
গাজায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস নিরস্ত্রীকৃত হলে তাদের ‘একধরনের সাধারণ ক্ষমা’ দেওয়া হবে; এমনটি জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। গতকাল সোমবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওই কর্মকর্তা এই মন্তব্য করেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় থাকা সর্বশেষ ইসরায়েলি বন্দীর মরদেহ উদ্ধারের পর এই তথ্য জানানো হয়, যা গত অক্টোবরে সম্মত হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপের পথ প্রশস্ত করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা হামাসের অনেকের মুখে নিরস্ত্রীকরণের কথা শুনছেন এবং তারা বিশ্বাস করেন হামাস অস্ত্র ত্যাগ করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, তারা নিরস্ত্রীকরণ না করলে চুক্তি ভঙ্গ হবে। তিনি আরও যোগ করেন, নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি জড়িত এবং তাদের কাছে নিরস্ত্রীকরণের খুব ভালো একটি প্রোগ্রাম রয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি রোজিল্যান্ড জর্ডান জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়। প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন, হামাস নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়েছে। হামাসকে রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, যেসব হামাস যোদ্ধা অস্ত্র ত্যাগ করবেন, তাঁদের জন্য সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
জর্ডান উল্লেখ করেন, যদিও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি, তবে বিষয়টি জনসমক্ষে আসা একটি বড় পদক্ষেপ। এই শর্তগুলো চূড়ান্ত হতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার, তুরস্ক ও মিসরের আলোচনার ওপর।
এদিকে সোমবার ইসরায়েল নিশ্চিত করেছে, গাজায় থাকা সর্বশেষ ইসরায়েলি ব্যক্তি রন গভিলির দেহাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে এবং সব বন্দীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। হামাস জানিয়েছে, দেহাবশেষ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। তারা দাবি করেছে, তারা দায়িত্বশীলভাবে সব বাধ্যবাধকতা মেনে চলেছে। এখন ইসরায়েলকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কোনো দেরি না করে রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া, পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, গাজা থেকে সম্পূর্ণ সৈন্য প্রত্যাহার এবং গাজা পরিচালনার জাতীয় কমিটিকে সহায়তা করতে হবে।
ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব বন্দী মুক্তি পেলে অস্ত্র সমর্পণকারী হামাস সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা করা হবে এবং যারা গাজা ছাড়তে চায়, তাদের নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করা হবে। এই পরিকল্পনায় ত্রাণ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এমনকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকেও অ্যান্টিশিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল।
৪ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না ইরানের। তেহরান আগে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল—গোয়েন্দা তথ্যে এমন কোনো লক্ষণই ছিল না। মার্কিন কংগ্রেসকে এমনটিই জানিয়েছে পেন্টাগন।
১২ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাত্রা ও সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তারা উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা তেহরান বা তাদের মিত্র গোষ্ঠীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
৩৩ মিনিট আগে
যুদ্ধকে ইরানিরা খুব একটা ভয় পায় না, যতটা পায় আত্মসমর্পণকে। এই ধারণার প্রমাণ মেলে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত সরকার কখনোই হুমকির কাছে মাথা নত করেনি। এমনকি সর্বশেষ যুদ্ধের আগেও ইরানিরা তাদের ন্যায্য অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধ ঠেকানোর চেষ্টা করেনি।
৩৬ মিনিট আগে