Ajker Patrika

প্যারিসে বিচারের মুখে ৩ নারীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত ইসলামি চিন্তাবিদ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
প্যারিসে বিচারের মুখে ৩ নারীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত ইসলামি চিন্তাবিদ
অভিযুক্ত ইসলামি চিন্তাবিদ তারিক রমাদান। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

তিন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইসলাম বিষয়ক বিশিষ্ট গবেষক ও সুইস বংশোদ্ভূত একাডেমিক তারিক রমাদানের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিচার শুরু হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

সোমবার (২ মার্চ) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ৬৩ বছর বয়সী রমাদান একসময় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকালীন ইসলামি অধ্যয়নের অধ্যাপক ছিলেন। ২০১৭ সালে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয় এবং ২০২১ সালের জুনে তিনি আগাম অবসর নেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্য সরকারের ইসলাম ও সমাজবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ—২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ফ্রান্সে তিন নারীকে ধর্ষণ করেন রমাদান। এই মামলাটিকে ফ্রান্সে ‘হ্যাশট্যাগ মি-টু’ আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে রমাদান শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

অভিযোগকারীদের একজন ৪১ বছর বয়সী হেনদা আয়াড়ি ২০১৭ সালে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি, ২০১২ সালের বসন্তে প্যারিসের পূর্বাঞ্চলের একটি হোটেলে এক সম্মেলনের সময় রমাদান তাঁকে ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

‘ক্রিস্টেল’ ছদ্মনামে পরিচিত আরেক নারী তদন্তকারীদের জানান, ২০০৯ সালের অক্টোবরে লিয়ন শহরের একটি হোটেলে এক সম্মেলনের সময় রমাদান তাঁকে ধর্ষণ করেন এবং সহিংস আক্রমণ চালান। তৃতীয় এক নারী অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে তাঁকেও ধর্ষণ করেছিলেন রমাদান।

তদন্তের শুরুতে রমাদান প্রথম দুই নারীর সঙ্গে কোনো ধরনের যৌন সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। তবে ২০১৮ সালে তিনি তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করে তদন্তকারী বিচারকদের জানান, আয়াড়ি ও ক্রিস্টেলের সঙ্গে তাঁর যৌন সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক সম্মতিতে।

এদিকে হেনদা আয়াড়ির আইনজীবী সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন—এই বিচার কোনো ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক লড়াই নয়। বরং এটি একটি ধর্ষণের মামলা। অন্যদিকে ক্রিস্টেলের আইনজীবীরা পরিচয় সুরক্ষা ও হয়রানি এড়াতে বিচারটি গণমাধ্যম ও জনসাধারণের উপস্থিতি ছাড়া, অর্থাৎ ব্যক্তিগতভাবে পরিচালনার আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

রমাদানের আইনজীবীরা এএফপিকে বলেন, একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা বিচারপ্রক্রিয়ায় উপস্থিত থাকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং তিনি ন্যায্য বিচার পাবেন কি না—সেই বিষয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের একটি আপিল আদালত ২০০৮ সালে জেনেভার একটি হোটেলে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে রমাদানকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সেই রায় বহাল রাখেন। রমাদানের সুইস আইনজীবী দল জানিয়েছে, তাঁরা বিষয়টি ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কিশোরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে উপসাগরীয় মিত্রদের সৌদির ‘গোপন বার্তা’

প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও-এসি ল্যান্ড বদলি

মার্কিন বাহিনীতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: কংগ্রেসকে পেন্টাগন

ভুলবশত ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে কুয়েত: মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত