Ajker Patrika

উপসাগরীয় দেশগুলোতে সব হামলাই ইরানি নয়, মার্কিন-ইসরায়েলি ফাঁদও হতে পারে: সৌদি সাংবাদিক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২: ৪১
উপসাগরীয় দেশগুলোতে সব হামলাই ইরানি নয়, মার্কিন-ইসরায়েলি ফাঁদও হতে পারে: সৌদি সাংবাদিক
আদওয়ান আল–আহমারি। ছবি: লিংকডিন

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর হওয়া সব হামলাই ইরানি নয়। অনেকগুলো হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পাতা ‘ফাঁদ’ হতে পারে। এমনটিই সতর্ক করেছেন সৌদি আরবের সাংবাদিক আদওয়ান আল-আহমারি। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম দ্য ক্রেডলের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

৩ মার্চ আশরাক নিউজে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে আদওয়ান আল-আহমারি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হওয়া ‘সব হামলাই’ যে ইরান থেকে আসে, এমন নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুদ্ধে টেনে নামাতে একধরনের ‘ফাঁদ’ পাততে পারে নিজেদের হামলার মাধ্যমে।

আদওয়ান আল-আহমারি বর্তমানে ইনডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার প্রধান সম্পাদক এবং সৌদি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ মনে করে, এই যুদ্ধ আসলে একটি মার্কিন-ইসরায়েলি ফাঁদ। এর উদ্দেশ্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে জড়িয়ে ফেলা এবং ইরানের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘাতে ঠেলে দেওয়া।’

আদওয়ান আল-আহমারি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই ধারণা প্রতিদিনই আরও জোরালো হয়ে উঠছে।’ এরপর তিনি একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহ, ১০ দিন বা দুই সপ্তাহ পর ঘোষণা করে যে এই যুদ্ধে তাদের সব লক্ষ্য পূরণ হয়েছে এবং যুদ্ধ শেষ, তারপর তারা সরে যায়—তাহলে কী হবে? তখন তো উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি এক সংঘাতের মধ্যে রেখে যাবে।’

এদিকে মিডল ইস্ট আইয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর কয়েকটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা ঠিক কোন কোন ঘটনার পেছনে ইসরায়েল রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি দাবি করেন, উপসাগরীয় অবকাঠামোর ওপর হওয়া অন্তত কিছু ড্রোন হামলা ইরান চালায়নি। নাম প্রকাশ না করা ওই কর্মকর্তা এমইইকে বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি, কিছু হামলা আমরা (ইরান) করিনি।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি, সৌদি আরামকোর রাস তানুরা তেল শোধনাগার এবং রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা অন্যতম।

মিডল ইস্ট আইকে আরও দুই ইরানি সূত্র জানিয়েছে, এসব হামলার কিছু হয়তো ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের ভেতর থেকেই পরিচালনা করে থাকতে পারে। তাদের দাবি, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন সংরক্ষণের সন্দেহভাজন স্থাপনা খুঁজতে ইরানের কর্তৃপক্ষ তল্লাশি চালাচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তারা আরও বলেন, তেহরান রিয়াদকে জানিয়েছে যে রাস তানুরায় এই হামলার জন্য তারা দায়ী নয়। তারা এই ঘটনাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক শান্তি ও জোটকে নষ্ট করার জন্য ইসরায়েলের একটি প্রচেষ্টা’ হিসেবে।

অন্যদিকে ইরানি প্রেসিডেন্ট আরব দেশগুলোর নেতাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর আত্মরক্ষার জন্যই তেহরানের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি।’ তিনি যোগ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ‘এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অর্জন করতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত