২০১ জন হয়েছে। দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিই শনিবার আক্রান্ত হয়েছে। হামলায় অন্তত ৭৪৭ জন আহত হয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানে ফের হামলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, এ দফার হামলায় ইরানের মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
ইরানের প্রভাবশালী রেভোল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত কৌশলগত পানিপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে ইরান।
সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, এরই মধ্যে এই পানিপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে বার্তা দিতে শুরু করেছে রেভোল্যুশনারি গার্ডস কর্পস। বার্তায় বলা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এর আগে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসও (ইউকেএমটিও) একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী বন্ধের বার্তা পেয়েছে।
হরমুজ প্রণালী সমুদ্রপথে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনে এই রুট সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। এই পথে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের মিনাবের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় নিহতের সংখ্যা এখন ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারোট এক্স-এ বলেছেন, তাঁর দেশ আজ গ্রিনিচ মান সময় ২১:০০ ঘটিকায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের অনুরোধ করেছে।
ব্যারোটের মতে, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি মোকাবেলা করা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরুর কথা জানিয়েছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইসরায়েলের একজন সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আজকের হামলায় ইরান সরকারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, অভিযানের সময় একই সময়ে ইরানি সরকারের কর্মকর্তারা জড়ো হয়েছিলেন এমন তিনটি স্থানে আঘাত করা হয়েছিল।
ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেছেন, ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় রয়েছে। তারা লক্ষ্যবস্তুর একটি ‘মূল্যবান এবং বিস্তৃত তালিকা তৈরি করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে।
আল জাজিরার প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য ইসরায়েলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে দুটি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি উদ্ধার কর্মীদের সেখানে ডাকা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল ভূখণ্ডের দিকে নতুন করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর এটি ঘটেছে। সকাল থেকে হামলা অবিরাম চলছে।
উপকূলের তেল আবিব এবং হাইফা এলাকায় সাইরেন বাজানো হচ্ছে।
কুয়েতের জেনারেল অথোরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশন জানিয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন কর্মচারী সামান্য আহত হয়েছেন। যাত্রী ভবনেরও সীমিত ক্ষতি হয়েছে।
এর সরকারী মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি বলেছেন, কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে অনুমোদিত জরুরি প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যেখানে ঘটনাটি পরিচালনা করা হয়েছে এবং স্থানটি সুরক্ষিত করা হয়েছে।
শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সময় রাত ১১টায় বৈঠক ডাকা হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপের’ তীব্র নিন্দা জানানোর করার পর এই বৈঠক আহ্বান করা হলো।
এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেই সঙ্গে ‘তাৎক্ষণিকভাবে শত্রুতা বন্ধের’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে বিকট শব্দ শোনা গেছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শহরের পাম আইল্যান্ড এলাকায় ধোঁয়া এবং আগুনের কুণ্ডলি দেখা যাচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কয়েক মিনিটের মধ্যেই বক্তব্য রাখবেন। ইরানের আল-আলম টিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এনবিসি নিউজে লাইভে বলেছেন, ইরান হয়তো এক বা দুইজন কমান্ডারকে হারিয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, তিনি যতদূর জানেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত।
প্রেসিডেন্ট এবং সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কসহ বেশ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা এবং কমান্ডার নিহত হওয়ার খবর এখন পর্যন্ত অস্বীকার করছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোে।
আরাঘচি বলেছেন, ইরান উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী এবং আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। তবে শর্ত থাকে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল তাদের আক্রমণ বন্ধ করবে।
যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে চীন বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা উচিত। সব পক্ষকে আরও উত্তেজনা এড়াতে এবং সংলাপ পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
ফার্স সংবাদ সংস্থা ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিরাজে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) প্রভাবশালী কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো আজ মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের জনগণ, আমাদের স্বার্থ এবং আমাদের মূল্যবোধ রক্ষার জন্য সমন্বিত আঞ্চলিক প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের অংশ হিসাবে আকাশে রয়েছে।
একটি টেলিভিশন বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
হরমোজগান মেডিকেল সায়েন্সেসের প্রধান বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরানের হরমোজোগান প্রদেশের মিনাব এবং জাস্কে হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত এবং ৯০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে, জানানো হয়েছিল, মিনাবে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ৫০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ‘বিস্তৃত হামলা সম্পন্ন করেছে’।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিম ইরানের কেরমানশাহ এলাকায় অবস্থিত একটি উন্নত এসএ-৬৫ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে হামলা পরিচালিত হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানি আকাশসীমার ওপর ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং বৃদ্ধি করা, আইআরজিসির সক্ষমতা হ্রাস করা এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি হুমকি প্রতিহত করার জন্য এই হামলা চালানো হয়েছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হয়েছে। দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে, বিমানবাহিনী হুমকি প্রতিহত করতে যেখানেই প্রয়োজন সেখানে বাধা দেওয়ার এবং আক্রমণ করার জন্য কাজ করছে।
একটি পৃথক পোস্টে বলা হয়েছে, তারা ইরানের কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত হামলা এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে।
পোস্টের একটি সংযুক্তিতে বলা হয়েছে, আক্রমণ করা লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে একটি পশ্চিম ইরানের কারামানশাহ এলাকায় অবস্থিত একটি উন্নত এসএ-৬৫ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁরা আবার আলোচনা শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন।
কাতারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, উত্তর কাতারে একটি প্রাথমিক সতর্কতা রাডার রয়েছে। সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জবাব দেওয়া হবে।
রাষ্ট্র পরিচালিত আইআরএনএ নিউজ আউটলেট অনুসারে, হামলায় ৫৩ জন ছাত্রী নিহত হয়েছে। আরাঘচি বলেছেন, নিহতরা সবাই নিরীহ শিশু।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি এবং স্বার্থের ওপর ইরানের হামলা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের মার্কিন-ইসরায়েল হামলার ফলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। আর যে পরিণতি ঘটবে তার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ‘যুদ্ধবিরতি আরোপ করার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তর্জাতিক আইনের সমর্থনে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের’ জন্য একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করার আহ্বান জানিয়েছে ওমান।
হামলার আগে ওমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছিল।
উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার মধ্যে, কিছু শীর্ষ তেল ও বাণিজ্য কোম্পানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ স্থগিত করেছে।
একটি প্রধান বাণিজ্য কোম্পানির একজন শীর্ষ নির্বাহী রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমাদের জাহাজগুলো বেশ কয়েক দিন আটকে থাকবে।’
আরব উপদ্বীপ এবং ইরানের মধ্য দিয়ে যাওয়া জলপথ দিয়ে প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য ধরনের জ্বালানি পরিবহন চলাচল করে। ফলে যে কোনও স্থগিতাদেশ বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা তৈরি করেছে।
আল জাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, উত্তর ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আবারও হামলা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর নগরী চাবাহারে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
দোহার আকাশে ফের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে গেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। অন্তত পাঁচ জায়গায় বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি বিবৃতিতে ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলার’ বিষয়ে সতর্ক করেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আসন্ন হুমকি প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে বলে পূর্ববর্তী একটি নোটিশের কয়েক মিনিট পরেই এটি প্রকাশিত হয়েছে।
অনলাইনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে কাতারের রাজধানী দোহার উপকণ্ঠে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার পর নাটকীয় দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
আল জাজিরার যাচাইকৃত ফুটেজে দেখা যায়, আকাশ থেকে বস্তুটি পড়ার সময় লোকজন চিৎকার করছে এবং নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছে। বস্তুটি পড়ার পর বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে, আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিনা উসকানিতে সশস্ত্র আক্রমণের নিন্দা জানায় রাশিয়া। অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছেন মস্কো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে আলবুসাইদি বলেছেন, আজকের হামলায় তিনি ‘হতাশ’।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সক্রিয় এবং সিরিয়াস আলোচনা আবারও ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বিশ্ব শান্তির উদ্দেশ্য কোনোটিই ভালোভাবে কাজে আসবে না। এবং আমি নিরপরাধদের জন্য প্রার্থনা করছি যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিবৃত্ত হওয়ার অনুরোধ করছি। এটি তোমাদের যুদ্ধ নয়।’
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তাসনিমে সামরিক বিবৃতির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান থেকে পরিচালিত প্রথম বড় ড্রোন কোনো আক্রমণ এটি।
এমিরেটস এয়ারলাইনস জানিয়েছে, এই অঞ্চলে আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে দুবাই বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের শত শত সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেছে।
এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, পশ্চিম ইরানে বিমান হামলা চালানোর সময় শত শত ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও রয়েছে।
তারা আরও দাবি করেছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরান থেকে আগত প্রতিশোধমূলক আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে।
দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, তাঁরা ইরানে আকাশ ও সমুদ্র থেকে ‘বিস্তৃত’ হামলা চালিয়ে যাবেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্য ইরানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা। বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা সীমাবদ্ধ।
মার্কিন বিমান বাহিনী হামলায় অংশ এবং তারা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে বলেও নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ইরাকি আধাসামরিক গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা শিগগিরই মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ শুরু করবে।
কাতাইব হিজবুল্লাহ হল পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি। ২০১৪ সালে আইএসআইএল-এর অগ্রগতি ঠেকাতে এই গ্রুপটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ ইরাকের জুরফ আল-সাখের ঘাঁটিতে, যা জুরফ আল-নাসর নামেও পরিচিত, বিমান হামলায় এই গোষ্ঠীর দুই যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানের একটি বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচজন নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স পরে জানিয়েছে, নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো বলেছে, পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।
এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের একটি বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা, যা এই অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য তারা আগের মতোই প্রস্তুত রয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কিছুক্ষণ আগে ইরান আরও এক ঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তারা সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।
সেনাবাহিনী বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিছুক্ষণ আগে, ইরান থেকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী হুমকি প্রতিহত করতে কাজ করছে।
কিছু বাসিন্দাকে সুরক্ষিত স্থান ত্যাগ করার অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ড বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর, ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকার নাগরিকদের সুরক্ষিত স্থান ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে তারা আরও জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলো সারা দেশে কাজ করছে।
বাসিন্দাদের রাজধানী তেহরান ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে, যতদূর সম্ভব নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবং পরিস্থিতি শান্ত থাকা সত্ত্বেও, সম্ভব হলে আপনাদের শহর ত্যাগ করা উচিত।
তেহরান এবং ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে অসংখ্য বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় এবং তেহরানে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়েও হামলা করেছে ইসরায়েল।
কেরমানশাহ, কুম, ইসফাহান, তাবরিজ, কারাজে সামরিক স্থাপনা এবং দেশের দক্ষিণে কেনারকে ইরানি নৌবাহিনীর স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘শত্রুদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত’ ইরানের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সমস্ত ইসরায়েলি এবং মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিশালী আঘাত হেনেছে।
তারা বলেছে, শত্রুদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই অঞ্চলজুড়ে সমস্ত মার্কিন স্থাপনা ইরানের সেনাবাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তা বলেছেন, ইরানে যা ঘটছে তা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’।
দুই নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা সব পক্ষকে সর্বাধিক সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্পূর্ণরূপে সম্মান করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে, আমরা এই অঞ্চলের ইইউ নাগরিকেরা যাতে আমাদের পূর্ণ সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেব।’
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে।
টেলিগ্রামে সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী প্রয়োজনীয় স্থানে হুমকি প্রতিহত এবং পাল্টা আঘাত করার জন্য কাজ করছে।
ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
দোহায় নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘দ্বিতীয় ধাপে’ ধেয়ে আসা সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করার কিছুক্ষণ পরেই বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেল।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান এবং কুয়েতে ইরানি হামলার ‘কঠোর ভাষায়’ নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব।
‘রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতি’ লঙ্ঘনের জন্য সৌদি আরব ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। হামলায় পাঁচজন ছাত্রী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানে বর্তমান উত্তেজনা দেশটির কর্তৃপক্ষের দোষেই ঘটছে। কিয়েভ ইরানের জনগণের পাশে আছে। সেখানে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান ঘটনার কারণ হলো ইরানি শাসনের সহিংসতা এবং দায়মুক্তি। বিশেষ করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা এবং দমন, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষভাবে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করলেও উত্তর ইসরায়েলে একটি নয় তলা ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের সম্প্রচার মাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি অ্যাপার্টমেন্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার ফলে ইরান এখন প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে রয়েছে।
দেশটির ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত মাসেই, দেশজুড়ে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় দেশটি প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে পড়েছিল।
ওই সময় কিছু লোক স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এবং ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)-এর মতো পদ্ধতি ব্যবহার করে কিছু সময়ের জন্য ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে সক্ষম হয়েছিল। সম্ভবত যাদের অ্যাক্সেস আছে তারা আবারও এই একই পদ্ধতি ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদের দক্ষিণে জুরফ আল-সাখারে বিমান হামলায় কমপক্ষে দুই ইরাকি হাশিদ শাবি যোদ্ধা নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পিএমএফ, যা আরবি ভাষায় হাশদ আল-শাবি নামেও পরিচিত, মূলত শিয়া আধাসামরিক গোষ্ঠীর একটি আমব্রেলা সংগঠন। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে সংযুক্ত বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আকাশে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা করেছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র কে ছুড়েছে সেটি স্পষ্ট নয়।

রাশিয়া নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘শান্তিরক্ষীরা আবারও এই কর্মে লিপ্ত। ইরানের সঙ্গে আলোচনা ছিল কেবল একটি আড়াল। সবাই তা জানত। তাহলে শত্রুর দুঃখজনক পরিণতির জন্য এখন কার ধৈর্য বেশি? আমেরিকার বয়স মাত্র ২৪৯ বছর। পারস্য সাম্রাজ্য ২৫০০ বছরেরও বেশি আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দেখা যাক, ১০০ বছর বা তারও বেশি সময় পরে কী হয়...’
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় যুক্তরাজ্য অংশগ্রহণ করেনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার শনিবার সরকারের জরুরি কোবরা কমিটির একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এর যুক্তরাজ্য জানিয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান আক্রমণের নির্দেশ দিলে যুক্তরাজ্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেবে না।
ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে কমপক্ষে একজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, এই আক্রমণ জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা বলেছে, এই উত্তেজনার প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।
আল জাজিরা আরবি জানিয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিক কিছু জানা যায়নি।
আল জাজিরা জানিয়েছে, দুবাই এবং আবুধাবিতে বিস্ফোরণের একাধিক খবর পাওয়া গেছে।
এর আগেও আবুধাবিতে হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ইতিমধ্যেই এই এলাকায় আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল-সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের পঞ্চম মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের উর্মিয়ায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই এলাকায় আক্রমণ শুরু করার কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই এ খবর পাওয়া গেল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি সমস্ত বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে ইরান। বাহরাইনের রাজধানীতে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরান থেকে ছোড়া সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই দোহায় দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দেশের ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, পূর্ব-অনুমোদিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুসারে হুমকি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছে। কাতারের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে একযোগে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত এবং কাতারের বিভিন্ন স্থানে এই হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজধানী মানামাসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাহরাইনের জাফায়ার এলাকায় অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটির কাছ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। পরবর্তীতে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে একটি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
আবুধাবি ও কুয়েতে আতঙ্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, কুয়েত থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরা অ্যারাবিক জানিয়েছে, কুয়েত জুড়ে সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং পুরো দেশজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত: বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে কাতারের রাজধানী দোহাতেও। তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
জরুরি অবস্থা ও নিরাপত্তা শঙ্কা: একযোগে একাধিক উপসাগরীয় দেশে এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে মার্কিন নৌঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করায় আন্তর্জাতিক মহলে এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং পরবর্তী সম্ভাব্য হামলা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘শত্রু আবারও সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং আলোচনার সময়, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে আক্রমণ করেছে।
তাসমিন সংবাদ সংস্থা বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়ে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে গভর্নরদের কাছে পূর্ববর্তী নির্দেশাবলী এবং প্রদেশগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন এবং জনগণের জরুরি চাহিদা পূরণের জন্য সমস্ত সুযোগ-সুবিধা জড়ো করার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি আদেশ জারি করেছে।
ইরানের আইআরজিসি (বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) নিশ্চিত করেছে, তারা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শত্রু ও অপরাধীদের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায়, দখলকৃত অঞ্চলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে।’
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানে ‘দুই বা ততোধিক’ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আইআরএনএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইলাম শহরের পশ্চিম এবং দক্ষিণ অঞ্চলেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
তাসনিম আরও জানায়, শহরের কেন্দ্রস্থল এবং তেহরানের অন্যান্য অংশে ‘প্রতিকূল লক্ষ্যবস্তু’-এর সঙ্গে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত।
আল জাজিরার সাংবাদিক আলী হাশেম দীর্ঘদিন ধরে ইরান কভার করেছেন, তিনি বলেন, এটি একটি ‘দেজা ভু মুহূর্ত’। গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ইসারায়েলের প্রত্যাশিত এলাকায় অবস্থান করা ‘অসম্ভব’।
‘আপাতত, আমরা যা জানি তা হলো প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আহত হননি, সর্বোচ্চ নেতা কমপ্লেক্সে ছিলেন না। তবে, এই আক্রমণ, এটি স্পষ্ট, মূলত [রাজনৈতিক অভিজাতদের] নির্মূল করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে,’ ব্যাখ্যা করেন হাশেম।
তিনি বলেন, ‘এই আক্রমণ কতটা সফল বা ব্যর্থ হয়েছিল, তা বলার সময় এখনো হয়নি।’
ইসরায়েলের দিকে আরও এক ঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়ে ইরানি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলের দিকে আরও এক ঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
রাজধানী তেহরানসহ ইরানের কিছু অংশে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস ব্যাহত হওয়ার খবর দিয়েছে নেটব্লকস। এসব এলাকায় সাধারণ স্তরের চেয়ে কমে ৫৪ শতাংশে সংযোগ এখনো বহাল রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর নিজেদের আকাশসীমা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েল। ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে উত্তর ইসরায়েলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করার কথা বলার ঠিক পরেই বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেল।
চলমান আক্রমণে কোনো পক্ষ থেকেই কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এরপর বেসামরিক উড়োজাহাজগুলো ইরানের আকাশ এড়িয়ে যেতে শুরু করেছে, সেই চিত্র ধরা পড়েছে ফ্লাইটর্যাডার২৪ নামের ট্র্যাকিং সাইটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার এবং কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় সাইরেন বেজে উঠছে।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জনসাধারণকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশাবলী অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এ সময়, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনে প্রতিহত এবং প্রত্যাঘ্যাত করতে কাজ করছে।
ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইস্পাহান, কোম, কারাজ এবং কেরমানের পাশাপাশি রাজধানী তেহরানেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের কারাজ, তেহরান, কোম, ইস্পাহান, তেহরান এবং কেরমানশাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি এখনো জানা যায়নি। তবে এসব শহরে বিস্ফোরণের শব্দ ও বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক দিনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা ইউরোপকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্নির্মাণ করার এবং দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এগুলো এমন ক্ষেপণাস্ত্র যা ইউরোপে আমাদের খুব ভালো বন্ধু এবং মিত্রদের, বিদেশে অবস্থানরত আমাদের সৈন্যদের এবং আমেরিকান মাতৃভূমিতে পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এই দুষ্ট উগ্র একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা বারবার একটি চুক্তি করতে চেয়েছিলাম। আমরা চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে যাচ্ছি এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটি সম্পূর্ণরূপে ... নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’
ইরানের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে যাচ্ছি এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে যাচ্ছি। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করতে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি যে এই অঞ্চলের সন্ত্রাসী' প্রতিনিধিরা আর এই অঞ্চল বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না। আমরা নিশ্চিত করব যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। এটি একটি খুব সহজ বার্তা। তাদের কাছে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’
ইরানের খোমেনি সরকারকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এই সরকার শিগগিরই বুঝতে পারবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি এবং সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা কারও উচিত নয়।’
এখন পর্যন্ত, ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি হামলার যেসব লক্ষ্য চিহ্নিত করা গেছে সেগুলো হলো—
গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা
পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স
গত এক ঘণ্টায়, ইসরায়েল বেশ কিছু এলাকা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে, বিশেষ করে লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, হিজবুল্লাহর কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি হামলার সংখ্যা বেড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে, এই গোষ্ঠীর কাছে রকেট লঞ্চার এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
গত কয়েক দিনে লেবাননে বারবার যে প্রশ্নটি করা হচ্ছে তা হলো, ইরানের ওপর ইসরায়েলি আক্রমণের ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহ কী করবে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো ইসরায়েল এখন কী করবে এবং এই ফ্রন্ট থেকে আসা সম্ভাব্য সব হুমকি দূর করার জন্য তারা হিজবুল্লাহর ওপর আক্রমণ চালাবে কি না।
ইরানের আইআরএনএ সংবাদ সংস্থা, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অক্ষত রয়েছেন।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএসহ ইরানি সংবাদ ওয়েবসাইটগুলো সাইবার আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত, আইআরএনএর টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টটি কাজ করছে।
আল জাজিরার সিনিয়র সাংবাদিক অ্যালান ফিশার বলেছেন, গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আমি একজনের সঙ্গে কথা বলছিলাম যখন মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে এবং তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, যদি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে এটি সম্ভবত তাঁর ভাষায়, ‘একবারই এবং সমাপ্তির’ রূপ নেবে।
তাঁর মতে, ইরানের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য একটি হামলা হবে এবং বলা হবে, ‘দেখুন, আমরা এখনই এটা (হামলা) করছি, তবে যদি আপনি কোনো ধরনের চুক্তিতে না আসেন তবে সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে।’
আমরা জেনেভায় ওমানি আলোচকের কাছ থেকে শুনেছি, যিনি মনে করেছিলেন, চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছেন তারা, এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু চুক্তির মূল কথাটি সেখানেই ছিল।
শুক্রবার টেক্সাসে যাওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বলছিলেন তাতে এই সম্ভাবনার কথা প্রতিফলিত হয়নি; তিনি বলেছিলেন, তিনি ইরানিদের ওপর বিরক্ত এবং তিনি আশা করেছিলেন যে একটা চুক্তি হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার উদ্দেশ্য হলো ইরানি শাসনের আসন্ন হুমকি দূর করা।
ট্রাম্প বলেন, ‘কিছুদিন আগে, মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান শুরু করেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইরানি শাসনের হুমকি দূর করে আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করা।’
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘আমরা তোমাদের সতর্ক করেছিলাম!’
ইব্রাহিম আজিজি আরও বলেন, ‘এখন তোমরা এমন একটি পথে যাত্রা শুরু করেছ, যার শেষ আর তোমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’
ইরান হামলার পর প্রতিশোধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং প্রতিক্রিয়া হবে চূড়ান্ত পর্যায়ের, একজন ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন।
ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ওপর হামলার পর তারা তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ইরাকি সংবাদ সংস্থা আইএনএ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান এবং কারাজ শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের খবর যাচাই করতে পারেনি কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার লক্ষ্য ইরানের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ফেলা।
শনিবার সকালে ইরানে হামলার পর ইসরায়েল বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য তার আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে যুক্ত তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মুখপাত্র মাজিদ আখওয়ান মেহের সংবাদ সংস্থার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুরো দেশের আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের বেশ কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কোনো কল করা সম্ভব হচ্ছে না।
শিগগিরই ইন্টারনেটও বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজের ইরানি স্টাডিজ ইউনিটের পরিচালক এবং কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহরান কামরাভা বলেছেন, তিনি কখনোই ভাবেননি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ করবে, ইসরায়েল মার্কিন-ইরান আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেশ সোচ্চার।
কামরাভা আল জাজিরাকে বলেন, ‘গত জুনের মতো, এটি ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনাকে পথভ্রষ্ট করার জন্য একটি আক্রমণ শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে।’
কামরাভা বলেন, ‘আমি মনে করি (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে এমন একটি কোণে ঠেলে দিয়েছেন, যেখান থেকে তিনি পিছু হটতে পারছিলেন না। তথাকথিত আর্মাডা বা বিশাল সামরিক আয়োজন, দেড় বছর ধরে ইসরায়েলের জন্য ক্রমাগত সবুজসংকেত—আমি মনে করি অনেক উপায়ে এটা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। আবারও, আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হলো ইসরায়েলিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে এবং তিনি এই মুহূর্তে তাদের আসলে না বলতে পারেননি।’
কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সব কর্মীকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আক্রমণ শুরু করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
তেহরানে আরও বিস্ফোরণের খবর ইরানি মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয়-অনুমোদিত ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানের উত্তর ও পূর্বে বেশ কয়েকটি নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
বাসিন্দাদের সুরক্ষিত এলাকার কাছাকাছি থাকার জন্য সারা দেশে সাইরেন বাজাচ্ছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পৃথক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, দেশের সমস্ত এলাকাকে ‘পূর্ণ কার্যক্রম’ থেকে ‘জরুরি কার্যক্রম’-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল বন্ধ করা, সমাবেশ নিষিদ্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ছাড়া কর্মক্ষেত্র বন্ধ রাখা।

আল জাজিরার স্থানীয় সংবাদদাতা জানিয়েছেন, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং জোমহৌরি এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
ইরানি মিডিয়ার তথ্য অনুসারে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা খবর পেয়েছে যে ইরানের রাজধানীর রিপাবলিক এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু করেছেন ইসরায়েল। এই হামলাকে ‘পূর্ব সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক’ বলে অভিহিত করেছে তারা। বিবিসি জানিয়েছে, আজ শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ইসরায়েলজুড়ে ‘বিশেষ এবং স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন।