Ajker Patrika

১৯৭০-এর আগে জন্মগ্রহণকারীরা কেন প্রাকৃতিকভাবে হাম প্রতিরোধী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
১৯৭০-এর আগে জন্মগ্রহণকারীরা কেন প্রাকৃতিকভাবে হাম প্রতিরোধী
প্রতীকী ছবি

বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো—১৯৭০ সালের আগে জন্মগ্রহণকারী অধিকাংশ মানুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই হাম-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। এই ধারণার পেছনে রয়েছে রোগটির ইতিহাস, সংক্রমণের ধরন এবং টিকাদান কর্মসূচির বিবর্তন।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানবসমাজে ছড়িয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীনকাল থেকেই এটি শিশুদের মধ্যে ব্যাপকভাবে দেখা যেত। তবে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে হামের কোনো কার্যকর টিকা ছিল না। ফলে প্রায় প্রতিটি শিশুই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই রোগে আক্রান্ত হতো।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে জানা যায়, একবার হাম হলে শরীরে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, যা সাধারণত সারা জীবন থাকে। তাই ১৯৭০ সালের আগে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ মানুষ শৈশবে প্রাকৃতিকভাবেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন—এমনটাই ধরে নেওয়া হয়। এর ফলে তাঁদের শরীরে স্বাভাবিক অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

১৯৬৩ সালে প্রথমবারের মতো হামের টিকা উদ্ভাবিত হলেও তা বিশ্বব্যাপী কার্যকরভাবে ছড়িয়ে পড়তে সময় লেগেছিল। পরে এমএমআর ভ্যাকসিন চালু হওয়ার পর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার হয় এবং ধীরে ধীরে হামের প্রকোপ কমতে শুরু করে। ১৯৭০-এর পর জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যে টিকা গ্রহণের হার বাড়তে থাকে, ফলে প্রাকৃতিক সংক্রমণের হারও কমে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রেক্ষাপটে ১৯৭০ সালের আগে জন্ম নেওয়া মানুষদের ক্ষেত্রে আলাদা করে টিকা নেওয়ার প্রয়োজন অনেক সময় হয় না। কারণ তাদের শরীরে আগে থেকেই প্রাকৃতিক সুরক্ষা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি একটি সাধারণ অনুমান, সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, বর্তমান সময়ে হামের পুনরুত্থান রোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার রাখা জরুরি। পাশাপাশি যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ আছে, তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও টিকা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত