
লোহিত সাগরে ইয়েমেনের উপকূলের কাছে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ নৌ নিরাপত্তা সংস্থা ও মেরিটাইম নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে এ তথ্য জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটির নাম ‘ম্যাজিক সিজ’। এটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এবং গ্রিসের মালিকানাধীন একটি কার্গো জাহাজ। ব্রিটিশ নৌ নিরাপত্তা সংস্থা ও অ্যামব্রে জানায়, হামলাটি আটটি ছোট স্পিডবোট থেকে গুলিবর্ষণ এবং সেল্ফ-প্রোপেলড গ্রেনেড দিয়ে শুরু হয়। জাহাজে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা পাল্টা গুলি চালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। এরপর চারটি ‘আনম্যানড সার্ফেস ভেহিকল’ বা সমুদ্রপথে চালিত ড্রোন জাহাজটির দিকে ধেয়ে আসে।
অ্যামব্রে জানিয়েছে, দুটি ড্রোন জাহাজের বাম পাশে আঘাত করে, এতে কার্গো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাহাজে আগুন ধরে যায়। তবে এখনো জাহাজটির আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গ্রিসভিত্তিক নিরাপত্তা সংস্থা ডায়াপ্লাস জানিয়েছে, হামলার ফলে জাহাজে জল ঢুকে পড়েছে, তবে ক্রুদের কেউ আহত হননি।
হামলার পর এখনো কেউ দায় স্বীকার করেনি। তবে অ্যামব্রে জানিয়েছে, জাহাজটি হুতিদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কারণ এটি তাদের পরিচিত রুটে পড়ে। এই হামলা ইয়েমেনের হুদায়দা বন্দর থেকে ৫১ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এটি লোহিত সাগরে গত এপ্রিলের পর প্রথম বড় ধরনের হামলা।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুতি বিদ্রোহীরা ১০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করে, ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে তারা এসব পদক্ষেপ নিয়েছে। ওই সময়ে দুইটি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়, একটি দখল করে এবং অন্তত চারজন নাবিককে হত্যা করে।
এই হামলাগুলোর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা জোরদার করে।
চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হুতিরা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে হামলা বন্ধে সম্মত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও ইয়েমেনে তাদের ওপর বোমাবর্ষণ বন্ধ করবে। ওই চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্যবস্তু না করার কথা জানায়।
তবে জুন মাসে হুতিরা হুমকি দেয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ইসরায়েলি হামলায় জড়িয়ে পড়ে, তবে তারা মার্কিন জাহাজগুলোকে টার্গেট করবে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরও হুতিদের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এমনকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকেও অ্যান্টিশিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল।
৪ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না ইরানের। তেহরান আগে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল—গোয়েন্দা তথ্যে এমন কোনো লক্ষণই ছিল না। মার্কিন কংগ্রেসকে এমনটিই জানিয়েছে পেন্টাগন।
১২ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাত্রা ও সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তারা উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা তেহরান বা তাদের মিত্র গোষ্ঠীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
৩২ মিনিট আগে
যুদ্ধকে ইরানিরা খুব একটা ভয় পায় না, যতটা পায় আত্মসমর্পণকে। এই ধারণার প্রমাণ মেলে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত সরকার কখনোই হুমকির কাছে মাথা নত করেনি। এমনকি সর্বশেষ যুদ্ধের আগেও ইরানিরা তাদের ন্যায্য অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধ ঠেকানোর চেষ্টা করেনি।
৩৬ মিনিট আগে